ময়মনসিংহ , রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আরও সাত হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনে ভারত থেকে আসছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘তেল নেই’ ব্যানার টাঙানো পাম্পে মিললো ১২ হাজার লিটার জ্বালানি নড়াইলে তেল না পেয়ে ট্রাকচাপায় পাম্প ম্যানেজারকে হত্যার অভিযোগ বগুড়া নাতনিকে পাল্লায় তুলে সমান ওজনের ‘পয়সা’ উপহার দিলেন নানা আজ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলল , মানতে হবে নতুন নির্দেশনা আজ সংসদের অধিবেশন বসছে ঈদের ছুটি শেষে মধ্যরাতে মিলল ১৮ ড্রাম অবৈধ জ্বালানি গাজীপুরে ৮০০ লিটার পেট্রোল জব্দ অবৈধভাবে মজুদ করা , ব্যবসায়ীকে জরিমানা দিলারা হাফিজ মারা গেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সহধর্মিণী পূর্বধলায় বিষপানে কিশোরের আত্মহত্যা
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

বগুড়া নাতনিকে পাল্লায় তুলে সমান ওজনের ‘পয়সা’ উপহার দিলেন নানা

২৩ বছর আগে করা স্ত্রীর একটি প্রতিশ্রুতি পূরণের মাধ্যমে নাতনিকে ব্যতিক্রমী উপহার দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা গাড়িচালক আবদুল কাদের। নাতনির বিয়ে ও নানির মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও, অটুট ভালোবাসা আর ইচ্ছাশক্তি দিয়ে শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর শেষ ইচ্ছা পূরণ করলেন তিনি।

গত শুক্রবার নিজের বাড়িতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দাঁড়িপাল্লায় নাতনি নাঈমা খাতুনকে (২৩) বসিয়ে তার সমান ওজনের ৭০ কেজি ৩০০ গ্রাম ধাতব মুদ্রা উপহার হিসেবে প্রদান করেন আবদুল কাদের। এই আয়োজনে আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীসহ প্রায় ১৫০ জন অতিথি অংশ নেন।

ঘটনার সূত্রপাত ২৩ বছর আগে, যখন আবদুল কাদের ও তার স্ত্রী প্রয়াত পাতা বেগমের ঘরে ফেরদৌসী খাতুনের কোলজুড়ে কন্যাসন্তান নাঈমার জন্ম হয়। নাতনির জন্মের পর উচ্ছ্বসিত নানি পাতা বেগম ঘোষণা দিয়েছিলেন, নাঈমার বিয়ের সময় তাকে দাঁড়িপাল্লায় তুলে সমান ওজনের ধাতব মুদ্রা উপহার দেবেন। স্ত্রীর এই ইচ্ছায় সম্মতি জানান নানা আবদুল কাদের। সেই থেকে স্ত্রীর ইচ্ছা পূরণে মাটির ব্যাংকে ধাতব মুদ্রা জমানো শুরু করেন এই দম্পতি।

বছর দুয়েক আগে পাতা বেগম মারা যান। এর কিছু সময় পর নাঈমার বিয়ে হয়। কিন্তু সে সময় মাটির ব্যাংকে প্রয়োজনীয় ধাতব মুদ্রার পরিমাণ কম থাকায় স্ত্রীর সেই ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে যায়। তবে নাতনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর আবদুল কাদের আর বিলম্ব করেননি। নিজের দীর্ঘদিনের জমানো দেড় বস্তা ধাতব মুদ্রা দিয়ে অবশেষে স্ত্রীর করা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা আবদুল কাদেরের ভাতিজা ও বগুড়া জেলা ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হাসান জানান, নাতনির জন্মের সময় করা চাচির সেই ঘোষণাটি পরিবারের সবারই মনে ছিল। চাচি বেঁচে না থাকলেও তার সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে চাচা আবদুল কাদের আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই উপহার প্রদান করেন। মূলত বেশিরভাগ ৫ টাকার মুদ্রার মাধ্যমেই এই ৭০ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজন পূরণ করা হয়েছে। নাতনির প্রতি নানা-নানির এই ভালোবাসার গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সাড়া ফেলেছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আরও সাত হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনে ভারত থেকে আসছে

বগুড়া নাতনিকে পাল্লায় তুলে সমান ওজনের ‘পয়সা’ উপহার দিলেন নানা

আপডেট সময় ১০:০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

২৩ বছর আগে করা স্ত্রীর একটি প্রতিশ্রুতি পূরণের মাধ্যমে নাতনিকে ব্যতিক্রমী উপহার দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা গাড়িচালক আবদুল কাদের। নাতনির বিয়ে ও নানির মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও, অটুট ভালোবাসা আর ইচ্ছাশক্তি দিয়ে শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর শেষ ইচ্ছা পূরণ করলেন তিনি।

গত শুক্রবার নিজের বাড়িতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দাঁড়িপাল্লায় নাতনি নাঈমা খাতুনকে (২৩) বসিয়ে তার সমান ওজনের ৭০ কেজি ৩০০ গ্রাম ধাতব মুদ্রা উপহার হিসেবে প্রদান করেন আবদুল কাদের। এই আয়োজনে আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীসহ প্রায় ১৫০ জন অতিথি অংশ নেন।

ঘটনার সূত্রপাত ২৩ বছর আগে, যখন আবদুল কাদের ও তার স্ত্রী প্রয়াত পাতা বেগমের ঘরে ফেরদৌসী খাতুনের কোলজুড়ে কন্যাসন্তান নাঈমার জন্ম হয়। নাতনির জন্মের পর উচ্ছ্বসিত নানি পাতা বেগম ঘোষণা দিয়েছিলেন, নাঈমার বিয়ের সময় তাকে দাঁড়িপাল্লায় তুলে সমান ওজনের ধাতব মুদ্রা উপহার দেবেন। স্ত্রীর এই ইচ্ছায় সম্মতি জানান নানা আবদুল কাদের। সেই থেকে স্ত্রীর ইচ্ছা পূরণে মাটির ব্যাংকে ধাতব মুদ্রা জমানো শুরু করেন এই দম্পতি।

বছর দুয়েক আগে পাতা বেগম মারা যান। এর কিছু সময় পর নাঈমার বিয়ে হয়। কিন্তু সে সময় মাটির ব্যাংকে প্রয়োজনীয় ধাতব মুদ্রার পরিমাণ কম থাকায় স্ত্রীর সেই ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে যায়। তবে নাতনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর আবদুল কাদের আর বিলম্ব করেননি। নিজের দীর্ঘদিনের জমানো দেড় বস্তা ধাতব মুদ্রা দিয়ে অবশেষে স্ত্রীর করা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা আবদুল কাদেরের ভাতিজা ও বগুড়া জেলা ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হাসান জানান, নাতনির জন্মের সময় করা চাচির সেই ঘোষণাটি পরিবারের সবারই মনে ছিল। চাচি বেঁচে না থাকলেও তার সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে চাচা আবদুল কাদের আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই উপহার প্রদান করেন। মূলত বেশিরভাগ ৫ টাকার মুদ্রার মাধ্যমেই এই ৭০ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজন পূরণ করা হয়েছে। নাতনির প্রতি নানা-নানির এই ভালোবাসার গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সাড়া ফেলেছে।