ময়মনসিংহ , রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মৃদু ভূমিকম্প ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমানের সমাবেশ, ভোর থেকেই পলোগ্রাউন্ডে নেতাকর্মীদের ঢল চট্টগ্রামে বাতিল হলো জবির আন্তঃবিভাগ ফুটবল ম্যাচ জামায়াতের সমাবেশের কারণে রান্নার চুলা জ্বালাতে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ, গ্যাস ও এলপিজির সংকট প্রায় ২২ হাজার অপারেশন ডেভিল হান্টে গ্রেপ্তার অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে ভারত বলেছেন প্রণয় ভার্মা ‘ ঈমাম খোমেনি-মাহাথির মোহাম্মদকে দেখছে জনগণ জামায়াত আমিরের মধ্যে’ নির্বাচন ব্যবস্থায় কোনো নিরপেক্ষতা দেখছি না বলে মন্তব্য করেছেন জি এম কাদের জামায়াত ক্ষমতায় আসলে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত করবে জানিয়েছেন শফিকুর রহমান গৌরীপুরে আনসার-ভিডিপি’র সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রমে ৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও মেরামত
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

বাতিল হলো জবির আন্তঃবিভাগ ফুটবল ম্যাচ জামায়াতের সমাবেশের কারণে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ধূপখোলায় চলমান আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার মাঝেই জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনি সমাবেশ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এই সমালোচনার প্রেক্ষাপটে শনিবার(২৪ জুলাই) রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া কমিটি রোববারের সব ম্যাচ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।

পোস্টে তিনি লেখেন, “আগামীকাল দুপুর ২টায়, ইনশাআল্লাহ।” এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান হাসান রাব্বি ফেইসবুকে লেখেন, “ক্রীড়া কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ্ধতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমাদের ক্রীড়া সম্পাদক জামায়াতের সমাবেশের প্রচারণা করছেন। কোনো লিখিত অনুমতি ছাড়া খেলা পেছিয়ে সমাবেশ করা কি ক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা নয়?”

আরেক শিক্ষার্থী আল শাহরিয়ার শাওন লেখেন, “একই মাঠে আগামীকাল আন্তঃবিভাগীয় খেলা হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে জামায়াতের স্টেজ বানানো হচ্ছে। মাঠের অবস্থা বা খেলোয়াড়দের কথা না ভেবে ক্রীড়া সম্পাদক সমাবেশের প্রচারণায় ব্যস্ত।”

সমালোচনার বিষয়ে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম গণমাধ্যমকে বলেন, তার পোস্টকে কেন্দ্র করে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা কষ্ট পেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার সর্বোচ্চ প্রাধান্য শিক্ষার্থীরাই।”

খেলা স্থগিত প্রসঙ্গে তিনি জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে তখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে এক দিনের বেশি যেন খেলা বন্ধ না থাকে সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া কমিটির সূচি অনুযায়ী রোববার দর্শন বনাম মনোবিজ্ঞান, আইন ও ভূমি প্রশাসন বনাম রসায়ন এবং লোকপ্রশাসন বনাম পরিসংখ্যান বিভাগের ম্যাচগুলো হওয়ার কথা ছিল।

অন্যদিকে, একই দিন দুপুর ২টায় ধূপখোলা মাঠে ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মান্নানের নির্বাচনি সমাবেশ আহ্বান করা হয়। এতে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে রাত ১০টার দিকে রোববারের খেলাগুলো স্থগিতের তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া কমিটির সদস্য সচিব ও শরীরচর্চা শিক্ষা কেন্দ্রের উপ-পরিচালক গৌতম কুমার দাস। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকায় রোববারের খেলাগুলো স্থগিত রাখা হয়েছে এবং সব দলকে জানানো হয়েছে।”

এর আগে ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক রইছ উদ্দিন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিযোগিতা শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও খেলা বন্ধ থাকলে তা অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিটি করপোরেশন, ঢাকা মহানগর পুলিশ ও রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি নিয়েই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

সমালোচনার পর রাতে ফেইসবুকে দেওয়া আরেক পোস্টে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক দাবি করেন, ধূপখোলা মাঠ ব্যবহারে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত অনুমতি না থাকলেও মৌখিক সম্মতি রয়েছে এবং মাঠের পূর্ণ কর্তৃত্ব সিটি করপোরেশনের। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উপাচার্যের নির্দেশেই খেলা পেছানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মৃদু ভূমিকম্প ঠাকুরগাঁওয়ে

বাতিল হলো জবির আন্তঃবিভাগ ফুটবল ম্যাচ জামায়াতের সমাবেশের কারণে

আপডেট সময় ০৯:৫৬:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ধূপখোলায় চলমান আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার মাঝেই জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনি সমাবেশ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এই সমালোচনার প্রেক্ষাপটে শনিবার(২৪ জুলাই) রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া কমিটি রোববারের সব ম্যাচ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।

পোস্টে তিনি লেখেন, “আগামীকাল দুপুর ২টায়, ইনশাআল্লাহ।” এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান হাসান রাব্বি ফেইসবুকে লেখেন, “ক্রীড়া কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ্ধতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমাদের ক্রীড়া সম্পাদক জামায়াতের সমাবেশের প্রচারণা করছেন। কোনো লিখিত অনুমতি ছাড়া খেলা পেছিয়ে সমাবেশ করা কি ক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা নয়?”

আরেক শিক্ষার্থী আল শাহরিয়ার শাওন লেখেন, “একই মাঠে আগামীকাল আন্তঃবিভাগীয় খেলা হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে জামায়াতের স্টেজ বানানো হচ্ছে। মাঠের অবস্থা বা খেলোয়াড়দের কথা না ভেবে ক্রীড়া সম্পাদক সমাবেশের প্রচারণায় ব্যস্ত।”

সমালোচনার বিষয়ে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম গণমাধ্যমকে বলেন, তার পোস্টকে কেন্দ্র করে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা কষ্ট পেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার সর্বোচ্চ প্রাধান্য শিক্ষার্থীরাই।”

খেলা স্থগিত প্রসঙ্গে তিনি জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে তখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে এক দিনের বেশি যেন খেলা বন্ধ না থাকে সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া কমিটির সূচি অনুযায়ী রোববার দর্শন বনাম মনোবিজ্ঞান, আইন ও ভূমি প্রশাসন বনাম রসায়ন এবং লোকপ্রশাসন বনাম পরিসংখ্যান বিভাগের ম্যাচগুলো হওয়ার কথা ছিল।

অন্যদিকে, একই দিন দুপুর ২টায় ধূপখোলা মাঠে ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মান্নানের নির্বাচনি সমাবেশ আহ্বান করা হয়। এতে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে রাত ১০টার দিকে রোববারের খেলাগুলো স্থগিতের তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া কমিটির সদস্য সচিব ও শরীরচর্চা শিক্ষা কেন্দ্রের উপ-পরিচালক গৌতম কুমার দাস। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকায় রোববারের খেলাগুলো স্থগিত রাখা হয়েছে এবং সব দলকে জানানো হয়েছে।”

এর আগে ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক রইছ উদ্দিন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিযোগিতা শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও খেলা বন্ধ থাকলে তা অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিটি করপোরেশন, ঢাকা মহানগর পুলিশ ও রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি নিয়েই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

সমালোচনার পর রাতে ফেইসবুকে দেওয়া আরেক পোস্টে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক দাবি করেন, ধূপখোলা মাঠ ব্যবহারে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত অনুমতি না থাকলেও মৌখিক সম্মতি রয়েছে এবং মাঠের পূর্ণ কর্তৃত্ব সিটি করপোরেশনের। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উপাচার্যের নির্দেশেই খেলা পেছানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।