ময়মনসিংহ , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফেরাতে উদ্যোগ: আলিমের সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক জুলাই থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে নবম পে-স্কেল! প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা: অনুমোদনের অপেক্ষায় ৮,১০৬ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্মবিরতি শেষে কাজে যোগ দিচ্ছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা দুই পয়েন্ট থেকে ২১ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ পূর্বধলায় ৪৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ​টাইগারদের বড় পরীক্ষা: আজ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি বাংলাদেশ সাময়িক যুদ্ধবিরতি: ইসরায়েলের সঙ্গে হামলা বন্ধে একমত ইরান ভয়াবহ কম্পন ইরানে: আঘাত হানল ৫ মাত্রার ভূমিকম্প
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবি, গৌরীপুরের শিক্ষা অফিসে তালা !

ময়মনসিংহের গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের অপসারণ ও নিয়োগ বাতিলের দাবিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত সোমবার (১ জুন,২০২৬ ইং) সকালে ‘গৌরীপুরবাসী’ ব্যানার নিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা শিক্ষা কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তিনি মাওহা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ৭টি মামলার বাদী।

এ ছাড়া জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র হত্যার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের হওয়া দুটি মামলারও আসামি তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন যখন সারা দেশে সাধারণ ছুটি ও একধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ চলছিল, তখন তড়িঘড়ি করে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে শফিকুল ইসলামকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তৎকালীন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এই নিয়োগ বাতিল চেয়ে বিদ্যালয়টির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. মোস্তফা কামাল ইতিপূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনও উভয় পক্ষই ওই শিক্ষককে বরখাস্তের সুপারিশ করেছিলেন।

কিন্তু বরখাস্ত না করে উল্টো গত মার্চ মাসে তাঁর এমপিও (মান্থলি পে-অর্ডার) অনুমোদন করা হয় এবং তিনি বর্তমানে নিয়মিত বেতন-ভাতাও তুলছেন।

আন্দোলনকারীদের একজন শহিদুল ইসলাম মিল্টন বলেন, এই বিতর্কিত শিক্ষকের এমপিও প্রাপ্তির খবর জানতে পেরেই আমরা শিক্ষা অফিস ঘেরাও করতে বাধ্য হয়েছি। তাঁকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ ও নিয়োগ বাতিল না করা পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।

যোগাযোগ করা হলে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। সরকারি দপ্তরের কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।

বিষয়টি যেহেতু এখনো চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান হয়নি, তাই আন্দোলনকারীদের দেওয়া স্মারকলিপিটি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফেরাতে উদ্যোগ: আলিমের সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবি, গৌরীপুরের শিক্ষা অফিসে তালা !

আপডেট সময় ০৯:৪৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

ময়মনসিংহের গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের অপসারণ ও নিয়োগ বাতিলের দাবিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত সোমবার (১ জুন,২০২৬ ইং) সকালে ‘গৌরীপুরবাসী’ ব্যানার নিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা শিক্ষা কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তিনি মাওহা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ৭টি মামলার বাদী।

এ ছাড়া জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র হত্যার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের হওয়া দুটি মামলারও আসামি তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন যখন সারা দেশে সাধারণ ছুটি ও একধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ চলছিল, তখন তড়িঘড়ি করে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে শফিকুল ইসলামকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তৎকালীন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এই নিয়োগ বাতিল চেয়ে বিদ্যালয়টির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. মোস্তফা কামাল ইতিপূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনও উভয় পক্ষই ওই শিক্ষককে বরখাস্তের সুপারিশ করেছিলেন।

কিন্তু বরখাস্ত না করে উল্টো গত মার্চ মাসে তাঁর এমপিও (মান্থলি পে-অর্ডার) অনুমোদন করা হয় এবং তিনি বর্তমানে নিয়মিত বেতন-ভাতাও তুলছেন।

আন্দোলনকারীদের একজন শহিদুল ইসলাম মিল্টন বলেন, এই বিতর্কিত শিক্ষকের এমপিও প্রাপ্তির খবর জানতে পেরেই আমরা শিক্ষা অফিস ঘেরাও করতে বাধ্য হয়েছি। তাঁকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ ও নিয়োগ বাতিল না করা পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।

যোগাযোগ করা হলে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। সরকারি দপ্তরের কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।

বিষয়টি যেহেতু এখনো চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান হয়নি, তাই আন্দোলনকারীদের দেওয়া স্মারকলিপিটি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।