যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, অটোপেন ব্যবহার করে জো বাইডেনের স্বাক্ষরিত সব নথি ও নির্বাহী আদেশ বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘অটোপেন ব্যবহারের মাধ্যমে বাইডেনের স্বাক্ষরিত যেকোনো নথি এতদ্বারা বাতিল করা হলো। এসব নথির আর কোনো কার্যকারিতা থাকবে না।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘অটোপেন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্তরা অবৈধভাবে এসব নথি প্রস্তুত করেছেন এবং বাইডেন নিজে প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন না।’
আমেরিকান প্রেসিডেন্সি প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি হিসেবে জো বাইডেন মোট ১৬২টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে এর কতগুলো অটোপেন ব্যবহার করে স্বাক্ষরিত হয়েছিল তা পরিষ্কার নয়। প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনের পর আগের প্রশাসনের নির্বাহী আদেশ বাতিল করা যুক্তরাষ্ট্রে অস্বাভাবিক নয়।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, বাইডেন প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে অটোপেন ব্যবহার করে রাষ্ট্রপতির নথিতে স্বাক্ষর করেছেন, যা তিনি ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে আখ্যা দেন। তবে গত জুলাইয়ে জো বাইডেন এ অভিযোগকে ‘নিরর্থক ও মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে সব সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নিয়েছেন।
হাউস রিপাবলিকানদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বাইডেনের অটোপেন ব্যবহারের সমালোচনা করা হলেও কোনো ষড়যন্ত্রের প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিরা বহু বছর ধরেই অটোপেন ব্যবহার করে আসছেন। ২০০৫ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের বিচার বিভাগ বলেছিল, রাষ্ট্রপতির পক্ষে বিল স্বাক্ষরে অটোপেন ব্যবহার করা আইনসম্মত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছরের মার্চে নিজেও স্বীকার করেছেন ট্রাম্প তিনি ‘অতি তুচ্ছ কাগজপত্র’ স্বাক্ষরে অটোপেন ব্যবহার করেছেন।
উল্লেখ্য, অটোপেন হলো একটি রোবোটিক ডিভাইস, যা একটি যান্ত্রিক বাহু ব্যবহার করে আসল কলম দিয়ে একটি ব্যক্তির স্বাক্ষর নকল করে। এটি হাতে লেখা অক্ষরের মতো দেখতে স্বাক্ষর তৈরি করে এবং বিশেষত চিঠিপত্র, বই বা অন্যান্য নথিতে হাজার হাজার স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।

ডিজিটাল ডেস্ক 























