চার মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি নতুন করে সংকটে পড়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে সরাসরি বৈঠকে বসার বিষয়ে ইরানের অনীহার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবার কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আজ বুধবার (১ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বিশেষ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি প্রতিবেদনে বিশ্ব তেলের বাজারের এই নতুন পরিস্থিতির বিবরণ প্রকাশ করেছে।
একই সময়ে আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৬৩ সেন্ট বা ০ দশমিক ৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭০ দশমিক ১৩ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের আলোচনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণেই মূলত তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থামানোর ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি হওয়ায় চলতি বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৪৫ ডলার কমেছিল, যা ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর সবচেয়ে বড় প্রান্তিক পতন।
একইভাবে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ব্যারেল প্রতি প্রায় ৩১ ডলার কমেছিল, যা ২০২০ সালের করোনা মহামারির পর সর্বোচ্চ পতন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ সংকটের শঙ্কা কেটে যাওয়ায় বিশ্লেষকরা চার মাসের মধ্যে প্রথমবার ২০২৬ সালের তেলের দামের পূর্বাভাস কিছুটা কমিয়েছেন।
এদিকে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে ইরানকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে কোনো ধরনের টোল বা মাশুল আদায় করতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন যে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে তেলের ট্যাংকার চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং তেলের প্রবাহ যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে।
অন্যদিকে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী গত ২৬ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে আমেরিকার অপরিশোধিত তেলের মজুদ ৬১ লাখ ব্যারেল কমেছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

ডিজিটাল ডেস্ক 












