ময়মনসিংহ , সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আটঘরিয়া উপজেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস নেত্রকোণার মদনে বিদ্যালয় ভবন রক্ষা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ ডিসির পূর্বধলার ঘাগড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় হাফেজ শফিউল আলম শামীম চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের মধ্যে অধিগ্রহণের চেক বিতরণ করা হয়েছে কাঁঠালিয়ায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৪৭ পূজামণ্ডপে চাল বিতরণ বিরামপুরে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে র্যালি ও আলোচনা সভা হারানো বিজ্ঞপ্তি ট্যুরিস্ট ক্লাব অব সিলেটের পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন ইউজিসি সদস্যের বাউবির রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শন, কর্মকর্তা—কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় পঞ্চগড়ে গোপন ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করবে আদানি বকেয়া পরিশোধ না হলে ১১ নভেম্বর থেকে

ভারতের আদানি পাওয়ার বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে বকেয়া বিল পরিশোধের দাবি জানিয়ে সতর্ক করেছে, আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না হলে ১১ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আদানির পক্ষ থেকে চিঠি পেয়েছি। তারা জানিয়েছে, যদি ১০ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করা হয়, তাহলে ১১ নভেম্বর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো।’

অক্টোবরের শেষ দিকে আদানি পাওয়ারের ভাইস চেয়ারম্যান ও হেড অব এনার্জি রেগুলেটরি অ্যান্ড কমার্শিয়াল অবিনাশ অনুরাগ বিপিডিবি চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠান। তাতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা আদায়ের জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও বিপিডিবি এখনো ৪৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৪৯৬ কোটি ডলার) পরিশোধ করেনি। এর মধ্যে ২৬২ মিলিয়ন ডলারকে বিপিডিবি নিজেই ‘বিরোধহীন পাওনা’ হিসেবে স্বীকার করেছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর স্বাক্ষরিত পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্টের (পিপিএ) ১৩.২ ধারা অনুযায়ী বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থ হলে সরবরাহ স্থগিতের অধিকার আদানির রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সরবরাহ বন্ধ থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী কেন্দ্রের নির্ভরযোগ্য উৎপাদন সক্ষমতার ভিত্তিতে তারা সক্ষমতা চার্জ (ক্যাপাসিটি পেমেন্ট) পাওয়ার অধিকার রাখে।

এমন হুঁশিয়ারি এর আগেও দিয়েছে আদানি পাওয়ার। গত বছরও ৮০০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া দাবি করে তারা বাংলাদেশের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছিল। তখন বিপিডিবি অভিযোগ করে, আদানি নিজস্ব হিসাব পদ্ধতি ব্যবহার করে বকেয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেখিয়েছে।

পিডিবির ২০২৩–২৪ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গোড্ডা পাওয়ার প্ল্যান্ট (ক্ষমতা ১,৬০০ মেগাওয়াট) থেকে বাংলাদেশে প্রতি মাসে গড়ে ৯৩২.৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এই কেন্দ্রটি মূলত বাংলাদেশে রপ্তানির উদ্দেশে নির্মিত হয়।

শেখ হাসিনা সরকারের সময় ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ভারত সরকারের তৎকালীন নীতিমালা অনুযায়ী, আদানি কেবল প্রতিবেশী দেশগুলোতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারত। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত সরকার আইনে পরিবর্তন আনে, যার ফলে আদানি স্থানীয় বাজারেও বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমতি পায়।

বর্তমানে বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে বিপিডিবি ও আদানি পাওয়ারের মধ্যে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আটঘরিয়া উপজেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করবে আদানি বকেয়া পরিশোধ না হলে ১১ নভেম্বর থেকে

আপডেট সময় ০৯:৩৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

ভারতের আদানি পাওয়ার বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে বকেয়া বিল পরিশোধের দাবি জানিয়ে সতর্ক করেছে, আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না হলে ১১ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আদানির পক্ষ থেকে চিঠি পেয়েছি। তারা জানিয়েছে, যদি ১০ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করা হয়, তাহলে ১১ নভেম্বর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো।’

অক্টোবরের শেষ দিকে আদানি পাওয়ারের ভাইস চেয়ারম্যান ও হেড অব এনার্জি রেগুলেটরি অ্যান্ড কমার্শিয়াল অবিনাশ অনুরাগ বিপিডিবি চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠান। তাতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা আদায়ের জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও বিপিডিবি এখনো ৪৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৪৯৬ কোটি ডলার) পরিশোধ করেনি। এর মধ্যে ২৬২ মিলিয়ন ডলারকে বিপিডিবি নিজেই ‘বিরোধহীন পাওনা’ হিসেবে স্বীকার করেছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর স্বাক্ষরিত পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্টের (পিপিএ) ১৩.২ ধারা অনুযায়ী বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থ হলে সরবরাহ স্থগিতের অধিকার আদানির রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সরবরাহ বন্ধ থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী কেন্দ্রের নির্ভরযোগ্য উৎপাদন সক্ষমতার ভিত্তিতে তারা সক্ষমতা চার্জ (ক্যাপাসিটি পেমেন্ট) পাওয়ার অধিকার রাখে।

এমন হুঁশিয়ারি এর আগেও দিয়েছে আদানি পাওয়ার। গত বছরও ৮০০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া দাবি করে তারা বাংলাদেশের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছিল। তখন বিপিডিবি অভিযোগ করে, আদানি নিজস্ব হিসাব পদ্ধতি ব্যবহার করে বকেয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেখিয়েছে।

পিডিবির ২০২৩–২৪ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গোড্ডা পাওয়ার প্ল্যান্ট (ক্ষমতা ১,৬০০ মেগাওয়াট) থেকে বাংলাদেশে প্রতি মাসে গড়ে ৯৩২.৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এই কেন্দ্রটি মূলত বাংলাদেশে রপ্তানির উদ্দেশে নির্মিত হয়।

শেখ হাসিনা সরকারের সময় ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ভারত সরকারের তৎকালীন নীতিমালা অনুযায়ী, আদানি কেবল প্রতিবেশী দেশগুলোতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারত। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত সরকার আইনে পরিবর্তন আনে, যার ফলে আদানি স্থানীয় বাজারেও বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমতি পায়।

বর্তমানে বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে বিপিডিবি ও আদানি পাওয়ারের মধ্যে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।