ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিডিআর হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা আসামি হচ্ছেন ৫ আগস্ট বঙ্গভবনে কী ঘটছিল: রাষ্ট্রপতি রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ চট্টগ্রামে : মায়ের পর চলে গেল ছেলে আজ শেখ হাসিনা-কামালের সাজা বৃদ্ধি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানি কুমিল্লা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি শ্রেষ্ঠ নির্বাচন হয়েছে বলেছেন মাসুদ সাঈদী হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া আসনের উন্নয়নে সকলের সহযোগীতা প্রত্যাশী প্রধানমন্ত্রী ১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন শপিং সেন্টারে আগুন খুলনায়, পুড়লো ১০টি মোবাইল ফোনের দোকান রাজশাহী রাতের আঁধারে দুই পানের বরজে আগুন
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

সরকারের বিরুদ্ধে লেখার কৌশল শিখিয়ে গেছেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া বললেন কাদের গনি চৌধুরী

  • ডিজিটাল রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:১৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৮৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, আপনারা তফাজ্জাল হোসেন মানিক মিয়ার কথা শুনেছেন।সরকারের বিরুদ্ধে লেখার কৌশল শিখিয়ে গেছেন তিনি। তিনি একবার ইত্তেফাকের প্রথম পৃষ্ঠার কিছু জায়গা খালি রেখে লিখলেন, ‘এ বিষয়ে আর কিছু ছাপানো গেল না সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে’। এ ধরনের প্রতিবাদ আজ নেই। কারণ এখন মিডিয়া হাউজগুলোর মুনাফামুখী সাংবাদিকতার নীতিগত অবস্থান অনেকের কাছে এখন আদর্শের বিষয় নয়। 

তিনি বলেন, মানিক মিয়া মালিক সম্পাদক হলেও নিজের প্রতিষ্ঠানকে মুনাফামুখী করেন না। সাংবাদিকতার আদর্শকে বিসর্জন দেননি। সত্য প্রকাশে কখনো দ্বিধা করেননি। সাহস করে সামরিক শাসকের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়েছিলেন।তার উত্তরসূরি হিসেবে আমাদেরকে তার নীতি ধারণ করতে হবে।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতার তিনটি বড় শর্ত হচ্ছে সততা, নির্ভুলতা, পক্ষপাতহীনতা। মুক্ত সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের সাহসী হতে হয়। লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থাকতে হয়। বিবেককে জাগ্রত রাখতে হয়। আমাদের পূর্বসূরিরা যেটা পেরেছে আমরা আজ পারছি না। আমরা নিজ থেকেই যেন আত্মসমর্পণ করে বসে আছি। সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের অন্যতম ইন্দ্রিয়। যার মাধ্যমে একটা রাষ্ট্রের সঠিক ধারণা পাওয়া যায়। সুশাসন নিশ্চিত করতে সংবাদ মাধ্যম পাহারাদারের ভূমিকা পালন করে। এ জন্য সংবাদ মাধ্যমকে সমাজের দর্পণ বলা হয়। সে দর্পণে প্রতিবিম্বিত হয় সমাজের চিত্র। মনে রাখবেন যা বস্তুনিষ্ঠ তা সত্য, তাই সুন্দর। যা সুন্দর ত শান্তির তা কল্যাণের। সৎ সাংবাদিকতা সত্যের আরাধনা করে। সকল ভয়-ভীতি, লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে সত্য তুলে ধরাই হচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকের কাজ। যারা এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সাহস রাখেন না তাদের জন্য অন্তত সাংবাদিকতা নয়। সাংবাদিকতায় প্রথম বাধ্যবাধকতা হচ্ছে সত্যের প্রতি।  দায়বদ্ধতা কেবল দেশ ও জনগণের প্রতি। সাংবাদিকতার মুল মন্ত্র হচ্ছে কোনো ক্ষেত্রে মিথ্যা সাথে আপোষ না। আপস শব্দটি সাংবাদিকতার ডিকশনারিতে নেই। সত্যের তরে দৈত্যের সাথে লড়াই করা সাংবাদিকতা।

তিনি বলেন, দু’টি একটি বাদ দিলে গণমাধ্যমে হাউজগুলোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিকতা নেই। তাই তারা সাংবাদিকতা নিরপেক্ষ অবস্থান সমর্থন করতে পারে না। বরং অধিকার মালিক তাদের গণমাধ্যমকে তাদের ব্যবসা ও রাজনীতির ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। কিছু কিছু গণমাধ্যমের চরিত্র এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে সরকার আসে উনাদের গণমাধ্যমগুলো ওই সরকারকে উপঢৌকন দেন। এটা সাংবাদিকতার জন্য বিশাল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে যেনতেনভাবে পত্রিকা বের করে সম্পাদক বনে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সম্পাদকরা ৫০ কপি পত্রিকা বের করে বগলে চেপে সচিবালয়ে ঢুকেন। এসব বগল সম্পাদকদের দাপটে আসল সম্পাদকরা কোনঠাসা। এরা তথ্য সন্ত্রাসকে পুঁজি করে বিপুল অর্থের মালিক বনে যাচ্ছেন।

হলুদ সাংবাদিকতা, অপসাংবাদিকতা ও তথ্যসন্ত্রাস সাংবাদিকতার মর্যাদাকে ম্লান করে দিচ্ছে। সাংবাদিকরা যদি ভাড়াটে লোকের মতো পেশাকে ব্যবহার করেন তা হলে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। মনে রাখবেন, সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্য ও ন্যায়নিষ্ঠার প্রতীক। সাংবাদিকতা সমাজকে এগিয়ে নেয়, গণতন্ত্রকে বিকশিত করে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিডিআর হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা আসামি হচ্ছেন

সরকারের বিরুদ্ধে লেখার কৌশল শিখিয়ে গেছেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া বললেন কাদের গনি চৌধুরী

আপডেট সময় ০৩:১৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, আপনারা তফাজ্জাল হোসেন মানিক মিয়ার কথা শুনেছেন।সরকারের বিরুদ্ধে লেখার কৌশল শিখিয়ে গেছেন তিনি। তিনি একবার ইত্তেফাকের প্রথম পৃষ্ঠার কিছু জায়গা খালি রেখে লিখলেন, ‘এ বিষয়ে আর কিছু ছাপানো গেল না সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে’। এ ধরনের প্রতিবাদ আজ নেই। কারণ এখন মিডিয়া হাউজগুলোর মুনাফামুখী সাংবাদিকতার নীতিগত অবস্থান অনেকের কাছে এখন আদর্শের বিষয় নয়। 

তিনি বলেন, মানিক মিয়া মালিক সম্পাদক হলেও নিজের প্রতিষ্ঠানকে মুনাফামুখী করেন না। সাংবাদিকতার আদর্শকে বিসর্জন দেননি। সত্য প্রকাশে কখনো দ্বিধা করেননি। সাহস করে সামরিক শাসকের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়েছিলেন।তার উত্তরসূরি হিসেবে আমাদেরকে তার নীতি ধারণ করতে হবে।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতার তিনটি বড় শর্ত হচ্ছে সততা, নির্ভুলতা, পক্ষপাতহীনতা। মুক্ত সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের সাহসী হতে হয়। লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থাকতে হয়। বিবেককে জাগ্রত রাখতে হয়। আমাদের পূর্বসূরিরা যেটা পেরেছে আমরা আজ পারছি না। আমরা নিজ থেকেই যেন আত্মসমর্পণ করে বসে আছি। সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের অন্যতম ইন্দ্রিয়। যার মাধ্যমে একটা রাষ্ট্রের সঠিক ধারণা পাওয়া যায়। সুশাসন নিশ্চিত করতে সংবাদ মাধ্যম পাহারাদারের ভূমিকা পালন করে। এ জন্য সংবাদ মাধ্যমকে সমাজের দর্পণ বলা হয়। সে দর্পণে প্রতিবিম্বিত হয় সমাজের চিত্র। মনে রাখবেন যা বস্তুনিষ্ঠ তা সত্য, তাই সুন্দর। যা সুন্দর ত শান্তির তা কল্যাণের। সৎ সাংবাদিকতা সত্যের আরাধনা করে। সকল ভয়-ভীতি, লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে সত্য তুলে ধরাই হচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকের কাজ। যারা এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সাহস রাখেন না তাদের জন্য অন্তত সাংবাদিকতা নয়। সাংবাদিকতায় প্রথম বাধ্যবাধকতা হচ্ছে সত্যের প্রতি।  দায়বদ্ধতা কেবল দেশ ও জনগণের প্রতি। সাংবাদিকতার মুল মন্ত্র হচ্ছে কোনো ক্ষেত্রে মিথ্যা সাথে আপোষ না। আপস শব্দটি সাংবাদিকতার ডিকশনারিতে নেই। সত্যের তরে দৈত্যের সাথে লড়াই করা সাংবাদিকতা।

তিনি বলেন, দু’টি একটি বাদ দিলে গণমাধ্যমে হাউজগুলোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিকতা নেই। তাই তারা সাংবাদিকতা নিরপেক্ষ অবস্থান সমর্থন করতে পারে না। বরং অধিকার মালিক তাদের গণমাধ্যমকে তাদের ব্যবসা ও রাজনীতির ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। কিছু কিছু গণমাধ্যমের চরিত্র এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে সরকার আসে উনাদের গণমাধ্যমগুলো ওই সরকারকে উপঢৌকন দেন। এটা সাংবাদিকতার জন্য বিশাল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে যেনতেনভাবে পত্রিকা বের করে সম্পাদক বনে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সম্পাদকরা ৫০ কপি পত্রিকা বের করে বগলে চেপে সচিবালয়ে ঢুকেন। এসব বগল সম্পাদকদের দাপটে আসল সম্পাদকরা কোনঠাসা। এরা তথ্য সন্ত্রাসকে পুঁজি করে বিপুল অর্থের মালিক বনে যাচ্ছেন।

হলুদ সাংবাদিকতা, অপসাংবাদিকতা ও তথ্যসন্ত্রাস সাংবাদিকতার মর্যাদাকে ম্লান করে দিচ্ছে। সাংবাদিকরা যদি ভাড়াটে লোকের মতো পেশাকে ব্যবহার করেন তা হলে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। মনে রাখবেন, সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্য ও ন্যায়নিষ্ঠার প্রতীক। সাংবাদিকতা সমাজকে এগিয়ে নেয়, গণতন্ত্রকে বিকশিত করে বলে জানান তিনি।