ময়মনসিংহ , শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে সেমিনার অনুষ্ঠিত উখিয়া সীমান্তে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, পালিয়ে গেল ২ কারবারি যুক্তিবাদী সমাজ গড়ে উঠলে অপসংস্কৃতি, ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কার দূর হবে বলেছেন এনডিএফ চেয়ারম্যান পূর্বধলায় সারাদেশের ন্যায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের শুভ উদ্বোধন নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলেছেন রিজভী আল্লাহর কাছে তো রেকর্ড হচ্ছেই, বান্দার কাছেও রেকর্ড হচ্ছে বললেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বহাল ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লোহাগাড়ায় দুই হাজার পিস ইয়াবা ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুইজন গ্রেফতার সুনামগঞ্জে শতাধিক শিশুকে সাঁতার প্রশিক্ষণ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

সমতল আদিবাসী নারী সম্মেলনে সহকারী সিভিল জজ মো: আজহারুল ইসলাম

নানা উৎসাহ-উদ্দীপনা ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সমতল আদিবাসী নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে পাবনায়। “জীবনমান উন্নয়ন অধিকার সুরক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রত্যয় নিতে হবে” সম্মেলনে সমতলের আদিবাসী নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, পারিবারিক ও সামাজিক সহিংসতা প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন বন্ধ এবং সরকারি আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

গতকাল রোববার সকালে শহরের বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্রে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সমতলের আদিবাসী নারীদের জীবনমান উন্নয়ন, অধিকার সুরক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথভাবে সম্মেলনের আয়োজন করে ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’, ‘ব্রেড’, ‘বাঁচতে চাই’ ও ‘এসডিকেএস’। ক্রিশ্চিয়ান এইডের সহযোগিতায় সম্মেলনটির অর্থায়ন করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আদিবাসী নেত্রী অনিতা রানী মুরাদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অতিথি থেকে বক্তব্য দেন জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সহকারী সিভিল জজ মো: আজহারুল ইসলাম, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মান্নান, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক জিলাল উদ্দিন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহনাজ পারভীন, ‘আমরাই পারি’ জোটের জেলা আহ্বায়ক ও প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মতীন খান, পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান এবং মাছরাঙা টেলিভিশনের উত্তরাঞ্চলীয় ব্যুরো চিফ উৎপল মির্জা।

অনুষ্ঠানে জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সহকারী সিভিল জজ মো: আজহারুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দরিদ্র ও অসহায় মানুষ বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রাখেন। কোনো নারী পারিবারিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, ভরণপোষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন কিংবা অন্যান্য আইনগত সমস্যার শিকার হলে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি লিগ্যাল এইডের সহায়তা নিতে পারেন। তিনি আদিবাসী নারীদের নিজেদের আইনগত অধিকার সম্পর্কে জানতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার গ্রহণে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, সমতলের আদিবাসী নারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, তাদের অধিকার রক্ষা এবং পরিবার ও সমাজে সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু আইন থাকলেই হবে না, সেই আইন সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়ানো খুবই জরুরি। কবি ও আবৃত্তি শিল্পী অঞ্জলী ভৌমিকের উপস্থাপনায় এবং সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী কামাল আহমেদ সিদ্দিকীর সার্বিক পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনের শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’-এর প্রোগ্রাম অফিসার নাজমুস সাকিব। সম্মেলনে বক্তব্য দেন ‘বাঁচতে চাই’ সমাজ উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রব মন্টু, ব্রেডের নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম, দৈনিক সমকালের ঈশ্বরদী প্রতিনিধি সেলিম সরদার, এসডিকেএসের নাসির উদ্দিন ময়নুল, সুচিতা সমাজ উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন পারভীন এবং আদিবাসী নারীদের মধ্যে অনিতা রানী মাহাতো, লিপি রানী বিশ্বাস, শান্তি রানী মাহাতোসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, সমতলের আদিবাসী নারীরা পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য ও সহিংসতার মুখোমুখি হন। অনেক ক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হলেও আইনগত প্রতিকার সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় তাঁরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। তাই সরকারি আইনগত সহায়তা, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন, সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অধিকার, বাল্যবিবাহ ও যৌতুকবিরোধী আইনসহ বিভিন্ন আইন সম্পর্কে তাদের সচেতন করে তোলা জরুরি। বক্তারা আরও বলেন, আদিবাসী নারী হওয়া কোনোভাবেই তাদের ন্যায়বিচার ও আইনগত সুরক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না। পরিবার ও সমাজে নির্যাতনের শিকার হলে নীরব না থেকে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, আইনগত সহায়তা প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করার বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করতে হবে। সম্মেলনে আদিবাসী নারীদের বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, সাংবাদিক ও সুধীজন অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে আদিবাসীদের অধিকার ও জীবন সংগ্রাম নিয়ে সাংবাদিক কামাল আহমেদ সিদ্দিকীর লেখা দু’টি কবিতা আবৃত্তি করেন কবি ও আবৃত্তি শিল্পী অঞ্জলী ভৌমিক। কবিতায় আদিবাসী মানুষের অধিকার, বৈষম্য ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্খা তুলে ধরা হলে উপস্থিতদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সম্মেলনে বক্তারা সমতলের আদিবাসী নারীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং প্রত্যেক আদিবাসী নারী যেন নিজের আইনগত অধিকার জানেন ও প্রয়োজনের সময় বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে সেমিনার অনুষ্ঠিত

সমতল আদিবাসী নারী সম্মেলনে সহকারী সিভিল জজ মো: আজহারুল ইসলাম

আপডেট সময় ১২:০০:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

নানা উৎসাহ-উদ্দীপনা ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সমতল আদিবাসী নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে পাবনায়। “জীবনমান উন্নয়ন অধিকার সুরক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রত্যয় নিতে হবে” সম্মেলনে সমতলের আদিবাসী নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, পারিবারিক ও সামাজিক সহিংসতা প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন বন্ধ এবং সরকারি আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

গতকাল রোববার সকালে শহরের বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্রে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সমতলের আদিবাসী নারীদের জীবনমান উন্নয়ন, অধিকার সুরক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথভাবে সম্মেলনের আয়োজন করে ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’, ‘ব্রেড’, ‘বাঁচতে চাই’ ও ‘এসডিকেএস’। ক্রিশ্চিয়ান এইডের সহযোগিতায় সম্মেলনটির অর্থায়ন করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আদিবাসী নেত্রী অনিতা রানী মুরাদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অতিথি থেকে বক্তব্য দেন জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সহকারী সিভিল জজ মো: আজহারুল ইসলাম, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মান্নান, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক জিলাল উদ্দিন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহনাজ পারভীন, ‘আমরাই পারি’ জোটের জেলা আহ্বায়ক ও প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মতীন খান, পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান এবং মাছরাঙা টেলিভিশনের উত্তরাঞ্চলীয় ব্যুরো চিফ উৎপল মির্জা।

অনুষ্ঠানে জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সহকারী সিভিল জজ মো: আজহারুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দরিদ্র ও অসহায় মানুষ বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রাখেন। কোনো নারী পারিবারিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, ভরণপোষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন কিংবা অন্যান্য আইনগত সমস্যার শিকার হলে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি লিগ্যাল এইডের সহায়তা নিতে পারেন। তিনি আদিবাসী নারীদের নিজেদের আইনগত অধিকার সম্পর্কে জানতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার গ্রহণে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, সমতলের আদিবাসী নারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, তাদের অধিকার রক্ষা এবং পরিবার ও সমাজে সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু আইন থাকলেই হবে না, সেই আইন সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়ানো খুবই জরুরি। কবি ও আবৃত্তি শিল্পী অঞ্জলী ভৌমিকের উপস্থাপনায় এবং সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী কামাল আহমেদ সিদ্দিকীর সার্বিক পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনের শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’-এর প্রোগ্রাম অফিসার নাজমুস সাকিব। সম্মেলনে বক্তব্য দেন ‘বাঁচতে চাই’ সমাজ উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রব মন্টু, ব্রেডের নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম, দৈনিক সমকালের ঈশ্বরদী প্রতিনিধি সেলিম সরদার, এসডিকেএসের নাসির উদ্দিন ময়নুল, সুচিতা সমাজ উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন পারভীন এবং আদিবাসী নারীদের মধ্যে অনিতা রানী মাহাতো, লিপি রানী বিশ্বাস, শান্তি রানী মাহাতোসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, সমতলের আদিবাসী নারীরা পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য ও সহিংসতার মুখোমুখি হন। অনেক ক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হলেও আইনগত প্রতিকার সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় তাঁরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। তাই সরকারি আইনগত সহায়তা, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন, সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অধিকার, বাল্যবিবাহ ও যৌতুকবিরোধী আইনসহ বিভিন্ন আইন সম্পর্কে তাদের সচেতন করে তোলা জরুরি। বক্তারা আরও বলেন, আদিবাসী নারী হওয়া কোনোভাবেই তাদের ন্যায়বিচার ও আইনগত সুরক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না। পরিবার ও সমাজে নির্যাতনের শিকার হলে নীরব না থেকে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, আইনগত সহায়তা প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করার বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করতে হবে। সম্মেলনে আদিবাসী নারীদের বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, সাংবাদিক ও সুধীজন অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে আদিবাসীদের অধিকার ও জীবন সংগ্রাম নিয়ে সাংবাদিক কামাল আহমেদ সিদ্দিকীর লেখা দু’টি কবিতা আবৃত্তি করেন কবি ও আবৃত্তি শিল্পী অঞ্জলী ভৌমিক। কবিতায় আদিবাসী মানুষের অধিকার, বৈষম্য ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্খা তুলে ধরা হলে উপস্থিতদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সম্মেলনে বক্তারা সমতলের আদিবাসী নারীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং প্রত্যেক আদিবাসী নারী যেন নিজের আইনগত অধিকার জানেন ও প্রয়োজনের সময় বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।