ময়মনসিংহ , শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পাবনা জেলায় আজ শুরু হচ্ছে বইমেলা, উদ্বোধন করবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দ্বীনি শিক্ষার নিভৃত সাধক মাওলানা আহমদ হোসাইন আর নেই পর্তুগালে নাগরিকত্ব এখন আরও কঠিন দোয়া কবুলের সময় জুমার দিন ময়মনসিংহ সদর অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত শনিবার বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভের ডাক ১১ দলীয় জোটের:ডা. শফিকুর রহমান পূর্বধলায় ‘নূর কস্তরী-৯৫ জর্দা’ নকলের দায়ে ২ জনের কারাদণ্ড, তবুও বন্ধ হয়নি নকল কারবার অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র জানিয়েছেন গোলাম পরওয়ার জুনে ‘বাংলা কিউআর’ চালুর আল্টিমেটাম, না করলে জরিমানা পাবনা জেলা ফরিদপুর উপজেলায় নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণদের চরম ভোগান্তি
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

দ্বীনি শিক্ষার নিভৃত সাধক মাওলানা আহমদ হোসাইন আর নেই

একটি প্রদীপের আলো নিভে গেলে চারপাশ অন্ধকারে ছেয়ে যায়, কিন্তু একটি আদর্শিক বটবৃক্ষের পতন ঘটলে শূন্যতা তৈরি হয় জনপদে।বৃহত্তর ময়মনসিংহের দ্বীনি শিক্ষার আকাশে তেমনি এক নক্ষত্রের পতন ঘটলো। ৯৬ বছরের এক দীর্ঘ ও বরকতময় জীবনের ইতি টেনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন জামিয়া ক্বাওমীয়া দারুল উলুম সেহলা মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও প্রবীণ আলেমে দ্বীন মাওলানা আহমদ হোসাইন পীর সাহেব।

আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালের সূর্য যখন কেবল উঁকি দিচ্ছে, ঠিক তখনই ৬টা ৫০ মিনিটে সেহলার সেই চেনা আঙিনায় নেমে আসে বিষাদের ছায়া। বার্ধক্যজনিত রোগ আর শারীরিক অসুস্থতাকে সঙ্গী করে অবশেষে চিরবিদায় নিলেন মাওলানা আহমদ হোসাইন পীর সাহেব।

হোগলা ইউনিয়নের দামপাড়া গ্রামের মাওলানা আব্দুল মান্নানের ঘরে জন্ম নেওয়া আহমদ হোসাইনের শৈশব কেটেছে সাধারণ শিক্ষার সংস্পর্শে। তার মনের গহীনে দানা বাঁধে দ্বীনি শিক্ষার পিপাসা। সেই টানেই ভর্তি হন সেহলা মাদরাসায়। পরবর্তীতে বালিয়া, ইসলামপুর ও সোহাগী মাদরাসার পাঠ চুকিয়ে অর্জন করেন ‘দাওরায়ে হাদিস’ ডিগ্রি।

মাওলানা আহমদ হোসাইন কেবল একজন শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন আধ্যাত্মিক পথের দিশারি। ময়মনসিংহ বড় মসজিদের সাবেক পেশ ইমাম মাওলানা ফয়জুর রহমান (রহ.)-এর কাছ থেকে খেলাফত লাভের পর তিনি হয়ে ওঠেন অঞ্চলের মানুষের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু। তার সান্নিধ্যে এসে অসংখ্য মানুষ খুঁজে পেয়েছেন সত্যের পথ। শায়খুল হাদিস হিসেবে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে তিনি পড়িয়েছেন নবীজির অমীয় বাণী।

মাওলানা আহমদ হোসাইন বিশ্বাস করতেন, ইসলাম কেবল তসবিহ পাঠের নাম নয়, বরং সমাজের অসঙ্গতি দূর করার নাম। সেই তাড়না থেকেই তিনি বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। চারদলীয় জোটের সময় এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।

৭ পুত্র ও ৪ কন্যাসহ অসংখ্য ছাত্র-মুরিদ রেখে যাওয়া এই আলেমের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পুরো নেত্রকোনায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংবাদিক সমাজ—সবাই আজ বাকরুদ্ধ। প্রিয় উস্তাদকে শেষ দেখা দেখতে আজ বিকেলে মানুষের ঢল নামবে সেই সেহলা মাদরাসা মাঠে, যেখানে তিনি জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো বিলিয়ে দিয়েছিলেন।

আজ ​বিকেল সাড়ে ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে তার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। দেহ নশ্বর, কিন্তু মাওলানা আহমদ হোসাইন পীর সাহেব বেঁচে থাকবেন তার রেখে যাওয়া আদর্শ, অসংখ্য ছাত্র আর ভক্তদের হৃদয়ে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাবনা জেলায় আজ শুরু হচ্ছে বইমেলা, উদ্বোধন করবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

দ্বীনি শিক্ষার নিভৃত সাধক মাওলানা আহমদ হোসাইন আর নেই

আপডেট সময় ০৪:০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

একটি প্রদীপের আলো নিভে গেলে চারপাশ অন্ধকারে ছেয়ে যায়, কিন্তু একটি আদর্শিক বটবৃক্ষের পতন ঘটলে শূন্যতা তৈরি হয় জনপদে।বৃহত্তর ময়মনসিংহের দ্বীনি শিক্ষার আকাশে তেমনি এক নক্ষত্রের পতন ঘটলো। ৯৬ বছরের এক দীর্ঘ ও বরকতময় জীবনের ইতি টেনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন জামিয়া ক্বাওমীয়া দারুল উলুম সেহলা মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও প্রবীণ আলেমে দ্বীন মাওলানা আহমদ হোসাইন পীর সাহেব।

আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালের সূর্য যখন কেবল উঁকি দিচ্ছে, ঠিক তখনই ৬টা ৫০ মিনিটে সেহলার সেই চেনা আঙিনায় নেমে আসে বিষাদের ছায়া। বার্ধক্যজনিত রোগ আর শারীরিক অসুস্থতাকে সঙ্গী করে অবশেষে চিরবিদায় নিলেন মাওলানা আহমদ হোসাইন পীর সাহেব।

হোগলা ইউনিয়নের দামপাড়া গ্রামের মাওলানা আব্দুল মান্নানের ঘরে জন্ম নেওয়া আহমদ হোসাইনের শৈশব কেটেছে সাধারণ শিক্ষার সংস্পর্শে। তার মনের গহীনে দানা বাঁধে দ্বীনি শিক্ষার পিপাসা। সেই টানেই ভর্তি হন সেহলা মাদরাসায়। পরবর্তীতে বালিয়া, ইসলামপুর ও সোহাগী মাদরাসার পাঠ চুকিয়ে অর্জন করেন ‘দাওরায়ে হাদিস’ ডিগ্রি।

মাওলানা আহমদ হোসাইন কেবল একজন শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন আধ্যাত্মিক পথের দিশারি। ময়মনসিংহ বড় মসজিদের সাবেক পেশ ইমাম মাওলানা ফয়জুর রহমান (রহ.)-এর কাছ থেকে খেলাফত লাভের পর তিনি হয়ে ওঠেন অঞ্চলের মানুষের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু। তার সান্নিধ্যে এসে অসংখ্য মানুষ খুঁজে পেয়েছেন সত্যের পথ। শায়খুল হাদিস হিসেবে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে তিনি পড়িয়েছেন নবীজির অমীয় বাণী।

মাওলানা আহমদ হোসাইন বিশ্বাস করতেন, ইসলাম কেবল তসবিহ পাঠের নাম নয়, বরং সমাজের অসঙ্গতি দূর করার নাম। সেই তাড়না থেকেই তিনি বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। চারদলীয় জোটের সময় এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।

৭ পুত্র ও ৪ কন্যাসহ অসংখ্য ছাত্র-মুরিদ রেখে যাওয়া এই আলেমের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পুরো নেত্রকোনায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংবাদিক সমাজ—সবাই আজ বাকরুদ্ধ। প্রিয় উস্তাদকে শেষ দেখা দেখতে আজ বিকেলে মানুষের ঢল নামবে সেই সেহলা মাদরাসা মাঠে, যেখানে তিনি জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো বিলিয়ে দিয়েছিলেন।

আজ ​বিকেল সাড়ে ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে তার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। দেহ নশ্বর, কিন্তু মাওলানা আহমদ হোসাইন পীর সাহেব বেঁচে থাকবেন তার রেখে যাওয়া আদর্শ, অসংখ্য ছাত্র আর ভক্তদের হৃদয়ে।