বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য ও আরএকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের নগদ অর্থ গত সাত বছরে ২৭ গুণের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে তার ব্যাংক ঋণ বেড়েছে প্রায় ২২ গুণ। তবে বিপুল সম্পদ বৃদ্ধির বিপরীতে তার বার্ষিক আয় কমেছে প্রায় পৌনে চার গুণ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামার সঙ্গে একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনটি নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে একরামুজ্জামানের বার্ষিক আয় ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৩৩ হাজার ৫১৬ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে আয় ৬৩ লাখ ৮০ হাজার ৯৭৪ টাকা, বাড়িভাড়া থেকে ১ কোটি ১৬ লাখ ২৮ হাজার ৬১৩ টাকা, কৃষিখাত থেকে ৭ লাখ ৬ হাজার ২৭৯ টাকা, চাকরি থেকে (আরএকে সিরামিকস ও শ্যামল বাংলা মিডিয়া লিমিটেড) ৫৮ লাখ ৩৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ১৫ হাজার ১৬০ টাকা।
সাত বছরে একরামুজ্জামানের অস্থাবর সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২১ কোটি ৯২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৯ টাকায়। এর মধ্যে শেয়ারে বিনিয়োগ রয়েছে ৩১৪ কোটি ২১ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা। নগদ অর্থ বেড়ে হয়েছে ২১ কোটি ৬৯ লাখ ২৮ হাজার ৫৮৩ টাকা, যা সাত বছরে ২৭ দশমিক ১৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
দুবাইয়ের পাম জুমেরা, মারসা ও বুর্জ খলিফায় তার তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে। পাম জুমেরায় ২ হাজার ১৫৭ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৬ কোটি ৮৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৫৬ টাকা, মারসায় ১ হাজার ৪২০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের মূল্য ১ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং বুর্জ খলিফায় ৯৮৭ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের মূল্য ২ কোটি ৪৪ লাখ ৭৭ হাজার ৮৪০ টাকা।
স্থাবর সম্পদের হিসাবে তার নামে মোট ৮২ কোটি ৯৯ লাখ ৫ হাজার ৭১৭ টাকার জমি ও ভবন রয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় কৃষিজমি, অকৃষিজমি, বহুতল ভবন ও আবাসিক বাড়ি রয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে একরামুজ্জামান ৩৫টি ব্যাংক, সাতটি প্রতিষ্ঠান ও দুই ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ২ হাজার ৯৩৪ কোটি ৯৯ লাখ ৫৩ হাজার ৪৩৪ টাকা ঋণ নিয়েছেন। গত নির্বাচনে তার ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে ঋণ ছিল ১৩৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর একরামুজ্জামানের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় সাতটি মামলা হয়েছে। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে এসব মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন।
নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলার বাসিন্দা সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের জন্ম ১৯৫৭ সালে। তিনি এইচএসসি পাস এবং পেশায় ব্যবসায়ী। বর্তমানে ১২টি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। একাদশ, দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ- তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই তিনি অংশ নিয়েছেন।

ডিজিটাল রিপোর্ট 
























