ময়মনসিংহ , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশে মারা যান আরাফাত রহমান কোকো বললেন রিজভী হামের টিকায় ডিএনসিসি সফল বলে মন্তব্য করেছেন প্রশাসক নেত্রকোণায় জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত: তাৎক্ষণিক সেবা পেলেন ভুক্তভোগীরা আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার খবরটি গুজব জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ​আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পূর্বধলায় ‘স্বর্ণ সুধা যুব উন্নয়ন সমিতি’র বৃক্ষরোপণ ​অসুস্থ শিশু আব্দুল্লাহ’র উন্নত চিকিৎসার জন্য আকুল আবেদন সূর্যগ্রহণের সময় করণীয়: মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ ও বিশেষ আমলসমূহ নিষিদ্ধ হলেও ভারতীয়রা ভিপিএন ব্যবহার করে এখনো আমার গান শোনেন বললেন আতিফ আসলাম নেত্রকোণায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনস্বার্থে জেলা প্রশাসনের বিশেষ মোবাইল কোর্ট অভিযান ট্রাফিক বিভাগের ৩১ পুলিশ সদস্যকে কেএমপি কমিশনারের পুরস্কার
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

মনোহরদীতে পানের বরজ: যেন এক জীবন্ত ‘নগদ ব্যাংক’

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাজারো মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে পানের বরজ। ফলন ভালো হওয়া ও চমৎকার বাজারদর পাওয়ায় পান চাষিদের কাছে প্রতিটি বরজ এখন একেকটি ‘নগদ ব্যাংক’। যেকোনো প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক পান বিক্রি করে নগদ অর্থের সংস্থান করতে পারেন বলে কৃষকেরা একে ‘টাকার অফুরন্ত ভাণ্ডার’ হিসেবেও দেখছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মনোহরদীতে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় কমবেশি পান চাষ হলেও লেবুতলা ও খিদিরপুর ইউনিয়নের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবার এই পেশার সঙ্গে যুক্ত।

মনোহরদীর মাটি ও আবহাওয়া পান চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এখানে মূলত গয়ালস্বর, লালডিঙ্গি ও হাইব্রিড জাতের পাশাপাশি ঔষধি গুণসম্পন্ন মিষ্টি সাচি পানেরও চাষ হয়। এখানকার পানের স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৮৫ শতাংশ পান সরবরাহ করা হয় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই পান একসময় বিদেশে রপ্তানি হলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে।

পানের বরজে সাধারণত বাঁশের কাঠি ও খড়ের ছাউনি ব্যবহার করা হয়। ছায়াযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে বাড়ির নারীরাও বরজে নিয়মিত কাজ করেন। এতে বাইরের শ্রমিকের খরচ অনেকটাই সাশ্রয় হয়।

রামপুর গ্রামের পান চাষি সুমন মিয়া জানান, ১০ বছর আগে মাত্র ৩০ শতাংশ জমিতে পান চাষ শুরু করেছিলেন তিনি। গত কয়েক বছর ধরে বেশ ভালো ফলন পাচ্ছেন। আকারভেদে প্রতি কুঁড়ি (২৮৮০টি পান) পান ২ থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। বিশেষ করে শীতকালে পানের চাহিদা ও দাম দুটিই বেড়ে যায়। তবে সরকারিভাবে ঋণের সুবিধা পেলে এই চাষ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হতো বলে তিনি জানান।

লাভজনক হওয়ায় অন্যান্য পেশার মানুষও এখন পান চাষে ঝুঁকছেন। তারাকান্দী গ্রামের এক স্কুলশিক্ষক বলেন, গত ২৫ বছর ধরে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি পান চাষ করছেন। ৪০ শতাংশ জমির বরজে বছরে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হলেও বাজার ভালো থাকলে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।

মনোহরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুনা আক্তার বলেন, ‘জিআই পণ্য হিসেবে পান একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় এটি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি।’

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশে মারা যান আরাফাত রহমান কোকো বললেন রিজভী

মনোহরদীতে পানের বরজ: যেন এক জীবন্ত ‘নগদ ব্যাংক’

আপডেট সময় ১০:৩৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাজারো মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে পানের বরজ। ফলন ভালো হওয়া ও চমৎকার বাজারদর পাওয়ায় পান চাষিদের কাছে প্রতিটি বরজ এখন একেকটি ‘নগদ ব্যাংক’। যেকোনো প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক পান বিক্রি করে নগদ অর্থের সংস্থান করতে পারেন বলে কৃষকেরা একে ‘টাকার অফুরন্ত ভাণ্ডার’ হিসেবেও দেখছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মনোহরদীতে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় কমবেশি পান চাষ হলেও লেবুতলা ও খিদিরপুর ইউনিয়নের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবার এই পেশার সঙ্গে যুক্ত।

মনোহরদীর মাটি ও আবহাওয়া পান চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এখানে মূলত গয়ালস্বর, লালডিঙ্গি ও হাইব্রিড জাতের পাশাপাশি ঔষধি গুণসম্পন্ন মিষ্টি সাচি পানেরও চাষ হয়। এখানকার পানের স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৮৫ শতাংশ পান সরবরাহ করা হয় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই পান একসময় বিদেশে রপ্তানি হলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে।

পানের বরজে সাধারণত বাঁশের কাঠি ও খড়ের ছাউনি ব্যবহার করা হয়। ছায়াযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে বাড়ির নারীরাও বরজে নিয়মিত কাজ করেন। এতে বাইরের শ্রমিকের খরচ অনেকটাই সাশ্রয় হয়।

রামপুর গ্রামের পান চাষি সুমন মিয়া জানান, ১০ বছর আগে মাত্র ৩০ শতাংশ জমিতে পান চাষ শুরু করেছিলেন তিনি। গত কয়েক বছর ধরে বেশ ভালো ফলন পাচ্ছেন। আকারভেদে প্রতি কুঁড়ি (২৮৮০টি পান) পান ২ থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। বিশেষ করে শীতকালে পানের চাহিদা ও দাম দুটিই বেড়ে যায়। তবে সরকারিভাবে ঋণের সুবিধা পেলে এই চাষ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হতো বলে তিনি জানান।

লাভজনক হওয়ায় অন্যান্য পেশার মানুষও এখন পান চাষে ঝুঁকছেন। তারাকান্দী গ্রামের এক স্কুলশিক্ষক বলেন, গত ২৫ বছর ধরে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি পান চাষ করছেন। ৪০ শতাংশ জমির বরজে বছরে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হলেও বাজার ভালো থাকলে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।

মনোহরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুনা আক্তার বলেন, ‘জিআই পণ্য হিসেবে পান একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় এটি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি।’