ময়মনসিংহ , শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
১৪ জানুয়ারি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনা: ৫ দফা দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের এবার কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন সিইসি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় ময়মনসিংহ মহানগর ৬ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের দোয়া মাহফিল শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার বালিঝুড়ি রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বন্যহাতির আক্রমণে মৃত্যু ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার মানবতাবিরোধী অপরাধ: আজ চার্জ গঠনে জিয়াউল আহসানের আইনজীবীর শুনানি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একগুচ্ছ পদক্ষেপ প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের শরীয়তপুরে বোমা বিস্ফোরণে উড়ে গেল বসতঘর, যুবক নিহত তাপমাত্রা বেড়েছে রাজধানীতে
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

আজ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিন

বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিন আজ। ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর (আজকের এই দিনে) কলকাতার মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে তার জন্ম হয়। গুণী এই ব্যক্তিত্বের আজ ২০৫তম জন্মদিন। এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে তার জন্ম।তবে দারিদ্রতা তার শিক্ষালাভের আগ্রহকে কেড়ে নিতে পারেনি। শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকায় রাতে ঘরে আলো জ্বালানোর মতো সামর্থ্য না থাকলেও রাস্তায় লাইটের নিচে বসে পড়ালেখা চালিয়েছেন তিনি।

তিনি শুধু বাংলা ভাষা সাহিত্যেই নয়, দ্যুতি ছড়িয়েছেন একাধারে বেদান্ত শাস্ত্র, তর্ক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানসহ নন্দনতাত্ত্বিক সমাজ গঠনেও। ঘুণেধরা সমাজকে ঢেলে সাজানোর কান্ডারি ঈশ্বরচন্দ্র আধুনিক বাংলা ব্যাকরণের প্রবর্তক।গ্রামের পাঠশালা থেকে সংস্কৃত শেখার পর বাবার সঙ্গে চলে যান কলকাতায়। সেখানেও বিভিন্ন ভাষায় শিক্ষালাভে গভীর মনোযোগ দেন তিনি। যার ধারাবাহিকতায় ১৮৩৯ সালে বাংলা, সংস্কৃতি ও ইংরেজি ভাষায় অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য সংস্কৃতি কলেজ থেকে তাকে দেওয়া হয় সম্মানজনক ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি।

শিক্ষালাভের পাশাপাশি সমাজ সংস্কারেও বিশেষ অবদান রাখেন তিনি।তার অক্লান্ত পরিশ্রমেই নারীরা পেয়েছে তাদের পূর্ণ অধিকার, হিন্দু নারীরা পেয়েছেন মানুষ হয়ে বাঁচার প্রেরণা। কলুষিত সমাজকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ, বিধবা বিবাহ আইন পাসসহ অসংখ্য অবদান রয়েছে তার। হোমিওপ্যাথি শাস্ত্রেও পাণ্ডিত্য ছিল এই নিরহংকার ব্যক্তিটির। অবদান রেখেছেন বাংলা লিপি সংস্কারেরও। পাশাপাশি তিনি ছিলেন বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও প্রাবন্ধিক।তিনিই প্রথম বাংলায় যতিচিহ্নের প্রচলন ঘটিয়েছিলেন। শিক্ষার প্রকৃত অর্থ যে জ্ঞানলাভ, তার হাত ধরেই মানুষ শিখেছেন। আর তাই বিবিসি বাংলার ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি কে?’ জরিপে শ্রোতাদের মনোনীত শীর্ষ বিশজন বাঙালির তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

১৮৯১ সালে বাঙালি সমাজে প্রগতিশীল সংস্কারের অগ্রদূত এই মহান সংস্কারকের জীবনাবসান ঘটে। তবে মৃত্যুর শত বছর পারেও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ঈশ্বরচন্দ্র স্মরণীয় হয়ে আছেন তার কাজের মাধ্যমে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৪ জানুয়ারি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ

আজ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিন

আপডেট সময় ১১:০২:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিন আজ। ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর (আজকের এই দিনে) কলকাতার মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে তার জন্ম হয়। গুণী এই ব্যক্তিত্বের আজ ২০৫তম জন্মদিন। এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে তার জন্ম।তবে দারিদ্রতা তার শিক্ষালাভের আগ্রহকে কেড়ে নিতে পারেনি। শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকায় রাতে ঘরে আলো জ্বালানোর মতো সামর্থ্য না থাকলেও রাস্তায় লাইটের নিচে বসে পড়ালেখা চালিয়েছেন তিনি।

তিনি শুধু বাংলা ভাষা সাহিত্যেই নয়, দ্যুতি ছড়িয়েছেন একাধারে বেদান্ত শাস্ত্র, তর্ক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানসহ নন্দনতাত্ত্বিক সমাজ গঠনেও। ঘুণেধরা সমাজকে ঢেলে সাজানোর কান্ডারি ঈশ্বরচন্দ্র আধুনিক বাংলা ব্যাকরণের প্রবর্তক।গ্রামের পাঠশালা থেকে সংস্কৃত শেখার পর বাবার সঙ্গে চলে যান কলকাতায়। সেখানেও বিভিন্ন ভাষায় শিক্ষালাভে গভীর মনোযোগ দেন তিনি। যার ধারাবাহিকতায় ১৮৩৯ সালে বাংলা, সংস্কৃতি ও ইংরেজি ভাষায় অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য সংস্কৃতি কলেজ থেকে তাকে দেওয়া হয় সম্মানজনক ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি।

শিক্ষালাভের পাশাপাশি সমাজ সংস্কারেও বিশেষ অবদান রাখেন তিনি।তার অক্লান্ত পরিশ্রমেই নারীরা পেয়েছে তাদের পূর্ণ অধিকার, হিন্দু নারীরা পেয়েছেন মানুষ হয়ে বাঁচার প্রেরণা। কলুষিত সমাজকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ, বিধবা বিবাহ আইন পাসসহ অসংখ্য অবদান রয়েছে তার। হোমিওপ্যাথি শাস্ত্রেও পাণ্ডিত্য ছিল এই নিরহংকার ব্যক্তিটির। অবদান রেখেছেন বাংলা লিপি সংস্কারেরও। পাশাপাশি তিনি ছিলেন বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও প্রাবন্ধিক।তিনিই প্রথম বাংলায় যতিচিহ্নের প্রচলন ঘটিয়েছিলেন। শিক্ষার প্রকৃত অর্থ যে জ্ঞানলাভ, তার হাত ধরেই মানুষ শিখেছেন। আর তাই বিবিসি বাংলার ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি কে?’ জরিপে শ্রোতাদের মনোনীত শীর্ষ বিশজন বাঙালির তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

১৮৯১ সালে বাঙালি সমাজে প্রগতিশীল সংস্কারের অগ্রদূত এই মহান সংস্কারকের জীবনাবসান ঘটে। তবে মৃত্যুর শত বছর পারেও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ঈশ্বরচন্দ্র স্মরণীয় হয়ে আছেন তার কাজের মাধ্যমে।