ময়মনসিংহ , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পঞ্চগড়ে ২৬৮ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় মাঠে র্যাব-১৩ ঝালকাঠিতে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত নেত্রকোণায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বে আর কোথাও নেই বলেছেন রাষ্ট্রপতি চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্গাপূজা ও মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু বীরগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা: সুশীল সমাজ ও যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে পূর্বধলায় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান ‘আমাদের মায়েরা কীভাবে বাঁচবে?’: ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আবেগঘন আহ্বান ​৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার মামলার প্রধান আসামি কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেশবাসীকে হারাধন সূত্রধরের শুভেচ্ছা
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪৫:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৩১ বার পড়া হয়েছে

নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুশীলা কার্কির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান দেন। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে সুশীলা কার্কি এ শপথ নেন। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল। 

এদিকে নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ গ্রহণ করেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান। নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এনডিটিভির।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্কির শপথ গ্রহণের পরই নেপালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৫ মার্চে হবে নির্বাচন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে গত তিন দিনের টানা বিক্ষোভে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সরকারের পতন হয়।

এরপর বুধবার আন্দোলনকারীরা কার্কিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী করতে সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে মনে হয়েছিল।

কিন্তু এর ২৪ ঘণ্টা পরই আন্দোলনকারীদের মধ্যে মতপার্থক্যের খবর মেলে।
শোনা যায়, প্রকৌশলী কুলমান ঘিসিংকে প্রধানমন্ত্রী পদে চাইছেন আন্দোলনকারীদের অনেকে, যিনি নেপালের বিদ্যুৎ সংকট সমাধান করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।

আন্দোলনকারীরা এক বিবৃতিতে তার নামও প্রস্তাব করেছিলেন। কুলমানের নাম উঠে আসায় কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। আর এরও আগে ওলি সরকারের পতনের পরই প্রাথমিকভাবে নাম শোনা গিয়েছিল রাজধানী কাঠমাণ্ডুর নির্দল মেয়র ও জনপ্রিয় র‌্যাপার বলেন্দ্র শাহের।

কিন্তু ৩৫ বছর বয়সী শাহ প্রধানমন্ত্রী হতে আগ্রহী ছিলেন না। বরং তিনি প্রকাশ্যে কার্কির পক্ষেই সমর্থন জানান।

৭২ বছর বয়সী সুশীলা কার্কি নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি ছিলেন। ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ পদে ছিলেন তিনি। সেটিও ছিল ইতিহাস। এখন আরো এক ইতিহাসের সাক্ষী হলো হিমালয়ের দেশ নেপাল।

জেন-জি (তরুণ প্রজন্ম)- যাদের নেতৃত্বে আন্দোলনে কেপি শর্মা ওলি সরকারের পতন ঘটেছে, তাদের মধ্যে সুশীলা কার্কির জনপ্রিয়তা রয়েছে।

সততা, ন্যায়বিচার, নিরপেক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য পরিচিত তিনি। বিশেষ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্কির কঠোর অবস্থানের জন্য তিনি জনপ্রিয়।

বিচারপতি থাকাকালে ক্ষমতাসীন মন্ত্রীকে জেলে পাঠানো থেকে শুরু করে সরাসরি সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতেও পিছপা হননি কার্কি।

তবে তার বিচারপতি জীবন ঝঞ্ঝাটমুক্ত ছিল না। দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে দেখা হয়। জনমতের চাপে শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়। যদিও ঘটনাটি কার্কিকে হতাশ করেছিল এবং তিনি পরে পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এবার তার সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে ২৬৮ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় মাঠে র্যাব-১৩

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে

আপডেট সময় ১০:৪৫:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুশীলা কার্কির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান দেন। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে সুশীলা কার্কি এ শপথ নেন। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল। 

এদিকে নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ গ্রহণ করেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান। নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এনডিটিভির।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্কির শপথ গ্রহণের পরই নেপালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৫ মার্চে হবে নির্বাচন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে গত তিন দিনের টানা বিক্ষোভে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সরকারের পতন হয়।

এরপর বুধবার আন্দোলনকারীরা কার্কিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী করতে সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে মনে হয়েছিল।

কিন্তু এর ২৪ ঘণ্টা পরই আন্দোলনকারীদের মধ্যে মতপার্থক্যের খবর মেলে।
শোনা যায়, প্রকৌশলী কুলমান ঘিসিংকে প্রধানমন্ত্রী পদে চাইছেন আন্দোলনকারীদের অনেকে, যিনি নেপালের বিদ্যুৎ সংকট সমাধান করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।

আন্দোলনকারীরা এক বিবৃতিতে তার নামও প্রস্তাব করেছিলেন। কুলমানের নাম উঠে আসায় কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। আর এরও আগে ওলি সরকারের পতনের পরই প্রাথমিকভাবে নাম শোনা গিয়েছিল রাজধানী কাঠমাণ্ডুর নির্দল মেয়র ও জনপ্রিয় র‌্যাপার বলেন্দ্র শাহের।

কিন্তু ৩৫ বছর বয়সী শাহ প্রধানমন্ত্রী হতে আগ্রহী ছিলেন না। বরং তিনি প্রকাশ্যে কার্কির পক্ষেই সমর্থন জানান।

৭২ বছর বয়সী সুশীলা কার্কি নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি ছিলেন। ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ পদে ছিলেন তিনি। সেটিও ছিল ইতিহাস। এখন আরো এক ইতিহাসের সাক্ষী হলো হিমালয়ের দেশ নেপাল।

জেন-জি (তরুণ প্রজন্ম)- যাদের নেতৃত্বে আন্দোলনে কেপি শর্মা ওলি সরকারের পতন ঘটেছে, তাদের মধ্যে সুশীলা কার্কির জনপ্রিয়তা রয়েছে।

সততা, ন্যায়বিচার, নিরপেক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য পরিচিত তিনি। বিশেষ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্কির কঠোর অবস্থানের জন্য তিনি জনপ্রিয়।

বিচারপতি থাকাকালে ক্ষমতাসীন মন্ত্রীকে জেলে পাঠানো থেকে শুরু করে সরাসরি সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতেও পিছপা হননি কার্কি।

তবে তার বিচারপতি জীবন ঝঞ্ঝাটমুক্ত ছিল না। দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে দেখা হয়। জনমতের চাপে শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়। যদিও ঘটনাটি কার্কিকে হতাশ করেছিল এবং তিনি পরে পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এবার তার সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।