ময়মনসিংহ , শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ষষ্ঠ দিনে গড়াচ্ছে তিতুমীর শিক্ষার্থীদের অনশন

  • স্টাফ রির্পোটার
  • আপডেট সময় ০১:০০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণার দাবিতে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো আমরণ অনশনে করছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে আজ বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ‘বারাসাত ব্যারিকেড টু নর্থ সিটি’ কর্মসূচি পালন করতে ক্যাম্পাসের জড়ো হচ্ছেন অন্যান্য ছাত্ররা। তবে এখন পর্যন্ত এই কর্মসূচির সমর্থনে কাউকে কোনো ধরনের বক্তব্য কিংবা কার্যক্রম পালন করতে দেখা যায়নি।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে তিতুমীর কলেজ ঘুরে দেখা গেছে, কলেজের মূল ফটকের সামনে অনশন করছেন ৬ জন শিক্ষার্থী। এর চারপাশে দাঁড়িয়ে আছেন অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। আর ক্যাম্পাসের ভেতরে চলছে সরস্বতী পূজা। সেখানে অবাধে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারছেন। এছাড়া এর বাইরে অন্য কোনো কার্যক্রম কিংবা অবরোধের সমর্থনে মিছিল স্লোগান দিতে কাউকে দেখা যায়নি।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের সংগঠন তিতুমীর ঐক্যের উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান মুক্তার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে দ্বিচারিতা করছে। আমরা গতকাল আজকে অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু বিশ্ব এজতেমার জন্য বেলা ১১টা থেকে অবরোধ শিথিল করেছিলাম।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর আমাদের একটি ধারণা হয়েছিল যে, শিক্ষার্থীবান্ধব একটি রাষ্ট্র হবে। যারা শিক্ষার্থীদের কথাগুলো চিন্তা করবে। আমাদের এসব কর্মসূচির জন্য অনেকেই আমাদের ওপর রাগ করে আছেন। আমরা তাদের কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আপনাদের সন্তান। রাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে দ্বিচারিতা করছে।

এসময় তিনি ৩ দফা দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হচ্ছে —

১. তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে হবে।

২. শিক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করে যোগ্যতা বিবেচনায় নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে।

৩. তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর আইন উপদেষ্টার চাপ সৃষ্টি করার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টির দায়ভার মাথায় নিয়ে আইন উপদেষ্টাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে বেশ কয়েকমাস ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। এই দাবিতে মিছিল, সড়ক-রেলপথ অবরোধ, স্মারকলিপি প্রদান, ক্লাস বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়। তবে সম্প্রতি এ বিষয়ে ইতিবাচক কোনো সাড়া না পেয়ে গত বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল থেকে দাবি আদায়ে আমরণ অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ষষ্ঠ দিনে গড়াচ্ছে তিতুমীর শিক্ষার্থীদের অনশন

আপডেট সময় ০১:০০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণার দাবিতে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো আমরণ অনশনে করছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে আজ বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ‘বারাসাত ব্যারিকেড টু নর্থ সিটি’ কর্মসূচি পালন করতে ক্যাম্পাসের জড়ো হচ্ছেন অন্যান্য ছাত্ররা। তবে এখন পর্যন্ত এই কর্মসূচির সমর্থনে কাউকে কোনো ধরনের বক্তব্য কিংবা কার্যক্রম পালন করতে দেখা যায়নি।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে তিতুমীর কলেজ ঘুরে দেখা গেছে, কলেজের মূল ফটকের সামনে অনশন করছেন ৬ জন শিক্ষার্থী। এর চারপাশে দাঁড়িয়ে আছেন অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। আর ক্যাম্পাসের ভেতরে চলছে সরস্বতী পূজা। সেখানে অবাধে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারছেন। এছাড়া এর বাইরে অন্য কোনো কার্যক্রম কিংবা অবরোধের সমর্থনে মিছিল স্লোগান দিতে কাউকে দেখা যায়নি।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের সংগঠন তিতুমীর ঐক্যের উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান মুক্তার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে দ্বিচারিতা করছে। আমরা গতকাল আজকে অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু বিশ্ব এজতেমার জন্য বেলা ১১টা থেকে অবরোধ শিথিল করেছিলাম।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর আমাদের একটি ধারণা হয়েছিল যে, শিক্ষার্থীবান্ধব একটি রাষ্ট্র হবে। যারা শিক্ষার্থীদের কথাগুলো চিন্তা করবে। আমাদের এসব কর্মসূচির জন্য অনেকেই আমাদের ওপর রাগ করে আছেন। আমরা তাদের কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আপনাদের সন্তান। রাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে দ্বিচারিতা করছে।

এসময় তিনি ৩ দফা দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হচ্ছে —

১. তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে হবে।

২. শিক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করে যোগ্যতা বিবেচনায় নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে।

৩. তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন গঠন প্রক্রিয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর আইন উপদেষ্টার চাপ সৃষ্টি করার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টির দায়ভার মাথায় নিয়ে আইন উপদেষ্টাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে বেশ কয়েকমাস ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। এই দাবিতে মিছিল, সড়ক-রেলপথ অবরোধ, স্মারকলিপি প্রদান, ক্লাস বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়। তবে সম্প্রতি এ বিষয়ে ইতিবাচক কোনো সাড়া না পেয়ে গত বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল থেকে দাবি আদায়ে আমরণ অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।