ময়মনসিংহ , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মমতা নিজ আসন ভবানীপুরে পুরোদমে এগিয়ে নতুন বাজেটে বাড়ছে পে-স্কেলের বরাদ্দ: বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা কেনিয়ায় অতিবৃষ্টিতে ভয়াবহ ভূমিধস: প্রাণ হারালেন ১৮ জন গৌরীপুরে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উদযাপন নেত্রকোনায় অনেক কষ্টের ফসল এখন কৃষকদের আর্তনাদ,ভিজা ধানে এখন জালা ধান পরিণত হচ্ছে নেত্রকোনার পূর্বধলা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ভারতীয় জিরা সহ আটক ১ মাঝ সমুদ্রে আতঙ্ক: প্রমোদতরীতে রহস্যময় ভাইরাসে প্রাণ হারালেন ৩ যাত্রী ময়মনসিংহে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ২৪ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়: নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সুষ্ঠু তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

সুনামগঞ্জের ১০ জন খাবারের অভাবেই মারা গেছেন , লাশ ফেলে দেওয়া হয় ভূমধ্যসাগরে

লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার সময় তীব্র খাবার ও পানি সংকটে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। ভয়াবহ এই যাত্রায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে, যাদের সবার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায়। নিখোঁজ ও অসুস্থদের উদ্ধারের পর গ্রিসের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।

গত শনিবার রাতে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে থাকা হবিগঞ্জের এক যুবক জানান, গত ৬ মার্চ তিনি একইভাবে গ্রিসে পৌঁছান। বর্তমানে তিনি ওই ক্যাম্পে রয়েছেন যেখানে ২৭ মার্চ সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের বরাতে তিনি জানান, দালালের মাধ্যমে রাবারের বোটে করে তারা গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বোটটি ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে। দীর্ঘ সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানি না থাকায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে মারা যান। পরে তাদের মরদেহ সাগরেই ফেলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনদের দেওয়া তথ্যমতে, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চারজন হলেন—নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), সাহান এহিয়া (২৫) ও মুজিবুর রহমান (৩৮)। দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের আবু ফাহিম এবং জগন্নাথপুর উপজেলার সোহানুর রহমান, শায়ক আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজারের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার বাসিন্দাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, দালালের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে গত মাসে তারা বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন। লিবিয়া পৌঁছানোর পর চুক্তির অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। কয়েক দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর রোববার বিকেলে গ্রিসে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে তারা মৃত্যুর খবর পান।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের নাম-পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতা নিজ আসন ভবানীপুরে পুরোদমে এগিয়ে

সুনামগঞ্জের ১০ জন খাবারের অভাবেই মারা গেছেন , লাশ ফেলে দেওয়া হয় ভূমধ্যসাগরে

আপডেট সময় ০১:১২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার সময় তীব্র খাবার ও পানি সংকটে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। ভয়াবহ এই যাত্রায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে, যাদের সবার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায়। নিখোঁজ ও অসুস্থদের উদ্ধারের পর গ্রিসের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।

গত শনিবার রাতে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে থাকা হবিগঞ্জের এক যুবক জানান, গত ৬ মার্চ তিনি একইভাবে গ্রিসে পৌঁছান। বর্তমানে তিনি ওই ক্যাম্পে রয়েছেন যেখানে ২৭ মার্চ সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের বরাতে তিনি জানান, দালালের মাধ্যমে রাবারের বোটে করে তারা গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বোটটি ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে। দীর্ঘ সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানি না থাকায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে মারা যান। পরে তাদের মরদেহ সাগরেই ফেলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনদের দেওয়া তথ্যমতে, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চারজন হলেন—নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), সাহান এহিয়া (২৫) ও মুজিবুর রহমান (৩৮)। দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের আবু ফাহিম এবং জগন্নাথপুর উপজেলার সোহানুর রহমান, শায়ক আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজারের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার বাসিন্দাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, দালালের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে গত মাসে তারা বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন। লিবিয়া পৌঁছানোর পর চুক্তির অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। কয়েক দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর রোববার বিকেলে গ্রিসে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে তারা মৃত্যুর খবর পান।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের নাম-পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।