ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
​দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশাবাদ তারেক রহমানের পদত্যাগ করলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বদিউজ্জামান তপাদার সমুদ্রসীমা সঠিকভাবে বুঝে পেলেও বিগত সময়ে খনিজসম্পদ আহরণ হয়নি জানিয়েছেন নৌমন্ত্রী বিএনপি অফিসে হামলা ও ভাঙচুর: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাহাঙ্গীর স্যারকে বিদায় জানাল জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ​নেত্রকোণার পূর্বধলায় একটি টেলিকম দোকানে সংঘটিত চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আইটি ও শ্রমবাজারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে একমত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া চলতি জুন মাসের প্রথম ২০ দিনে ১৯৫ কোটি ডলার পাঠালেন প্রবাসীরা শান্তি চুক্তি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা: ‘আসল পরীক্ষা’ নিয়ে সতর্ক ইরান
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

টিকটক ভিডিও করতে ফটোগ্রাফারকে খুন করে ক্যামেরা ছিনতাই

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৪৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫
  • ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর হাজারীবাগের জাফরাবাদ পুলপার এলাকায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ফটোগ্রাফার নূরুল ইসলামকে খুন করে ডিএসএলআর ক্যামেরা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ মে) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম।

গ্রেপ্তাররা হলো- মো. নাঈম আহম্মেদ (২০), মো. শাহীন অকন্দ ওরফে শাহিনুল (২০), মো. শাহীন চৌকিদার (২২), মো. রহিম সরকার (১৯), মো. নয়ন আহম্মেদ (১৯), রিদয় মাদবর (১৮), মো. আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রাজা (১৯), মো. আনোয়ার হোসেন (১৯), মো. শহিদুল ইসলাম (২০) ও মো. আরমান (১৮)।

গত মঙ্গলবার (২০ মে) ঢাকা ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া তাদের দেওয়া তথ্য মতে ছিনতাইকৃত ২টি ডিএসএলআর ক্যামেরা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি, একটি রামদা ও একটি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, গত শুক্রবার (১৬ মে) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে তার একই নম্বর থেকে কল আসে। তখন তাকে শংকর চৌরাস্তায় অপেক্ষা করতে বলা হয়। এরপর নূরুল ইসলাম তার সহযোগী মো. ইমন ওরফে নুরে আলমসহ মতিঝিলের এজিবি কলোনির বাসা থেকে বের হয়ে সেই অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওইদিন সন্ধ্যায় এক ব্যক্তি শংকর বাসস্ট্যান্ডে তাদের সঙ্গে দেখা করে। সে সময় তারা একটি অটোরিকশা নিয়ে জাফরাবাদ পুলপার ব্লুমিং চাইল্ড স্কুলের কাছে বিয়ের অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা করে। ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে জাফরাবাদ পুলপার ঋষিপাড়া এলাকায় পৌঁছামাত্র অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা তাদের রিকশার গতিরোধ করে। ঘটনার আকস্মিকতায় ইমন রিকশা থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায় কিন্তু দুষ্কৃতকারীরা নুরুল ইসলামকে ধরে ফেলে। তারা ধারালো চাপাতি দিয়ে নুরুল ইসলামের মাথা, ঘাড়, বাহু ও হাতের আঙুলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তার কাছে থাকা দুটি ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। নুরুল ইসলামের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুষ্কৃতকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অতঃপর ভিকটিম নূরুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নূরুল ইসলামের বড় ভাই মো. ওসমান গনি বাদী হয়ে হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়। এরপর মঙ্গলবার (২০ মে) অভিযান পরিচালনা করে ঢাকার শংকর ও রায়েরবাজার এবং ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া ও তারাকান্দা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার সবার বয়স ১৮-২০ বছর। তারা টিকটকে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও তৈরি করে পোস্ট করত। উন্নতমানের ও আকর্ষণীয় ছবি এবং ভিডিও করার জন্য ডিএসএলআর ক্যামেরা সংগ্রহের পরিকল্পনা করে তারা। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী খেলার মাঠে ফুটবল খেলার পর নাঈম আহম্মেদের নেতৃত্বে ক্যামেরা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। তারা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের নাম করে ফটোগ্রাফারদের কাছ থেকে কৌশলে ক্যামেরা ছিনতাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

​দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশাবাদ তারেক রহমানের

টিকটক ভিডিও করতে ফটোগ্রাফারকে খুন করে ক্যামেরা ছিনতাই

আপডেট সময় ০২:৪৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫

রাজধানীর হাজারীবাগের জাফরাবাদ পুলপার এলাকায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ফটোগ্রাফার নূরুল ইসলামকে খুন করে ডিএসএলআর ক্যামেরা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ মে) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম।

গ্রেপ্তাররা হলো- মো. নাঈম আহম্মেদ (২০), মো. শাহীন অকন্দ ওরফে শাহিনুল (২০), মো. শাহীন চৌকিদার (২২), মো. রহিম সরকার (১৯), মো. নয়ন আহম্মেদ (১৯), রিদয় মাদবর (১৮), মো. আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রাজা (১৯), মো. আনোয়ার হোসেন (১৯), মো. শহিদুল ইসলাম (২০) ও মো. আরমান (১৮)।

গত মঙ্গলবার (২০ মে) ঢাকা ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া তাদের দেওয়া তথ্য মতে ছিনতাইকৃত ২টি ডিএসএলআর ক্যামেরা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি, একটি রামদা ও একটি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, গত শুক্রবার (১৬ মে) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে তার একই নম্বর থেকে কল আসে। তখন তাকে শংকর চৌরাস্তায় অপেক্ষা করতে বলা হয়। এরপর নূরুল ইসলাম তার সহযোগী মো. ইমন ওরফে নুরে আলমসহ মতিঝিলের এজিবি কলোনির বাসা থেকে বের হয়ে সেই অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওইদিন সন্ধ্যায় এক ব্যক্তি শংকর বাসস্ট্যান্ডে তাদের সঙ্গে দেখা করে। সে সময় তারা একটি অটোরিকশা নিয়ে জাফরাবাদ পুলপার ব্লুমিং চাইল্ড স্কুলের কাছে বিয়ের অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা করে। ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে জাফরাবাদ পুলপার ঋষিপাড়া এলাকায় পৌঁছামাত্র অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা তাদের রিকশার গতিরোধ করে। ঘটনার আকস্মিকতায় ইমন রিকশা থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায় কিন্তু দুষ্কৃতকারীরা নুরুল ইসলামকে ধরে ফেলে। তারা ধারালো চাপাতি দিয়ে নুরুল ইসলামের মাথা, ঘাড়, বাহু ও হাতের আঙুলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তার কাছে থাকা দুটি ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। নুরুল ইসলামের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুষ্কৃতকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অতঃপর ভিকটিম নূরুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নূরুল ইসলামের বড় ভাই মো. ওসমান গনি বাদী হয়ে হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়। এরপর মঙ্গলবার (২০ মে) অভিযান পরিচালনা করে ঢাকার শংকর ও রায়েরবাজার এবং ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া ও তারাকান্দা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার সবার বয়স ১৮-২০ বছর। তারা টিকটকে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও তৈরি করে পোস্ট করত। উন্নতমানের ও আকর্ষণীয় ছবি এবং ভিডিও করার জন্য ডিএসএলআর ক্যামেরা সংগ্রহের পরিকল্পনা করে তারা। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী খেলার মাঠে ফুটবল খেলার পর নাঈম আহম্মেদের নেতৃত্বে ক্যামেরা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। তারা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের নাম করে ফটোগ্রাফারদের কাছ থেকে কৌশলে ক্যামেরা ছিনতাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।