বলিউড ও টালিউডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং। গত এক দশক ধরে হৃদয় ছোঁয়ার মতো অসংখ্য গান উপহার দিয়েছেন এই সুরের জাদুকর। কিন্তু এবার সে পথে রাশ টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গায়ক।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনযায়ী, প্লেব্যাক থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অরিজিৎ সিং। গায়কের এমন আকস্মিক ঘোষণায় স্তম্ভিত পুরো সংগীতজগত।
অরিজিতের ভাষায়, ‘হ্যালো, সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। শ্রোতা হিসেবে গত এতগুলো বছর ধরে আপনারা আমাকে যে পরিমাণ ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি আপনাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’
প্লেব্যাক কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কাজ করবে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, এখন থেকে আমি প্লেব্যাক কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আর কোনো নতুন কাজ করব না। আমি এখানেই ইতি টানছি। এটি সত্যিই একটি চমৎকার পথচলা ছিল।’
এদিকে অরিজিতের এমন হুট করে দেওয়া ঘোষণায় ভক্তদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
কেন তিনি ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় সিনেমার গান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। তবে তিনি সিনেমার বাইরে ব্যক্তিগত প্রজেক্ট বা লাইভ কনসার্টে নিয়মিত থাকবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা দেননি।
২০১১ সালে ‘মার্ডার ২’ ছবির ‘ফির মহব্বত’ গান দিয়ে তার প্লে-ব্যাক সফর শুরু হলেও, ২০১৩ সাল ছিল তার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। ‘আশিকি ২’ ছবির ‘তুম হি হো’ গানটি রাতারাতি তাকে গ্লোবাল সুপারস্টার বানিয়ে দেয়। এই একটি গান প্লে-ব্যাক সঙ্গীতের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিল।
অরিজিতের বিশেষত্ব ছিল তার বহুমুখী প্রতিভা। একদিকে তিনি যেমন ‘চান্না মেরেয়া’ বা ‘মুসকুরানে’র মতো বিরহী গান গেয়েছেন, তেমনই ‘দিল্লিওয়ালি গার্লফ্রেন্ড’ বা ‘ঘুনঘুর’ গেয়ে নেচে উঠতে বাধ্য করেছেন আসমুদ্রহিমাচলকে। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে শুরু করে রক বা জ্যাজ— সব ধারার গানেই তিনি ছিলেন সমান সাবলীল।
কেবল বলিউড নয়, বাংলা ছবিতেও তাঁর অবদান অসীম। ‘বোঝে না সে বোঝে না’, ‘মেঘবালিকা’ বা ‘বসন্ত এসে গেছে’র মতো গানগুলো ছাড়া বাঙালি শ্রোতাদের প্লে-লিস্ট অসম্পূর্ণ।

ডিজিটাল ডেস্ক 























