ময়মনসিংহ , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

বালুমহাল নিয়ে বিরোধ, চট্টগ্রামে দুজনকে গুলি করে হত্যা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১০:৫৫:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের চকবাজার থানার চন্দনপুরা বাকলিয়ায় বালুমহাল নিয়ে বিরোধের জেরে গুলি করে দুজনকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়াও গুলিতে আহত হয়েছেন আরও দুজন।

শনিবার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—মো. আব্দুল্লাহ ও প্রাইভেটকার চালক মানিক। রবিন নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ছাড়াও হৃদয় নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

দুজনকে গুলি করে হত্যা করার বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেন নগরের বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছোট সাজ্জাদ ও সরওয়ার গ্রুপের মধ্যে বালুমহাল নিয়ে বিরোধের জেরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ছোট সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করতে সহযোগিতা করার সূত্র ধরে ঘটনার সূত্রপাত হয়।

সরওয়ার গ্রুপ বালুমহাল দেখে ফেরার পথে সাজ্জাদ গ্রুপ অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। সরওয়ার গ্রুপ প্রাইভেটকার নিয়ে যাওয়ার পথে রাজাহালী এলাকায় তাদের প্রাইভেটকারের পেছনে ধাওয়া করেন ছোট সাজ্জাদ গ্রুপের সদস্যরা।

ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীরা বাংলানিউজকে বলেন, প্রাইভেটকার পেছন থেকে নগরের বাকলিয়া থানার নতুন বিজ্রের পর থেকে ধাওয়া করে চার থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেল। পেছন থেকে একাধিকবার প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে এবং ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। প্রাইভেটকার থেকেও পিস্তল নিয়ে মহরা দেন সন্ত্রাসীরা।

নগরের চকবাজার থানার বাকলিয়ার এক্সরোড চন্দপুরা অংশে এসে প্রাইভেটকারে গুলি করে। গুলিতে সামনের সিটে বসা চালকসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হন। সেখান থেকে ৪ জনকে উদ্ধার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুলিবিদ্ধ অন্য দুজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

প্রাইভেটকারে থাকা হৃদয় নামে একজন গুলিবিদ্ধ বাংলানিউজকে বলেন, কর্ণফুলী নদীর পাড়ে বালুমহাল দেখতে একটি প্রাইভেটকার নিয়ে গিয়েছিলেন আব্দুল্লাহসহ ৬ জন। সেখান থেকে রাত সোয়া দুইটার দিকে বের হয়ে তুলাতলী এলাকায় এলে পেছন থেকে চার থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেল আমাদের ধাওয়া করে। পেছন থেকে আমাদের লক্ষ্য করে একাধিক স্থানে একাধিক বার গুলি করে। এক্সরোড চন্দনপুরা এলাকায় এলে ছোট সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ডার হাসান ও খোরশেদরা গুলি করে সামনে চালকের সিটে থাকা একজন ও পাশের সিটের জন গুলিবিদ্ধ হন। আমি পেছনের সিটে শুয়ে গিয়ে কোনরকম বেঁচে গেছি এবং হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছি। এ ছাড়াও গাড়িতে থাকা রবিনও গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গাড়িতে থাকা ইমন ও সরওয়ার গাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিন দেখা গেছে, প্রাইভেটকারটির (চট্টগ্রাম মেট্টো-গ ১২-৯০৬৮) পেছনের গ্লাসে তিনটি গুলি ও পেছনে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। গাড়ির চালকের সিটে ও পাশের সিটেও রক্ত লেগে রয়েছে। গাড়ির একাধিক কাগজপত্র রক্তের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির বাংলানিউজকে বলেন, বাকলিয়া থানার রাজাখালী থেকে একটি প্রাইভেটকারকে ধাওয়া করে মোটরসাইকেল আরোহীদের একটি গ্রুপ। চন্দনপুরায় গুলির ঘটনা ঘটে। গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মরদেহ দুটি জরুরি বিভাগের লাশঘরে রয়েছে। জরুরি বিভাগের প্রবেশ পথে স্বজনরা আহাজারি করছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

বালুমহাল নিয়ে বিরোধ, চট্টগ্রামে দুজনকে গুলি করে হত্যা

আপডেট সময় ১০:৫৫:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫

চট্টগ্রামের চকবাজার থানার চন্দনপুরা বাকলিয়ায় বালুমহাল নিয়ে বিরোধের জেরে গুলি করে দুজনকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়াও গুলিতে আহত হয়েছেন আরও দুজন।

শনিবার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—মো. আব্দুল্লাহ ও প্রাইভেটকার চালক মানিক। রবিন নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ছাড়াও হৃদয় নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

দুজনকে গুলি করে হত্যা করার বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেন নগরের বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছোট সাজ্জাদ ও সরওয়ার গ্রুপের মধ্যে বালুমহাল নিয়ে বিরোধের জেরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ছোট সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করতে সহযোগিতা করার সূত্র ধরে ঘটনার সূত্রপাত হয়।

সরওয়ার গ্রুপ বালুমহাল দেখে ফেরার পথে সাজ্জাদ গ্রুপ অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। সরওয়ার গ্রুপ প্রাইভেটকার নিয়ে যাওয়ার পথে রাজাহালী এলাকায় তাদের প্রাইভেটকারের পেছনে ধাওয়া করেন ছোট সাজ্জাদ গ্রুপের সদস্যরা।

ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীরা বাংলানিউজকে বলেন, প্রাইভেটকার পেছন থেকে নগরের বাকলিয়া থানার নতুন বিজ্রের পর থেকে ধাওয়া করে চার থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেল। পেছন থেকে একাধিকবার প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে এবং ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। প্রাইভেটকার থেকেও পিস্তল নিয়ে মহরা দেন সন্ত্রাসীরা।

নগরের চকবাজার থানার বাকলিয়ার এক্সরোড চন্দপুরা অংশে এসে প্রাইভেটকারে গুলি করে। গুলিতে সামনের সিটে বসা চালকসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হন। সেখান থেকে ৪ জনকে উদ্ধার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুলিবিদ্ধ অন্য দুজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

প্রাইভেটকারে থাকা হৃদয় নামে একজন গুলিবিদ্ধ বাংলানিউজকে বলেন, কর্ণফুলী নদীর পাড়ে বালুমহাল দেখতে একটি প্রাইভেটকার নিয়ে গিয়েছিলেন আব্দুল্লাহসহ ৬ জন। সেখান থেকে রাত সোয়া দুইটার দিকে বের হয়ে তুলাতলী এলাকায় এলে পেছন থেকে চার থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেল আমাদের ধাওয়া করে। পেছন থেকে আমাদের লক্ষ্য করে একাধিক স্থানে একাধিক বার গুলি করে। এক্সরোড চন্দনপুরা এলাকায় এলে ছোট সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ডার হাসান ও খোরশেদরা গুলি করে সামনে চালকের সিটে থাকা একজন ও পাশের সিটের জন গুলিবিদ্ধ হন। আমি পেছনের সিটে শুয়ে গিয়ে কোনরকম বেঁচে গেছি এবং হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছি। এ ছাড়াও গাড়িতে থাকা রবিনও গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গাড়িতে থাকা ইমন ও সরওয়ার গাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিন দেখা গেছে, প্রাইভেটকারটির (চট্টগ্রাম মেট্টো-গ ১২-৯০৬৮) পেছনের গ্লাসে তিনটি গুলি ও পেছনে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। গাড়ির চালকের সিটে ও পাশের সিটেও রক্ত লেগে রয়েছে। গাড়ির একাধিক কাগজপত্র রক্তের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির বাংলানিউজকে বলেন, বাকলিয়া থানার রাজাখালী থেকে একটি প্রাইভেটকারকে ধাওয়া করে মোটরসাইকেল আরোহীদের একটি গ্রুপ। চন্দনপুরায় গুলির ঘটনা ঘটে। গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মরদেহ দুটি জরুরি বিভাগের লাশঘরে রয়েছে। জরুরি বিভাগের প্রবেশ পথে স্বজনরা আহাজারি করছেন।