রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের ভোটার তালিকা থেকে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে শাখা ছাত্রদল।গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে দলীয় টেন্ট থেকে মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাকসু কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়।
ছাত্রদলের এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। তবে ছাত্রদলের এ কর্মসূচিকে ভোট পেছানোর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে ছাত্রশিবির।
রাবির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ২০২৪-২৫ সেশনের। তাদের ক্লাস শুরু হয়েছে ১৭ আগস্ট। এই শিক্ষার্থীরা কে কোন হলে যুক্ত হবেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটি এখনো নির্ধারণ করতে পারেনি। এ কারণে ভোটার তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে তাদের।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে ২৫ আগস্ট বিক্ষোভ মিছিল ও উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ছাত্রদল। পরে গতকাল তারা আবারও বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, যে ভোটাধিকারের জন্য এ দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে, সেই অধিকার কেড়ে নিতে অভ্যুত্থানের পর কিছু সন্ত্রাসী চরিত্রের শিক্ষক প্রশাসনে বসানো হয়েছে। আজ পরিকল্পিতভাবে হাজারো শিক্ষার্থীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। রাকসু নির্বাচনে প্রশাসন এক বিতর্কিত ও মেরুদণ্ডহীন শিক্ষককে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাফিউল জীবন বলেন, শিক্ষার্থীরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, তখন তারা রাকসু ফি দিয়েই ভর্তি হন। অথচ এই প্রশাসন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। এটি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চরম বৈষম্য।
ছাত্র অধিকার পরিষদ এর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির সভাপতি মেহেদী মারুফ বলেন, নতুন শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা ন্যায্যতার প্রশ্ন। ভর্তি হওয়ার সময় প্রতিটি শিক্ষার্থী রাকসু ফি প্রদান করে। অথচ প্রশাসন তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। তাই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতেই হবে।
তবে এর সঙ্গে ছাত্রশিবির নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র দেখছে। সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা আসন্ন রাকসু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য। তবে হলে ‘অ্যাটাচ’ হতে দু-তিন মাস সময় লাগে। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করলে নির্বাচন পেছাতে পারে। ছাত্রদলেরও লক্ষ্য নির্বাচন পেছানো।’
অন্যদিকে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের রাকসুর সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে প্রথম বর্ষকে এখনই ভোটার তালিকায় আনতে গেলে নির্বাচন দীর্ঘসূত্রতায় পড়বে। আবারও পেছালে হয়তো নির্বাচনই হবে না। তাই আপাতত আমরা এ বিষয়ে খুব একটা ভাবছি না।’
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এফ নজরুল ইসলাম বলেন, রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ভর্তি কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি। তাই তাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে তাদের ভোটার করতে যেসব প্রক্রিয়া দরকার ছিল, তা সম্পন্ন হয়নি। তাদের রোল, হল অ্যাটাচমেন্ট তৈরির প্রক্রিয়া শেষ করতে গেলে নির্বাচন এক-দুই মাস পিছিয়ে যাবে। সে বিবেচনা করে তাদের ভোটার তালিকায় রাখা হয়নি।’