ময়মনসিংহ , সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
তরুণদের কাজ হচ্ছে প্রতিটি কেন্দ্র পাহারা দেওয়া বলেছেন সাদিক কায়েম পাকিস্তানে গেলেন বুলবুল জরুরি বৈঠকে যোগ দিতে জাতীয়তাবাদের কথা বলে একটি দল বিদেশি নাগরিকদের মনোনয়ন দিয়েছে বললেন আসিফ মাহমুদ গৌরীপুরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক টানা ৫ দিনের ছুটি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আজ শতাধিক গুম-খুনের মামলায় জিয়াউলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু জিয়াউর রহমানের মতো ভুল করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান বলেছেন আসিফ মাহমুদ যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা নির্বাচনে ২৪ ঘণ্টা , প্রবাসী যাত্রীদের ছাড় মুসলিম লীগ খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছে তারেক রহমান আজ রাজধানীর ৬ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ধ্বংসের মুখে পড়া হালদাকে রক্ষা করতে হবে জানিয়েছেন মৎস্য উপদেষ্টা

জলবায়ু পরিবর্তন, রাবার ড্যাম নির্মাণ, দূষণ ও অনিয়ন্ত্রিত এবং অতিরিক্ত মাছ আহরণের কারণে হালদা নদী ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এ অবস্থা নিরসনে হালদা পাড়ের মানুষ, নদীতে জীবিকা নির্বাহ করা জেলে, হ্যাচারি ও মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মিলিত কাজের মাধ্যমে নদীকে রক্ষা করতে আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি)-এ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই), নদী কেন্দ্র, চাঁদপুর-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের গবেষণা প্রস্তাবনা পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন (২০২৫-২৬)’ শীর্ষক ইনসেপশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, হালদা নদী সাধারণ মানুষের সম্পদ। তাই গবেষণার উপস্থাপনা ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন এমন ভাষায় হওয়া উচিত, যা সাধারণ মানুষ সহজে বুঝতে পারে। প্রেজেন্টেশন ও শিরোনাম ইংরেজিতে হতে পারে। তবে, চূড়ান্ত প্রতিবেদন অবশ্যই বাংলায় প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

হালদা নদীর বর্তমান ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডই নদীর জন্য প্রধান হুমকি। ‘অ্যানথ্রোপোজেনিক’ শব্দ ব্যবহার করে বিষয়টিকে আড়াল না করে একে মানুষের ভুল ও ক্ষতিকর কাজ হিসেবে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। ভুজপুর রাবার ড্যাম ক্ষতিকর হলে তা অপসারণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনের কথাও তিনি জানান। গবেষণা চলমান থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলেও মত দেন তিনি।

তামাক চাষের ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, নদী তীরবর্তী তামাক চাষ মৎস্যসম্পদের জন্য হুমকি। তিন ফসলি জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কিছুটা সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

স্লুইস গেট ব্যবস্থাপনা ও আগ্রাসী প্রজাতি ‘সাকার ফিস’ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এই মাছ লুটেরা শ্রেণির মতো। এ মাছের মতো জাতীয় সংসদেও লুটেরা যেন প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য ভালো মানুষ নির্বাচিত করতে হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্প সম্পন্ন করার লক্ষ্য থাকতে হবে। শুরুতেই সময় বৃদ্ধি নির্ধারণ না করে বাস্তব প্রয়োজনে তা বিবেচনা করা উচিত। তিনি ২০২৬ সালের শেষ বা ২০২৭ সালের শুরুতে একটি মধ্যমেয়াদি কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেন, যাতে প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা যায়।

উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় হালদা নদী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এর মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর এবং সম্মানীয় অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের নদী কেন্দ্রের চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মো. আমিরুল ইসলাম। টেকনিক্যাল সেশনের চেয়ারম্যান ছিলেন বিএফআরআই-এর সিনিয়র স্পেশালিস্ট ড. মো. খলিলুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোশরেফা আলী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সামসিল আরেফিন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এস কে ইশতিয়াক আহমেদ প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণদের কাজ হচ্ছে প্রতিটি কেন্দ্র পাহারা দেওয়া বলেছেন সাদিক কায়েম

ধ্বংসের মুখে পড়া হালদাকে রক্ষা করতে হবে জানিয়েছেন মৎস্য উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৯:৪০:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তন, রাবার ড্যাম নির্মাণ, দূষণ ও অনিয়ন্ত্রিত এবং অতিরিক্ত মাছ আহরণের কারণে হালদা নদী ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এ অবস্থা নিরসনে হালদা পাড়ের মানুষ, নদীতে জীবিকা নির্বাহ করা জেলে, হ্যাচারি ও মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মিলিত কাজের মাধ্যমে নদীকে রক্ষা করতে আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি)-এ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই), নদী কেন্দ্র, চাঁদপুর-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের গবেষণা প্রস্তাবনা পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন (২০২৫-২৬)’ শীর্ষক ইনসেপশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, হালদা নদী সাধারণ মানুষের সম্পদ। তাই গবেষণার উপস্থাপনা ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন এমন ভাষায় হওয়া উচিত, যা সাধারণ মানুষ সহজে বুঝতে পারে। প্রেজেন্টেশন ও শিরোনাম ইংরেজিতে হতে পারে। তবে, চূড়ান্ত প্রতিবেদন অবশ্যই বাংলায় প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

হালদা নদীর বর্তমান ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডই নদীর জন্য প্রধান হুমকি। ‘অ্যানথ্রোপোজেনিক’ শব্দ ব্যবহার করে বিষয়টিকে আড়াল না করে একে মানুষের ভুল ও ক্ষতিকর কাজ হিসেবে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। ভুজপুর রাবার ড্যাম ক্ষতিকর হলে তা অপসারণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনের কথাও তিনি জানান। গবেষণা চলমান থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলেও মত দেন তিনি।

তামাক চাষের ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, নদী তীরবর্তী তামাক চাষ মৎস্যসম্পদের জন্য হুমকি। তিন ফসলি জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কিছুটা সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

স্লুইস গেট ব্যবস্থাপনা ও আগ্রাসী প্রজাতি ‘সাকার ফিস’ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এই মাছ লুটেরা শ্রেণির মতো। এ মাছের মতো জাতীয় সংসদেও লুটেরা যেন প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য ভালো মানুষ নির্বাচিত করতে হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্প সম্পন্ন করার লক্ষ্য থাকতে হবে। শুরুতেই সময় বৃদ্ধি নির্ধারণ না করে বাস্তব প্রয়োজনে তা বিবেচনা করা উচিত। তিনি ২০২৬ সালের শেষ বা ২০২৭ সালের শুরুতে একটি মধ্যমেয়াদি কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেন, যাতে প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা যায়।

উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় হালদা নদী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এর মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর এবং সম্মানীয় অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের নদী কেন্দ্রের চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মো. আমিরুল ইসলাম। টেকনিক্যাল সেশনের চেয়ারম্যান ছিলেন বিএফআরআই-এর সিনিয়র স্পেশালিস্ট ড. মো. খলিলুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোশরেফা আলী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সামসিল আরেফিন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এস কে ইশতিয়াক আহমেদ প্রমুখ।