ময়মনসিংহ , শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
স্বামী-স্ত্রীকে দূরে বদলি আমলাতান্ত্রিক খামখেয়ালিপনা বলে মন্তব্য করেছেন রিজভী ফ্যাসিবাদ আমলে নিপীড়িত শিক্ষকদের মূল্যায়নের চিন্তা করছে সরকার জানিয়েছেন মাহদী আমিন ত্রিশাল থানার এস আই নাহিদের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলা পূর্বধলায় ড্রেজারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে শ্যালো মেশিন জব্দ সড়কে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে নতুন কমিটি বলে মন্তব্য করেছেন রিজভী পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে ভারতকে ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় মা ইলিশ রক্ষায় ৩০০ জেলে পরিবারকে ভিজিএফের চাল বিতরণ নেত্রকোণার নতুন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাইফুল ইসলাম খান ফুলবাড়ীতে নগদ অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে প্রতারণা, আটক ৪ গোপালগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

রাজমিস্ত্রির কাজ করে জিপিএ-৫ পেয়েছে বুলু

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • ২১৭ বার পড়া হয়েছে

রাজমিস্ত্রির কাজ করে এবারের আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর সালমান ফারসী বুলু। তার এমন সাফল্যে আনন্দিত পরিবারসহ স্থানীয়রা। তবে পরিবারে অভাব অনটন থাকায় উচ্চ শিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারটির।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্ব ধণিরাম গ্রামের দিনমজুর আবেদ আলী-দুলালী দম্পতির ছোট সন্তান সালমান ফারসী বুলু।

এক বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট সে। মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে মাত্র ৮ শতক জমির ওপর তাদের বাড়িটি। দিনমজুরের কাজ করে চলে তাদের সংসার। এবারে স্থানীয় ‘শাহবাজার এ এইচ ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে সে।

শিক্ষার্থী সালমান ফারসী বুলু জানায়, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় বুঝতে পারি এসএসসিতে ফরম ফিলাপের টাকা জোগাড় করতে না পারলে পড়াশোনাটাই বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের এখানে অনেক মেধাবী ছেলেকে দেখেছি পরিবারে অর্থ সংকটের কারণে পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে কায়িক শ্রমের কাজে লেগে পড়তে। তারা আর লেখাপড়ায় ফিরতে পারেনি। এজন্য নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় শিক্ষকদের না জানিয়ে প্রায় এক বছরের জন্য বাইরে কাজ করতে যাই। তারপর টাকা জমিয়ে বাড়িতে ফিরে আসি।
বুলু আরও জানায়, তবে শিক্ষকগণ আমাকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। তারা সহযোগিতা না করলে এতদূর এগুতে পারতাম না। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর এবার এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। যদিও আমার স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার। কিন্তু সেটা বাদ দিয়ে এখন বিশ্ববিদ্যালয় কোচিংয়ে ভর্তি হয়েছি। ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলে পরে মেডিকেলেও পরীক্ষা দেয়ার চেষ্টা করবো। আমার দরিদ্র পরিবারকে সহযোগিতা করার জন্য আগে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।
সালমানের মা দুলালী বেগম বলেন, ‘সবাই বলেছে ছেলে খুব ভালো রেজাল্ট করেছে। এখন আরও পড়াতে হবে। মাদ্রাসার শিক্ষকরা সবাই বাড়িতে এসেছিলেন। আমাদের টাকা নাই, তাকে কোচিংয়ে ভর্তির জন্য ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা দরকার। এই অবস্থায় বাড়িতে একটা খড়ের গাদা ছিল সেটা ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছি।’
সালমানের ভাই দুলু মিয়া বলেন, ‘পরিবারে অর্থকষ্টের কারণে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত আমি পড়াশুনা করতে পেরেছি। সালমান ফারসী খুব মেধাবী। আমি পড়াশুনা করতে পারিনি। আমার ছোট ভাই যাতে পড়াশুনা করতে পারে সে ব্যাপারে যতটুকু পারছি সহযোগিতা করছি। তবে সামর্থবানরা এগিয়ে আসলে আমার ছোট ভাইটি দুশ্চিন্তা ছাড়াই পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারতো।’
সালমানের বাবা আবেদ আলী বলেন, ‘আমার বয়স হয়েছে কাজ করতে পারি না। অনেক কষ্টে সংসার চলছে। আগে যা ছিল সব শেষ। এখন আপনারা সহযোগিতা করলে ছেলেটা পড়তে পারবে।’
ফুলবাড়ী উপজেলার শাহবাজার এ এইচ ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘গত বছর আমাদের মাদরাসা থেকে সালমান ফারসী বুলু এসএসসি দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়। এবার এইচএসসি আলিম পরীক্ষায় আবারো জিপিএ-৫ পেয়ে চমকে দিয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবারসহ প্রতিবেশীদের। তার রেজাল্টে আমরা খুশি। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে সে। মেধাবী এই ছেলেটির স্বপ্নপূরণে সরকারসহ বিত্তবানদের এগিয়ে আসা দরকার।’
ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বামী-স্ত্রীকে দূরে বদলি আমলাতান্ত্রিক খামখেয়ালিপনা বলে মন্তব্য করেছেন রিজভী

রাজমিস্ত্রির কাজ করে জিপিএ-৫ পেয়েছে বুলু

আপডেট সময় ১১:১৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

রাজমিস্ত্রির কাজ করে এবারের আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর সালমান ফারসী বুলু। তার এমন সাফল্যে আনন্দিত পরিবারসহ স্থানীয়রা। তবে পরিবারে অভাব অনটন থাকায় উচ্চ শিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারটির।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্ব ধণিরাম গ্রামের দিনমজুর আবেদ আলী-দুলালী দম্পতির ছোট সন্তান সালমান ফারসী বুলু।

এক বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট সে। মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে মাত্র ৮ শতক জমির ওপর তাদের বাড়িটি। দিনমজুরের কাজ করে চলে তাদের সংসার। এবারে স্থানীয় ‘শাহবাজার এ এইচ ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে সে।

শিক্ষার্থী সালমান ফারসী বুলু জানায়, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় বুঝতে পারি এসএসসিতে ফরম ফিলাপের টাকা জোগাড় করতে না পারলে পড়াশোনাটাই বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের এখানে অনেক মেধাবী ছেলেকে দেখেছি পরিবারে অর্থ সংকটের কারণে পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে কায়িক শ্রমের কাজে লেগে পড়তে। তারা আর লেখাপড়ায় ফিরতে পারেনি। এজন্য নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় শিক্ষকদের না জানিয়ে প্রায় এক বছরের জন্য বাইরে কাজ করতে যাই। তারপর টাকা জমিয়ে বাড়িতে ফিরে আসি।
বুলু আরও জানায়, তবে শিক্ষকগণ আমাকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। তারা সহযোগিতা না করলে এতদূর এগুতে পারতাম না। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর এবার এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। যদিও আমার স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার। কিন্তু সেটা বাদ দিয়ে এখন বিশ্ববিদ্যালয় কোচিংয়ে ভর্তি হয়েছি। ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলে পরে মেডিকেলেও পরীক্ষা দেয়ার চেষ্টা করবো। আমার দরিদ্র পরিবারকে সহযোগিতা করার জন্য আগে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।
সালমানের মা দুলালী বেগম বলেন, ‘সবাই বলেছে ছেলে খুব ভালো রেজাল্ট করেছে। এখন আরও পড়াতে হবে। মাদ্রাসার শিক্ষকরা সবাই বাড়িতে এসেছিলেন। আমাদের টাকা নাই, তাকে কোচিংয়ে ভর্তির জন্য ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা দরকার। এই অবস্থায় বাড়িতে একটা খড়ের গাদা ছিল সেটা ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছি।’
সালমানের ভাই দুলু মিয়া বলেন, ‘পরিবারে অর্থকষ্টের কারণে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত আমি পড়াশুনা করতে পেরেছি। সালমান ফারসী খুব মেধাবী। আমি পড়াশুনা করতে পারিনি। আমার ছোট ভাই যাতে পড়াশুনা করতে পারে সে ব্যাপারে যতটুকু পারছি সহযোগিতা করছি। তবে সামর্থবানরা এগিয়ে আসলে আমার ছোট ভাইটি দুশ্চিন্তা ছাড়াই পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারতো।’
সালমানের বাবা আবেদ আলী বলেন, ‘আমার বয়স হয়েছে কাজ করতে পারি না। অনেক কষ্টে সংসার চলছে। আগে যা ছিল সব শেষ। এখন আপনারা সহযোগিতা করলে ছেলেটা পড়তে পারবে।’
ফুলবাড়ী উপজেলার শাহবাজার এ এইচ ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘গত বছর আমাদের মাদরাসা থেকে সালমান ফারসী বুলু এসএসসি দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়। এবার এইচএসসি আলিম পরীক্ষায় আবারো জিপিএ-৫ পেয়ে চমকে দিয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবারসহ প্রতিবেশীদের। তার রেজাল্টে আমরা খুশি। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে সে। মেধাবী এই ছেলেটির স্বপ্নপূরণে সরকারসহ বিত্তবানদের এগিয়ে আসা দরকার।’