আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যশোর-খুলনা ও যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে যানজট ও ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে এই দুই সড়কে ধীরগতির যান চলাচল ও মাঝেমধ্যে যানজটের চিত্র দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ বাজার এবং থ্রি-হুইলারসহ ধীরগতির যানবাহনের অবাধ চলাচল যানজটের অন্যতম কারণ। এছাড়া কোথাও কোথাও সড়ক প্রশস্তকরণ ও মেরামতের কাজ চলায় যানবাহন ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে।
অন্যদিকে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের অবস্থা আরও নাজুক। সড়কটিকে ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলায় বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, উঠে গেছে পিচ এবং অনেক জায়গায় রাস্তার ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি যশোরের চাঁচড়া থেকে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত এবং খুলনা অঞ্চলের সঙ্গে রাজশাহী ও উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ রক্ষা করে। প্রতিদিন হাজার হাজার বাস, ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। ফলে ঈদযাত্রায় এই সড়কে চরম দুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা রিপন মিয়া জানান, প্রায় প্রতিদিনই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে। বর্ষাকালে গর্তে পানি জমে সড়ক আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, আর শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে মানুষের শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের কাজ চললেও অগ্রগতি খুবই ধীর বলে অভিযোগ তার।
তবে যশোর-বেনাপোল, যশোর-সাতক্ষীরা, যশোর-মাগুরা ও যশোর-নড়াইল মহাসড়কে বড় কোনো গর্ত বা মেরামতকাজ না থাকায় এসব সড়কে ঈদযাত্রায় তেমন সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
যশোর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া জানান, যশোর-খুলনা মহাসড়কের বসুন্দিয়া অংশে ঢালাই কাজ চলমান থাকায় ঈদের আগে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে সেখানে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। একইভাবে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের অবস্থাও নাজুক এবং সেখানে সংস্কারকাজ চলায় ঈদের সময় যানজট হতে পারে। তবে যশোরের অন্যান্য মহাসড়কে বড় ধরনের সমস্যার আশঙ্কা নেই বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ডিজিটাল ডেস্ক 




















