চব্বিশের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ।
আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় ঘোষণা করা হবে।
পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটিই প্রথম মামলা। তবে রায়ের দিক থেকে দ্বিতীয়। এ মামলায় মোট আসামি আটজন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার চারজন। বাকিরা পলাতক।
পলাতক চার আসামি হলেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়। রায়ের পুরো কার্যক্রম বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৬ জন। মোট ২৩ কার্যদিবসে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন ট্রাইব্যুনাল। সাফাই সাক্ষ্য হিসেবে আরশাদসহ আরও তিনজনের জবানবন্দি নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় যুক্তিতর্ক।
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও এ মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের সাক্ষীর ডায়াসে দাঁড়িয়ে আসামিদের শাস্তি চেয়েছেন তিনি।
গত বছরের ১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ। পর্যায়ক্রমে শহীদ শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান, আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি, প্রত্যক্ষদর্শী রাব্বি হোসেন, ব্যবসায়ী আবদুল গফুর, রাজধানীর নিউমার্কেটের দোকানের কর্মচারী মো. টিপু সুলতান, নৌবাহিনীতে মালামাল সরবরাহকারী মো. মনিরুজ্জামান, শহীদ রাকিব হোসেন হাওলাদারের বাবা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, বড় ভাই রাহাত হাওলাদার, শহীদ ইয়াকুবের মা রহিমা আক্তার, তার প্রতিবেশী চাচা শহীদ আহমেদ ও শহীদ মো. ইসমামুল হকের ভাই মহিবুল হকও সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালে এসে। তারা সবাই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।
যুক্তিতর্কে সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন। তবে প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে নিজের মক্কেলদের বেকসুর খালাস চেয়েছে আসামিপক্ষ।
এ মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি নিজেদের খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন। পলাতক থাকায় হাবিবুরসহ চারজনের হয়ে লড়ছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালায় পুলিশ। এতে বহু হতাহতের ঘটনার পাশাপাশি শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।

ডিজিটাল রিপোর্ট 






















