ময়মনসিংহ , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশে মারা যান আরাফাত রহমান কোকো বললেন রিজভী হামের টিকায় ডিএনসিসি সফল বলে মন্তব্য করেছেন প্রশাসক নেত্রকোণায় জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত: তাৎক্ষণিক সেবা পেলেন ভুক্তভোগীরা আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার খবরটি গুজব জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ​আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পূর্বধলায় ‘স্বর্ণ সুধা যুব উন্নয়ন সমিতি’র বৃক্ষরোপণ ​অসুস্থ শিশু আব্দুল্লাহ’র উন্নত চিকিৎসার জন্য আকুল আবেদন সূর্যগ্রহণের সময় করণীয়: মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ ও বিশেষ আমলসমূহ নিষিদ্ধ হলেও ভারতীয়রা ভিপিএন ব্যবহার করে এখনো আমার গান শোনেন বললেন আতিফ আসলাম নেত্রকোণায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনস্বার্থে জেলা প্রশাসনের বিশেষ মোবাইল কোর্ট অভিযান ট্রাফিক বিভাগের ৩১ পুলিশ সদস্যকে কেএমপি কমিশনারের পুরস্কার
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

পূর্বধলায় চাঞ্চল্যকর কাকন হত্যা মামলার মূল হোতা বসুন্ধরা থেকে গ্রেপ্তার

নেত্রকোণার পূর্বধলায় চাঞ্চল্যকর কাকন হত্যা মামলার এজাহারনামীয় অন্যতম প্রধান আসামি ও ঘটনার অন্যতম মূল হোতা আব্দুর রশিদকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টানা দুই দিনের সফল অভিযান শেষে ঢাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কে-ব্লকের ২২ নম্বর সড়ক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।​গ্রেপ্তারকৃত আব্দুর রশিদ নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার দাপুনিয়া সেহড়া ডুয়ারী গ্রামের হাছেন আলীর ছেলে।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোণা জেলার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ও পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুননের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় একটি বিশেষ আভিযানিক দল গঠন করা হয়। পূর্বধলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, পিপিএম-এর নেতৃত্বে সেকেন্ড অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম, এএসআই আনোয়ার হোসেন, কনস্টেবল নাহিদ হাসান খাঁন এবং জেলা এলআইসি শাখার এএসআই (নিরস্ত্র) মো. আবুল হোসেন এতে অংশ নেন।

অভিযান চলাকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ প্রথমে কুমিল্লা থেকে মামলার ‘সেকেন্ড পার্টিকে’ আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত (১ আগস্ট ২০২৬) শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে প্রধান আসামি আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

ঘটনার পটভূমি:
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে ভিকটিম কাকন মিয়া স্থানীয় দাপুনিয়া বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে পূর্বধলা থানাধীন দাপুনিয়া সাকিনস্থ খেলন মিয়ার বাড়ির উত্তর কোণের রাস্তায় পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার জেরে আসামি আব্দুর রশিদ, তার ভাই আব্দুর রহিমসহ তাদের আত্মীয়স্বজনরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র—চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি ও রামদা নিয়ে তার ওপর নির্মম হামলা চালায়। তারা কাকন মিয়াকে উপর্যুপরি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

উক্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বোনজামাই মাসুদ আল মামুন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে পূর্বধলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার অন্য আসামিরা বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতা আব্দুর রশিদ ঘটনার পরপরই আত্মগোপনে চলে যান। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি সিলেট, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছিলেন। এমনকি আত্মগোপনে থাকাকালে তিনি একের পর এক মোবাইল সেট ও সিম কার্ড পরিবর্তন করতেন। অবশেষে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন চৌকস দলের টানা দুই দিনের বুদ্ধিমত্তা ও অভিযানের কাছে সে ধরা পড়ে।

​চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড আব্দুর রশিদ গ্রেপ্তার হওয়ায় পূর্বধলা উপজেলাবাসী নেত্রকোণা জেলা পুলিশ সুপারসহ পূর্বধলা থানা পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশে মারা যান আরাফাত রহমান কোকো বললেন রিজভী

পূর্বধলায় চাঞ্চল্যকর কাকন হত্যা মামলার মূল হোতা বসুন্ধরা থেকে গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ১০:২৭:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

নেত্রকোণার পূর্বধলায় চাঞ্চল্যকর কাকন হত্যা মামলার এজাহারনামীয় অন্যতম প্রধান আসামি ও ঘটনার অন্যতম মূল হোতা আব্দুর রশিদকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টানা দুই দিনের সফল অভিযান শেষে ঢাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কে-ব্লকের ২২ নম্বর সড়ক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।​গ্রেপ্তারকৃত আব্দুর রশিদ নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার দাপুনিয়া সেহড়া ডুয়ারী গ্রামের হাছেন আলীর ছেলে।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোণা জেলার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ও পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুননের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় একটি বিশেষ আভিযানিক দল গঠন করা হয়। পূর্বধলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, পিপিএম-এর নেতৃত্বে সেকেন্ড অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম, এএসআই আনোয়ার হোসেন, কনস্টেবল নাহিদ হাসান খাঁন এবং জেলা এলআইসি শাখার এএসআই (নিরস্ত্র) মো. আবুল হোসেন এতে অংশ নেন।

অভিযান চলাকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ প্রথমে কুমিল্লা থেকে মামলার ‘সেকেন্ড পার্টিকে’ আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত (১ আগস্ট ২০২৬) শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে প্রধান আসামি আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

ঘটনার পটভূমি:
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে ভিকটিম কাকন মিয়া স্থানীয় দাপুনিয়া বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে পূর্বধলা থানাধীন দাপুনিয়া সাকিনস্থ খেলন মিয়ার বাড়ির উত্তর কোণের রাস্তায় পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার জেরে আসামি আব্দুর রশিদ, তার ভাই আব্দুর রহিমসহ তাদের আত্মীয়স্বজনরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র—চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি ও রামদা নিয়ে তার ওপর নির্মম হামলা চালায়। তারা কাকন মিয়াকে উপর্যুপরি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

উক্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বোনজামাই মাসুদ আল মামুন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে পূর্বধলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার অন্য আসামিরা বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতা আব্দুর রশিদ ঘটনার পরপরই আত্মগোপনে চলে যান। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি সিলেট, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছিলেন। এমনকি আত্মগোপনে থাকাকালে তিনি একের পর এক মোবাইল সেট ও সিম কার্ড পরিবর্তন করতেন। অবশেষে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন চৌকস দলের টানা দুই দিনের বুদ্ধিমত্তা ও অভিযানের কাছে সে ধরা পড়ে।

​চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড আব্দুর রশিদ গ্রেপ্তার হওয়ায় পূর্বধলা উপজেলাবাসী নেত্রকোণা জেলা পুলিশ সুপারসহ পূর্বধলা থানা পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।