ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জুনে ‘বাংলা কিউআর’ চালুর আল্টিমেটাম, না করলে জরিমানা পাবনা জেলা ফরিদপুর উপজেলায় নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণদের চরম ভোগান্তি গৌরীপুরে রেলওয়ে জংশনে ময়লার ভাগাড়! ঝাড়ুদার পদে বেতন নেন বিএ পাশ শিউলী ! ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করে ভবঘুরে প্রতিবন্ধী জ্বালানি নিরাপত্তায় স্বস্তি: সৌদি থেকে আসছে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আজ: অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার প্রত্যয় আজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে অনির্দিষ্টকালের জন্য তেল-সিএনজি বিক্রি বন্ধ সিলেটে ট্রেন লাইনচ্যুত হবিগঞ্জে: বালতি ভরে তেল নিচ্ছে স্থানীয়রা জলাশয় রক্ষায় জিরো টলারেন্স: সংশ্লিষ্টদের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা ঝিনাইদহ ও ফেনীতে নতুন প্রাণের সঞ্চার: চলতি মাসেই খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

পাবনা জেলা ফরিদপুর উপজেলায় নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণদের চরম ভোগান্তি

পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবা গ্রহীতাগণদের ভোগান্তির শেষ নেই। জমির দলিল করতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও কাঙিক্ষত সেবা মিলছে না। এতে করে একদিকে যেমন সরকার বড় অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে জমিজমা, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তি বেচাকেনা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। জমি ক্রেতা বিক্রেতাদের সঠিক সেবা দিতে না পারায় সাব-রেজিস্ট্রী অফিসকে কেন্দ্র করে যারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন সেই দলিল লেখকগণ, ভেন্ডার ও তাদের সহযোগীদের সহস্ত্রাধিক পরিবার বেকার হয়ে পড়ছেন। যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে বাজে প্রভাব ফেলছে। সরকারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস সাব-রেজিস্ট্রী কার্যালয়।

এলাকার সব জমিজমা ও স্থাপনার দলিল সম্পাদন এখানে হয়ে থাকে এখানে। এলাকায় জমিজমা হস্তান্তর হয়ে থাকে। যার ফলে সরকারি কোষাগারে বড় অংকের রাজস্ব যোগ হয়। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত সপ্তাহে পাঁচদিন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিস চালু থেকেও সেবা গ্রহীতাগণদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জানা গেছে যে, পার্শবর্তী চাটমোহর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আলমগীর হোসেনকে এ অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি সপ্তাহে মাত্র একদিন অফিস করেন, বাকি চাটমোহর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে বসেন।
নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণরা বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। অনেকে ভোগান্তির কারণে দলিল সম্পাদন করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এসব দুর্ভোগের কারণে জমির মালিকগণরা জমি বেচাকেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি দলিল লেখকগণরাও বেকার হয়ে পড়ছেন। ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের দলিল লেখকগণরা প্রায় একই রকম তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন, সপ্তাহে একদিন জমি রেজিস্ট্রী করতে গেলে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ব্যাংক ড্রাফট, জমির কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জোগাড় করতেই বেলা শেষ হয়ে যায়। ওইদিন কোনো কারণে জমির দলিল না হলে পরের সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আবার কাগজে কোনো গ্যাপ থাকলে পরের সপ্তাহেও দলিল হয় না। ফরিদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা জমি বেচাকেনা করতে আসা ব্যাক্তিদের সঙ্গে সরেজমিনে আলাপকালে জমি রেজিস্ট্রী করতে এসে তাদের দুর্ভোগের কথা জানা যায়।

ফরিদপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি/সম্পাদক বলেন, সপ্তাহে মাত্র একদিন দলিল হওয়ায় সেবা গ্রহীতাগণদের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। আরও বলেন, নিয়িমিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় দলিল একেবারেই কমে গেছে। ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, আমি খণ্ডকালীন এ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছি। ফরিদপুর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার না থাকার কারণে দলিল রেজিস্ট্রীতে গ্রাহকগণদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ সূত্রতা, দলিলে স্বাক্ষর না হওয়া, দাতাগণ-গ্রহীতাগণের বারবার আসা-যাওয়া এবং অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে যে ধরণের ভোগান্তি হয়। দীর্ঘ সূত্রতা ও দলিল স্বাক্ষর না হওয়া বদলি বা অনুপস্থিতির কারণে শতশত দলিলে স্বাক্ষর আটকে থাকে, ফলে জমির মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। আর্থিক ও শারীরিক ভোগান্তি দাতাগণ ও গ্রহীতাগনদের দিনের পর দিন সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে এসে হয়রানির শিকার হতে হয়। দালাল ও দুর্নীতির সুযোগ নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং দলিল দ্রুত করতে অতিরিক্ত অর্থের দাবি করে। আইনি ও ভবিষ্যৎ জটিলতা দলিল ঠিক সময়ে রেজিস্ট্রী না হলে নামজারি বা ভূমি রেকর্ড সংশোধনে জটিলতা দেখা দেয়। সময় মতো দলিলে স্বাক্ষর না হওয়া দলিল দাতাগণ দলিলে স্বাক্ষর করে গেলেও সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় তা যাচাই ও রেজিস্ট্রী করা যায় না।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুনে ‘বাংলা কিউআর’ চালুর আল্টিমেটাম, না করলে জরিমানা

পাবনা জেলা ফরিদপুর উপজেলায় নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণদের চরম ভোগান্তি

আপডেট সময় ১২:০৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবা গ্রহীতাগণদের ভোগান্তির শেষ নেই। জমির দলিল করতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও কাঙিক্ষত সেবা মিলছে না। এতে করে একদিকে যেমন সরকার বড় অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে জমিজমা, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তি বেচাকেনা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। জমি ক্রেতা বিক্রেতাদের সঠিক সেবা দিতে না পারায় সাব-রেজিস্ট্রী অফিসকে কেন্দ্র করে যারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন সেই দলিল লেখকগণ, ভেন্ডার ও তাদের সহযোগীদের সহস্ত্রাধিক পরিবার বেকার হয়ে পড়ছেন। যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে বাজে প্রভাব ফেলছে। সরকারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস সাব-রেজিস্ট্রী কার্যালয়।

এলাকার সব জমিজমা ও স্থাপনার দলিল সম্পাদন এখানে হয়ে থাকে এখানে। এলাকায় জমিজমা হস্তান্তর হয়ে থাকে। যার ফলে সরকারি কোষাগারে বড় অংকের রাজস্ব যোগ হয়। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত সপ্তাহে পাঁচদিন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিস চালু থেকেও সেবা গ্রহীতাগণদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জানা গেছে যে, পার্শবর্তী চাটমোহর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আলমগীর হোসেনকে এ অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি সপ্তাহে মাত্র একদিন অফিস করেন, বাকি চাটমোহর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে বসেন।
নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণরা বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। অনেকে ভোগান্তির কারণে দলিল সম্পাদন করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এসব দুর্ভোগের কারণে জমির মালিকগণরা জমি বেচাকেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি দলিল লেখকগণরাও বেকার হয়ে পড়ছেন। ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের দলিল লেখকগণরা প্রায় একই রকম তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন, সপ্তাহে একদিন জমি রেজিস্ট্রী করতে গেলে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ব্যাংক ড্রাফট, জমির কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জোগাড় করতেই বেলা শেষ হয়ে যায়। ওইদিন কোনো কারণে জমির দলিল না হলে পরের সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আবার কাগজে কোনো গ্যাপ থাকলে পরের সপ্তাহেও দলিল হয় না। ফরিদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা জমি বেচাকেনা করতে আসা ব্যাক্তিদের সঙ্গে সরেজমিনে আলাপকালে জমি রেজিস্ট্রী করতে এসে তাদের দুর্ভোগের কথা জানা যায়।

ফরিদপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি/সম্পাদক বলেন, সপ্তাহে মাত্র একদিন দলিল হওয়ায় সেবা গ্রহীতাগণদের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। আরও বলেন, নিয়িমিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় দলিল একেবারেই কমে গেছে। ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, আমি খণ্ডকালীন এ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছি। ফরিদপুর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার না থাকার কারণে দলিল রেজিস্ট্রীতে গ্রাহকগণদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ সূত্রতা, দলিলে স্বাক্ষর না হওয়া, দাতাগণ-গ্রহীতাগণের বারবার আসা-যাওয়া এবং অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে যে ধরণের ভোগান্তি হয়। দীর্ঘ সূত্রতা ও দলিল স্বাক্ষর না হওয়া বদলি বা অনুপস্থিতির কারণে শতশত দলিলে স্বাক্ষর আটকে থাকে, ফলে জমির মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। আর্থিক ও শারীরিক ভোগান্তি দাতাগণ ও গ্রহীতাগনদের দিনের পর দিন সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে এসে হয়রানির শিকার হতে হয়। দালাল ও দুর্নীতির সুযোগ নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং দলিল দ্রুত করতে অতিরিক্ত অর্থের দাবি করে। আইনি ও ভবিষ্যৎ জটিলতা দলিল ঠিক সময়ে রেজিস্ট্রী না হলে নামজারি বা ভূমি রেকর্ড সংশোধনে জটিলতা দেখা দেয়। সময় মতো দলিলে স্বাক্ষর না হওয়া দলিল দাতাগণ দলিলে স্বাক্ষর করে গেলেও সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় তা যাচাই ও রেজিস্ট্রী করা যায় না।