ময়মনসিংহ , শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস করছেন বিনিয়োগ বাড়বে ব্যবসাবাণিজ্যে:আমীর খসরু সরকারী-বেসরকারী সকল অফিস আদালতে প্রজ্ঞাপন, বিজ্ঞাপন, আদেশসহ যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ মাতৃভাষা বাংলা করা হউক কঠিন চ্যালেঞ্জ মাদক নিয়ন্ত্রণ করা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সর্বস্তরের মানুষের উপচেপড়া ভিড় শহীদ মিনারে, ভাষাশহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা দুর্নীতি ও ধর্মান্ধতা একুশের চেতনার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন ড. ইফতেখারুজ্জামান অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দর থেকে চার দিনের মধ্যে পণ্য শুল্কায়নের নির্দেশ দিলেন ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা পেলেও নাগরিকদের অধিকার আজও অধরা রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমির জাতীয় পার্টির ব্যানার দেখে ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ স্লোগান শহীদ মিনারে সংরক্ষিত নারী আসনে সুমাইয়াকে সংসদে দেখতে চান শেরপুরবাসী
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

কঠিন চ্যালেঞ্জ মাদক নিয়ন্ত্রণ করা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২১:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার সীমান্তের ইয়াবা সমস্যা নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যা নতুন নয়, বীজ বোনা বহু আগেই। ভয়ঙ্কর মাদক ইয়াবা পাচারের নেটওয়ার্ক এতটাই জটিল, শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ বা আইন প্রয়োগ করে এর বিস্তার থামানো সম্ভব হয়নি। জেলার এমপি হওয়ায় এখানকার ইয়াবা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে তার দায়ভার শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় পর্যায়েও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেকনাফ-উখিয়া সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই ইয়াবার চালান ঢোকে। গত দুই বছরে বিভিন্ন বাহিনী মিলে দিনে গড়ে লাখের বেশি ইয়াবা জব্দ করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জব্দের পরিমাণ বাড়লেও বাজারে ইয়াবার সহজলভ্যতা কমেনি। স্থানীয়ভাবে এটিকে দেখা হচ্ছে ‘সরবরাহ বেড়েছে, তাই ধরা পড়ার সংখ্যাও বাড়ছে’ এই সংকেত হিসেবে।

স্থানীয়দের ভাষায়, এই জেলার মানুষ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি জানেন ইয়াবা সমস্যা সমাধানে কোথায় দুর্বলতা, কে গডফাদার। তাই তার কাছে প্রত্যাশাও বেশি। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের ওপরও চাপ বাড়ছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ, টেকনাফ মডেল থানার কর্মকর্তারা বলছেন, সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিটি বাহিনী অতিরিক্ত সতর্ক।

বিশেষ করে ইয়াবা রুট, মাঝরাতের ‘নৌ-চলাচল’ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরের সন্দেহজনক গতিবিধি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনের ভেতরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সীমান্তে নতুন ধরনের অপারেশনাল মডেল চালুর সম্ভাবনা। দীর্ঘদিনের প্রচলিত পদ্ধতিতে কার্যত কোনো পরিবর্তন না আসায় এবার সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর ও সোর্সভিত্তিক অপারেশনের কথা ভাবছে মন্ত্রণালয়। টেকনাফ ও নাফ নদীর ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে ড্রোন নজরদারি, সীমান্তের ১২টি প্রধান রুটে বিশেষ মোবাইল ইউনিট, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় সশস্ত্র উপস্থিতি বাড়ানো এবং ইয়াবা মামলার তদন্তে সিআইডি, মাদক অধিদপ্তর ও বিজিবির যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের মতো বিষয়গুলো এখন আলোচনায় আসছে।

মাদকবিরোধী বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগের ব্যর্থ অভিজ্ঞতার পর এবার মডেল বদল জরুরি।

তা না হলে একই চক্র আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তারা বলছেন, সামগ্রিকভাবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছাড়াও কক্সবাজারের মাদক সংকটই নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম তিন থেকে ছয় মাসই বলে দেবে দীর্ঘদিনের ‘মাদক সাম্রাজ্য’ ভাঙতে তিনি কতটা সক্ষম।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কক্সবাজারের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান, ২০২২-২৫ সাল পর্যন্ত কক্সবাজারে ১৪৪টি ইয়াবা মামলার রায় হয়েছে। এর মধ্যে ১০৩ জন আসামির সাজা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এই সময়ে ২৪ মামলায় ৩০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

ডিএনসির এই কর্মকর্তার মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। মিয়ানমার থেকে যারা ইয়াবা পাঠায়, তাদের স্থানীয় লিংকগুলো বেশিরভাগই রোহিঙ্গা চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ক্যাম্পের ভেতরে মাদক পরিবহনের গোপন পথ, রাতের আঁধারে পাহাড়ি রুট, আর নৌকা চলাচল-সবই পাচারকারীদের সুবিধা তৈরি করে দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কক্সবাজারের কিছু মানুষ সরাসরি, কিছু পরোক্ষভাবে এই নেটওয়ার্কে জড়িত। তারা টাকার প্রলোভনে রোহিঙ্গা গ্রুপগুলোকে ব্যবহার করছে। ফলে পাচারচক্র আরো শক্তিশালী হচ্ছে। রোহিঙ্গা আর স্থানীয়দের যৌথ নেটওয়ার্কই এখন জেলার সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা।

ড্রাগ ডিটেকশন ডগ সবচেয়ে জরুরি
ডিএনসি কর্মকর্তা সোমেন মণ্ডল বলেন, ‘আগে নৌরুট ও পাহাড়ি গিরিপথই প্রধান ছিল। এখন তারা স্থলপথের পাশাপাশি নতুন রেললাইনও ব্যবহার করছে। কক্সবাজারে ট্রেন সংযোগ চালুর পর ইয়াবা পরিবহনে এই রুট ব্যবহারের প্রমাণ আমরা পেয়েছি।’

ড্রাগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় ঘাটতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বড় বড় চালান ধরতে হলে আরো ‘ড্রাগ ডিটেকশন ডগ’ প্রয়োজন। ব্যাগ, কার্গো, মালামাল বা ট্রেনে দ্রুত শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ডগ স্কোয়াড অত্যন্ত কার্যকর।”

তিনি জানান, বর্তমানে সীমিত সংখ্যক কুকুর ব্যবহার করা হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তার মতে, পর্যাপ্ত ডিটেকশন ডগ, আধুনিক স্ক্যানার এবং সোর্স-নেটওয়ার্ক থাকলে ইয়াবা চেইন ভাঙা অনেক সহজ হবে।

শুধু আইন দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, ‘শুধু আইন দিয়ে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা না বদলালে সীমান্তে যতই অভিযান দেই, তাতে বড় পরিবর্তন আসবে না।’

তিনি জানান, উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজার শহরের প্রায় ২৮ লাখ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আর্থিক সংকটে ভোগে। বেকারদের কাছে ইয়াবা নেটওয়ার্ক সহজে পৌঁছে যায়। পরিবার চালানোর চাপ তাদের ঝুঁকিপূর্ণ পথে নিয়ে যায়। ইয়াবা তাদের জন্য টাকা পাওয়ার একটি ‘কুইক রুট’। এটা ঠেকাতে হলে বিকল্প সুযোগ দিতে হবে।

এসপি সাজেদুর রহমান আরো বলেন, ‘ইয়াবা কারবারে কেবল সংগঠিত দল নয়, বরং পরিবারভিত্তিক যুক্ত থাকা লোকজনের সংখ্যাও বাড়ছে। পরিবারে একজন বেকার থাকলে তারা সহজেই প্রলোভনে পড়ে। পরিবারগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারলে ইয়াবা নেটওয়ার্কের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে যাবে।’

এসপি জানান, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি-সব বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু এটি কখনোই চূড়ান্ত সমাধান নয়। স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে না পারলে এই গোলচক্র ভাঙা অসম্ভব। তিনি আরো বলেন, একজন যুবক যদি প্রতিদিন ৮০০-১০০০ টাকা আয় করতে পারে, সে কখনোই ১০-১৫ হাজার টাকার জন্য জীবনবিপন্ন ইয়াবা নেটওয়ার্কে যাবে না।

তিনি বলেন, যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারলে, ইয়াবা কারবার নেটওয়ার্ক একাই ভেঙে পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস করছেন

কঠিন চ্যালেঞ্জ মাদক নিয়ন্ত্রণ করা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট সময় ১১:২১:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজার সীমান্তের ইয়াবা সমস্যা নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যা নতুন নয়, বীজ বোনা বহু আগেই। ভয়ঙ্কর মাদক ইয়াবা পাচারের নেটওয়ার্ক এতটাই জটিল, শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ বা আইন প্রয়োগ করে এর বিস্তার থামানো সম্ভব হয়নি। জেলার এমপি হওয়ায় এখানকার ইয়াবা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে তার দায়ভার শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় পর্যায়েও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেকনাফ-উখিয়া সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই ইয়াবার চালান ঢোকে। গত দুই বছরে বিভিন্ন বাহিনী মিলে দিনে গড়ে লাখের বেশি ইয়াবা জব্দ করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জব্দের পরিমাণ বাড়লেও বাজারে ইয়াবার সহজলভ্যতা কমেনি। স্থানীয়ভাবে এটিকে দেখা হচ্ছে ‘সরবরাহ বেড়েছে, তাই ধরা পড়ার সংখ্যাও বাড়ছে’ এই সংকেত হিসেবে।

স্থানীয়দের ভাষায়, এই জেলার মানুষ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি জানেন ইয়াবা সমস্যা সমাধানে কোথায় দুর্বলতা, কে গডফাদার। তাই তার কাছে প্রত্যাশাও বেশি। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের ওপরও চাপ বাড়ছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ, টেকনাফ মডেল থানার কর্মকর্তারা বলছেন, সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিটি বাহিনী অতিরিক্ত সতর্ক।

বিশেষ করে ইয়াবা রুট, মাঝরাতের ‘নৌ-চলাচল’ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরের সন্দেহজনক গতিবিধি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনের ভেতরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সীমান্তে নতুন ধরনের অপারেশনাল মডেল চালুর সম্ভাবনা। দীর্ঘদিনের প্রচলিত পদ্ধতিতে কার্যত কোনো পরিবর্তন না আসায় এবার সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর ও সোর্সভিত্তিক অপারেশনের কথা ভাবছে মন্ত্রণালয়। টেকনাফ ও নাফ নদীর ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে ড্রোন নজরদারি, সীমান্তের ১২টি প্রধান রুটে বিশেষ মোবাইল ইউনিট, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় সশস্ত্র উপস্থিতি বাড়ানো এবং ইয়াবা মামলার তদন্তে সিআইডি, মাদক অধিদপ্তর ও বিজিবির যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের মতো বিষয়গুলো এখন আলোচনায় আসছে।

মাদকবিরোধী বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগের ব্যর্থ অভিজ্ঞতার পর এবার মডেল বদল জরুরি।

তা না হলে একই চক্র আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তারা বলছেন, সামগ্রিকভাবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছাড়াও কক্সবাজারের মাদক সংকটই নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম তিন থেকে ছয় মাসই বলে দেবে দীর্ঘদিনের ‘মাদক সাম্রাজ্য’ ভাঙতে তিনি কতটা সক্ষম।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কক্সবাজারের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান, ২০২২-২৫ সাল পর্যন্ত কক্সবাজারে ১৪৪টি ইয়াবা মামলার রায় হয়েছে। এর মধ্যে ১০৩ জন আসামির সাজা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এই সময়ে ২৪ মামলায় ৩০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

ডিএনসির এই কর্মকর্তার মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। মিয়ানমার থেকে যারা ইয়াবা পাঠায়, তাদের স্থানীয় লিংকগুলো বেশিরভাগই রোহিঙ্গা চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ক্যাম্পের ভেতরে মাদক পরিবহনের গোপন পথ, রাতের আঁধারে পাহাড়ি রুট, আর নৌকা চলাচল-সবই পাচারকারীদের সুবিধা তৈরি করে দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কক্সবাজারের কিছু মানুষ সরাসরি, কিছু পরোক্ষভাবে এই নেটওয়ার্কে জড়িত। তারা টাকার প্রলোভনে রোহিঙ্গা গ্রুপগুলোকে ব্যবহার করছে। ফলে পাচারচক্র আরো শক্তিশালী হচ্ছে। রোহিঙ্গা আর স্থানীয়দের যৌথ নেটওয়ার্কই এখন জেলার সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা।

ড্রাগ ডিটেকশন ডগ সবচেয়ে জরুরি
ডিএনসি কর্মকর্তা সোমেন মণ্ডল বলেন, ‘আগে নৌরুট ও পাহাড়ি গিরিপথই প্রধান ছিল। এখন তারা স্থলপথের পাশাপাশি নতুন রেললাইনও ব্যবহার করছে। কক্সবাজারে ট্রেন সংযোগ চালুর পর ইয়াবা পরিবহনে এই রুট ব্যবহারের প্রমাণ আমরা পেয়েছি।’

ড্রাগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় ঘাটতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বড় বড় চালান ধরতে হলে আরো ‘ড্রাগ ডিটেকশন ডগ’ প্রয়োজন। ব্যাগ, কার্গো, মালামাল বা ট্রেনে দ্রুত শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ডগ স্কোয়াড অত্যন্ত কার্যকর।”

তিনি জানান, বর্তমানে সীমিত সংখ্যক কুকুর ব্যবহার করা হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তার মতে, পর্যাপ্ত ডিটেকশন ডগ, আধুনিক স্ক্যানার এবং সোর্স-নেটওয়ার্ক থাকলে ইয়াবা চেইন ভাঙা অনেক সহজ হবে।

শুধু আইন দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, ‘শুধু আইন দিয়ে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা না বদলালে সীমান্তে যতই অভিযান দেই, তাতে বড় পরিবর্তন আসবে না।’

তিনি জানান, উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজার শহরের প্রায় ২৮ লাখ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আর্থিক সংকটে ভোগে। বেকারদের কাছে ইয়াবা নেটওয়ার্ক সহজে পৌঁছে যায়। পরিবার চালানোর চাপ তাদের ঝুঁকিপূর্ণ পথে নিয়ে যায়। ইয়াবা তাদের জন্য টাকা পাওয়ার একটি ‘কুইক রুট’। এটা ঠেকাতে হলে বিকল্প সুযোগ দিতে হবে।

এসপি সাজেদুর রহমান আরো বলেন, ‘ইয়াবা কারবারে কেবল সংগঠিত দল নয়, বরং পরিবারভিত্তিক যুক্ত থাকা লোকজনের সংখ্যাও বাড়ছে। পরিবারে একজন বেকার থাকলে তারা সহজেই প্রলোভনে পড়ে। পরিবারগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারলে ইয়াবা নেটওয়ার্কের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে যাবে।’

এসপি জানান, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি-সব বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু এটি কখনোই চূড়ান্ত সমাধান নয়। স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে না পারলে এই গোলচক্র ভাঙা অসম্ভব। তিনি আরো বলেন, একজন যুবক যদি প্রতিদিন ৮০০-১০০০ টাকা আয় করতে পারে, সে কখনোই ১০-১৫ হাজার টাকার জন্য জীবনবিপন্ন ইয়াবা নেটওয়ার্কে যাবে না।

তিনি বলেন, যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারলে, ইয়াবা কারবার নেটওয়ার্ক একাই ভেঙে পড়বে।