ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দুদেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থার সম্পর্ক শক্তিশালী বলেছেন প্রণয় ভার্মা পহেলা বৈশাখ: ঢাবিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ডিএমপি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি নির্দেশনা নববর্ষের আবাহন : ঐতিহ্যের পথ বেয়ে আধুনিকতার উৎসবে ভিসার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির বাংলা নববর্ষ ঘিরে কোনো নাশকতার শঙ্কা নেই জানিয়েছেন র‌্যাব মহাপরিচালক জামিন পেলেন বাউলশিল্পী আবুল সরকার ​দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: ২০ এপ্রিল নিজ জন্মভূমি বগুড়া সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুদ্ধ নয়, কেবল ‘সতর্কবার্তা’? ইরানে সীমিত হামলার পরিকল্পনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের। বিকেলে নুসুক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের ডিএনএ ল্যাবরেটরি করা হবে বলেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ৬ বাংলাদেশি জাহাজ ছাড়ছে ইরান: দ্রুত ফেরার আশা

​মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাংলাদেশের ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ অবশেষে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী এক সংবাদ সম্মেলনে এই স্বস্তিদায়ক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

​রাষ্ট্রদূত জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কাউন্সিল ইতিমধ্যে বাংলাদেশি জাহাজগুলোকে প্রণালি পার হওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। বর্তমানে জাহাজগুলোকে নিরাপদ পরিবেশে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ঢাকা ও তেহরান অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
​কূটনৈতিক তৎপরতা ও কৃতজ্ঞতা

​জাহাজে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদী এই সৌজন্যমূলক পদক্ষেপের প্রশংসা করে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ইরানের একটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ভাইপ্রতিম দেশ। আমরা প্রত্যাশা করি, যেকোনো সংকটে দুই দেশ একে অপরের পাশে শক্ত অবস্থানে থাকবে।”
​নিন্দা না জানানোয় ইরানের অসন্তোষ

​সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বিষয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রদূত। সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন:

​”বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে কেবল ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ যথেষ্ট নয়। উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দায়ী পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ‘নিন্দা’ জানানো প্রয়োজন ছিল বলে ইরান মনে করে।”

​আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাহাজের অনুমতি দেওয়া বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন হলেও, ইরানের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে তারা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কাছ থেকে আরও জোরালো সমর্থন ও সরাসরি নিন্দা প্রস্তাব প্রত্যাশা করছে।
​পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা

উল্লেখ্য যে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাহাজের পাশাপাশি বাংলাদেশের এই ছয়টি জাহাজও আটকা পড়ে, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল।

​বর্তমান পরিস্থিতি:

​তদারকি: ইরানের নৌবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জাহাজগুলোর যাত্রা শুরুর প্রক্রিয়া তদারকি করছে।
​নিরাপত্তা: কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা ছাড়াই জাহাজগুলো যাতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় পৌঁছাতে পারে, সেজন্য বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

​এই জাহাজগুলো মুক্ত হওয়ার ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে তৈরি হওয়া বড় ধরনের শঙ্কা আপাতত কাটতে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুদেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থার সম্পর্ক শক্তিশালী বলেছেন প্রণয় ভার্মা

হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ৬ বাংলাদেশি জাহাজ ছাড়ছে ইরান: দ্রুত ফেরার আশা

আপডেট সময় ১২:৫৮:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

​মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাংলাদেশের ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ অবশেষে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী এক সংবাদ সম্মেলনে এই স্বস্তিদায়ক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

​রাষ্ট্রদূত জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কাউন্সিল ইতিমধ্যে বাংলাদেশি জাহাজগুলোকে প্রণালি পার হওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। বর্তমানে জাহাজগুলোকে নিরাপদ পরিবেশে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ঢাকা ও তেহরান অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
​কূটনৈতিক তৎপরতা ও কৃতজ্ঞতা

​জাহাজে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদী এই সৌজন্যমূলক পদক্ষেপের প্রশংসা করে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ইরানের একটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ভাইপ্রতিম দেশ। আমরা প্রত্যাশা করি, যেকোনো সংকটে দুই দেশ একে অপরের পাশে শক্ত অবস্থানে থাকবে।”
​নিন্দা না জানানোয় ইরানের অসন্তোষ

​সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বিষয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রদূত। সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন:

​”বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে কেবল ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ যথেষ্ট নয়। উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দায়ী পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ‘নিন্দা’ জানানো প্রয়োজন ছিল বলে ইরান মনে করে।”

​আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাহাজের অনুমতি দেওয়া বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন হলেও, ইরানের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে তারা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কাছ থেকে আরও জোরালো সমর্থন ও সরাসরি নিন্দা প্রস্তাব প্রত্যাশা করছে।
​পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা

উল্লেখ্য যে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাহাজের পাশাপাশি বাংলাদেশের এই ছয়টি জাহাজও আটকা পড়ে, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল।

​বর্তমান পরিস্থিতি:

​তদারকি: ইরানের নৌবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জাহাজগুলোর যাত্রা শুরুর প্রক্রিয়া তদারকি করছে।
​নিরাপত্তা: কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা ছাড়াই জাহাজগুলো যাতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় পৌঁছাতে পারে, সেজন্য বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

​এই জাহাজগুলো মুক্ত হওয়ার ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে তৈরি হওয়া বড় ধরনের শঙ্কা আপাতত কাটতে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।