ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নে একের পর এক গরু ও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে গরু চুরি এবং বসতঘর থেকে স্বর্ণালংকার চুরির একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
সর্বশেষ বুধবার (১৪ মে) দিবাগত রাতে ইউনিয়নের বেরাটি পূর্বপাড়া এলাকায় দুই কৃষকের গোয়ালঘর থেকে চারটি গরু চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. হারুন অর রশিদ গৌরীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে হারুন অর রশিদ তাঁর নিজ বাড়ির গোয়ালঘরে দুটি গরু বেঁধে রাখেন। একই বাড়ির মো. রতন মিয়া হাছুও তাঁর গোয়ালঘরে আরও দুটি গরু রাখেন। রাত আনুমানিক তিনটার দিকে হারুন গোয়ালঘরের সামনে গিয়ে গরুগুলো দেখে ঘরে ফিরে যান। পরে রাত সাড়ে তিনটার দিকে আবার গোয়ালঘরের সামনে এসে দেখেন, তালা ভাঙা এবং দরজা খোলা। ভেতরে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তাঁর ১০ মাসের গর্ভবতী শাহীওয়াল জাতের একটি গাভী ও একটি বকনা গরু নেই।
একই সময়ে পাশের গোয়ালঘরের মালিক রতন মিয়া হাছুও দেখতে পান, তাঁর গোয়ালঘরের তালা ভাঙা। ভেতরে থাকা একটি দেশি গাভী ও একটি বিদেশি জাতের বাছুর চুরি হয়ে গেছে। চুরি হওয়া চারটি গরুর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে একই ইউনিয়নের গঙাশ্রম গ্রামের সাইফুল ইসলামের গোয়ালঘর থেকে একটি ষাঁড় ও একটি গর্ভবতী গাভী চুরি হয়। গরু দুটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা। গত ১৬ এপ্রিল একই ইউনিয়নের মতিউর রহমান মাস্টারের ঘর থেকে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও রুপার গহনা চুরির ঘটনাও ঘটে।
অপরদিকে বাংলা নববর্ষের দিন ভোরে ইউনিয়নের পুম্বাইল গ্রামে একাধিক গোয়ালঘরে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই দিন কামাল হোসেনের গোয়ালঘর থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের দুটি গাভী, মোস্তফা মিয়ার গোয়ালঘর থেকে ১ লাখ টাকা মূল্যের একটি ষাঁড়, ওমর ফারুকের গোয়ালঘর থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় ও একটি গাভী, আব্দুল আজিজের গোয়ালঘর থেকে প্রায় ১ লাখ টাকা মূল্যের দুটি গাভী এবং মোজাম্মেল হকের গোয়ালঘর থেকে ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাভী চুরি হয়।
একই রাতে গাঁওরামগোপালপুর গ্রামের আব্দুল হেলিমের গোয়ালঘর থেকেও প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি গরু চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া কিছুদিন আগে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শহিদুল ইসলামের প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের দুটি ষাঁড়, একটি বকনা বাছুর ও একটি গাভী, মামুন মিয়ার একটি ষাঁড় বাছুর এবং হাবিবুর রহমানের একটি ষাঁড় ও পাঁচটি বকনা বাছুর চুরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
একের পর এক চুরির ঘটনায় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই রাত জেগে গোয়ালঘর পাহারা দিচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত চোর চক্র শনাক্ত করে গ্রেপ্তার না করা হলে এলাকায় আরও চুরির ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, গরু চুরির ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চুরি হওয়া গরুগুলো উদ্ধার এবং এর সাথে জড়িত চোরচক্রকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোঃ মাহফুজুর রহমান, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 






















