ময়মনসিংহ , বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ইস্কাফ সিরাপসহ আটক ২ জুলাই ২০২৫-এর উপবৃত্তি এখনো অনিশ্চিত, আর কত অপেক্ষা করবেন ডিগ্রি শিক্ষার্থীরা ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেবে সরকার:ডা. জাহেদ উর রহমান দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়তে প্রতিটি পরিবারের সচেতনতা জরুরি বলেছেন রাষ্ট্রপতি দেশে ফিরে আসা কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনে সরকার কাজ করছে জানিয়েছেন নুর ধামইরহাটে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত জিয়াউল আহসানের বিচারকাজ ভার্চুয়ালি হবে আজ থেকে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর তামিম প্রবাসীদের সংকট নিরসনে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা সরকারের জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আক্রমণ শক্তিশালী করতে আরও মানসম্মত পেসার প্রয়োজন বললেন সালাহউদ্দিন বারহাট্টায় দিনব্যাপী বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করলেন নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৩৮ বার পড়া হয়েছে

ইসরাইল-গাজা যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর প্রতিবাদে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বিক্ষোভ করেছেন।

জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ নভেম্বর) এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে আগ্রাসন ও যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ করেন।

 ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এসময় তাদের ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে ইসরাইলের গণহত্যাবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
 
একজন বিক্ষোভকারী কাতারের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এখনো ন্যায়বিচার থেকে অনেক দূরে।’
 
এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশন (এএফপিএস) এর প্রধান আন তুয়াইয়ো বলেন, অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ৭ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কিছুই সমাধান হয়নি।
তার মতে, ‘যুদ্ধবিরতি কেবলই একটি ধোঁয়াশা, যা ইসরাইল প্রতিনিয়ত ভঙ্গ করছে। আমরা এখন একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে এই গণহত্যা বন্ধ করতে চাই।’
 
লন্ডন, জেনেভা, রোম ও লিসবনেও একই ধরণের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 আল জাজিরার সাংবাদিক সোনিয়া গালেগোর বরাতে জানা যায়, আয়োজকরা মূলত ইসরাইলের ওপর একটি ‘টেকসই চাপ’ সৃষ্টির জন্যই এই বিক্ষোভ আয়োজন করেছেন।
 
লন্ডনের আয়োজকদের দাবি, প্রায় এক লাখ মানুষ ইসরাইলের মানবতাবিরোধী অপরাধের জবাবদিহি এবং ফিলিস্তিনের জনগণের নিরাপত্তার দাবিতে এই বিক্ষোভে অংশ নেন।
 
ইতালিতে রোমের প্রধান বিক্ষোভে অংশ নেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানচেস্কা আলবানিজ এবং জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। ‘ওয়ান্টেড ইন রোম’ এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী সেখানে প্রায় এক লাখ মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হয়েছিল।
 
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক বিবৃতিতে আলবানিজ অভিযোগ করেন, ‘ইসরাইল শুধুমাত্র গাজায়ই নয়, বরং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরেও গণহত্যা চালাচ্ছে।’

তিনি দাবি করেন, ইসরাইলকে থামাতে হবে এবং আমরা তা করবোই।
 
যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইল অন্তত ৫০০ বার ফিলিস্তিনে হামলা করেছে। এসকল হামলায় ৩৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৮৯০ জন।সম্প্রতি গাজার খান ইউনিস অঞ্চলের বনি সুহেইলা শহরে ড্রোন হামলা চালায় ইসরাইল। এই হামলায় ৮ এবং ১০ বছর বয়সি দুই ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে।
 
নিহত শিশু ফাদি ও জুমা তামের আবু আসির চাচা আলা আবু আসি দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘তারা (ফাদি ও জুমা) নিরীহ শিশু ছিল, তাদের কাছে তো কোনো অস্ত্রও ছিল না। তারা তাদের আহত বাবার জন্য জ্বালানি কাঠ আনতে গিয়েছিল। হামলার পর আমরা তাদেরকে টুকরো টুকরো অবস্থায় পাই এবং নিয়ে আসি।’
 
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এত মানুষের মৃত্যু, একটি পুরো জনগোষ্ঠীকে বারবার উৎখাত ও মানবিক সহায়তায় বাধা দেয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।’
 
গাজা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খোদারি জানান, ‘আন্তর্জাতিক সংহতির প্রতি গাজার মানুষ কৃতজ্ঞ। কিন্তু অধিকাংশ ফিলিস্তিনিই প্রতিদিন কেবল বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে।’
 
তার মতে, আশ্রয়, ঔষধ, শিক্ষাসহ কোনো মৌলিক চাহিদাই এখানে সহজলভ্য নয়। এমনকি যুদ্ধবিরতির মধ্যেও মানুষের মৃত্যু অব্যাহত রয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে জানায়, ‘যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরাইল গাজায় নিয়মিত হামলা করছে এবং গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।’

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ইস্কাফ সিরাপসহ আটক ২

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ

আপডেট সময় ০২:৩৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ইসরাইল-গাজা যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর প্রতিবাদে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বিক্ষোভ করেছেন।

জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ নভেম্বর) এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে আগ্রাসন ও যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ করেন।

 ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এসময় তাদের ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে ইসরাইলের গণহত্যাবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
 
একজন বিক্ষোভকারী কাতারের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এখনো ন্যায়বিচার থেকে অনেক দূরে।’
 
এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশন (এএফপিএস) এর প্রধান আন তুয়াইয়ো বলেন, অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ৭ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কিছুই সমাধান হয়নি।
তার মতে, ‘যুদ্ধবিরতি কেবলই একটি ধোঁয়াশা, যা ইসরাইল প্রতিনিয়ত ভঙ্গ করছে। আমরা এখন একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে এই গণহত্যা বন্ধ করতে চাই।’
 
লন্ডন, জেনেভা, রোম ও লিসবনেও একই ধরণের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 আল জাজিরার সাংবাদিক সোনিয়া গালেগোর বরাতে জানা যায়, আয়োজকরা মূলত ইসরাইলের ওপর একটি ‘টেকসই চাপ’ সৃষ্টির জন্যই এই বিক্ষোভ আয়োজন করেছেন।
 
লন্ডনের আয়োজকদের দাবি, প্রায় এক লাখ মানুষ ইসরাইলের মানবতাবিরোধী অপরাধের জবাবদিহি এবং ফিলিস্তিনের জনগণের নিরাপত্তার দাবিতে এই বিক্ষোভে অংশ নেন।
 
ইতালিতে রোমের প্রধান বিক্ষোভে অংশ নেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানচেস্কা আলবানিজ এবং জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। ‘ওয়ান্টেড ইন রোম’ এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী সেখানে প্রায় এক লাখ মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হয়েছিল।
 
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক বিবৃতিতে আলবানিজ অভিযোগ করেন, ‘ইসরাইল শুধুমাত্র গাজায়ই নয়, বরং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরেও গণহত্যা চালাচ্ছে।’

তিনি দাবি করেন, ইসরাইলকে থামাতে হবে এবং আমরা তা করবোই।
 
যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইল অন্তত ৫০০ বার ফিলিস্তিনে হামলা করেছে। এসকল হামলায় ৩৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৮৯০ জন।সম্প্রতি গাজার খান ইউনিস অঞ্চলের বনি সুহেইলা শহরে ড্রোন হামলা চালায় ইসরাইল। এই হামলায় ৮ এবং ১০ বছর বয়সি দুই ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে।
 
নিহত শিশু ফাদি ও জুমা তামের আবু আসির চাচা আলা আবু আসি দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘তারা (ফাদি ও জুমা) নিরীহ শিশু ছিল, তাদের কাছে তো কোনো অস্ত্রও ছিল না। তারা তাদের আহত বাবার জন্য জ্বালানি কাঠ আনতে গিয়েছিল। হামলার পর আমরা তাদেরকে টুকরো টুকরো অবস্থায় পাই এবং নিয়ে আসি।’
 
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এত মানুষের মৃত্যু, একটি পুরো জনগোষ্ঠীকে বারবার উৎখাত ও মানবিক সহায়তায় বাধা দেয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।’
 
গাজা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খোদারি জানান, ‘আন্তর্জাতিক সংহতির প্রতি গাজার মানুষ কৃতজ্ঞ। কিন্তু অধিকাংশ ফিলিস্তিনিই প্রতিদিন কেবল বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে।’
 
তার মতে, আশ্রয়, ঔষধ, শিক্ষাসহ কোনো মৌলিক চাহিদাই এখানে সহজলভ্য নয়। এমনকি যুদ্ধবিরতির মধ্যেও মানুষের মৃত্যু অব্যাহত রয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে জানায়, ‘যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরাইল গাজায় নিয়মিত হামলা করছে এবং গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।’