ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করা হবে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির সংকটের কঠিন মুহূর্তে আমাকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি ও সশস্ত্র বাহিনী বলেছেন রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রথমবারের মতো অফিস করলেন জুলাইয়ের শহীদদের পরিবার যেন ন্যায্য বিচার পান বলেছেন তাজুল ইসলাম সংরক্ষিত নারী আসনে থাকবেন কারা:মির্জা ফখরুল মো. আব্দুস সালাম ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হলেন ৬ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ ঢাকা উত্তর-দক্ষিণসহ সরানো হলো তাজুলকে, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের নতুন চিফ প্রসিকিউটর জরুরি নির্দেশনা বেসরকারি মাদ্রাসার জন্য , না মানলে এমপিও বন্ধ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রেবিস ভ্যাকসিনের সংকট

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৬৩ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে প্রায় এক মাস ধরে নেই রেবিস ভ্যাকসিন। এতে করে প্রতিদিন জেলার সাত উপজেলার দেড় শতাধিক কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত মানুষ ভ্যাকসিন না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। নিম্নআয়ের অনেকে বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনছেন, আবার অনেকে অর্থাভাবে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে প্রাণঘাতী জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

হাসপাতালের ভ্যাকসিন রুমের সামনে প্রতিদিনই লম্বা সারি দেখা যাচ্ছে। রোগীরা জানান, সরকারি টিকা না থাকায় একেকটি ভ্যাকসিন চারজন মিলে ভাগ করে কিনতে হচ্ছে। অনেক সময় টাকার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

পলাশবাড়ি থেকে আসা সজল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘১০০ টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি। ফ্রি টিকা পাওয়া যায় ভেবেছিলাম, কিন্তু টাকা না থাকায় নিতে পারলাম না।’
একইভাবে ফুলছড়ি থেকে আসা দীপ সাহা বলেন, ‘রাস্তার কুকুর, বিড়াল আর রাতে শিয়ালের উপদ্রব বেড়ে গেছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছে। সরকারি ভ্যাকসিন না পেলে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়বে।’

ভ্যাকসিনের দায়িত্বে থাকা নার্স মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনই ভ্যাকসিন না পেয়ে রোগীরা হট্টগোল করেন। টাকা না থাকায় অনেককে খালি হাতে ফেরত যেতে হয়, যা খুবই দুঃখজনক।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কাজী মিজানুর রহমান বলেন, ‘বরাদ্দকৃত ভ্যাকসিনের তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।’
তিনি জানান, নতুন বরাদ্দের জন্য চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো এবং বন্য কুকুর-শিয়াল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রতি সপ্তাহে জেলার সাত উপজেলা থেকে হাজারেরও বেশি মানুষ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে আসেন চিকিৎসা ও রেবিস ভ্যাকসিন নিতে। দ্রুত এ সংকট সমাধান না হলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করা হবে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রেবিস ভ্যাকসিনের সংকট

আপডেট সময় ১২:৪০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে প্রায় এক মাস ধরে নেই রেবিস ভ্যাকসিন। এতে করে প্রতিদিন জেলার সাত উপজেলার দেড় শতাধিক কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত মানুষ ভ্যাকসিন না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। নিম্নআয়ের অনেকে বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনছেন, আবার অনেকে অর্থাভাবে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে প্রাণঘাতী জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

হাসপাতালের ভ্যাকসিন রুমের সামনে প্রতিদিনই লম্বা সারি দেখা যাচ্ছে। রোগীরা জানান, সরকারি টিকা না থাকায় একেকটি ভ্যাকসিন চারজন মিলে ভাগ করে কিনতে হচ্ছে। অনেক সময় টাকার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

পলাশবাড়ি থেকে আসা সজল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘১০০ টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি। ফ্রি টিকা পাওয়া যায় ভেবেছিলাম, কিন্তু টাকা না থাকায় নিতে পারলাম না।’
একইভাবে ফুলছড়ি থেকে আসা দীপ সাহা বলেন, ‘রাস্তার কুকুর, বিড়াল আর রাতে শিয়ালের উপদ্রব বেড়ে গেছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছে। সরকারি ভ্যাকসিন না পেলে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়বে।’

ভ্যাকসিনের দায়িত্বে থাকা নার্স মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনই ভ্যাকসিন না পেয়ে রোগীরা হট্টগোল করেন। টাকা না থাকায় অনেককে খালি হাতে ফেরত যেতে হয়, যা খুবই দুঃখজনক।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কাজী মিজানুর রহমান বলেন, ‘বরাদ্দকৃত ভ্যাকসিনের তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।’
তিনি জানান, নতুন বরাদ্দের জন্য চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো এবং বন্য কুকুর-শিয়াল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রতি সপ্তাহে জেলার সাত উপজেলা থেকে হাজারেরও বেশি মানুষ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে আসেন চিকিৎসা ও রেবিস ভ্যাকসিন নিতে। দ্রুত এ সংকট সমাধান না হলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।