ময়মনসিংহ , বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট-এ দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকদের কর্মবিরতি, ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী পাইপলাইনে আসছে ৫ হাজার টন ডিজেল ভারত থেকে এক মাসের কম সময়ে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কাজ শুরু করেছি বলেছেন প্রধানমন্ত্রী পূর্বধলায় গণহত্যা দিবস ও মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কথা রেখেছি বলেছেন মির্জা ফখরুল পাবনা জেলার ফরিদপুরে মরে যাচ্ছে বড়াল নদী, খনন না হলে হারিয়ে যেতে পারে ঐতিহ্য ও জীবিকা প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন গৌরীপুরে মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত এনসিপির ৮৭ নেতাকর্মীর গণপদত্যাগ রাঙামাটির জুরাছড়িতে
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

আমাদের সামনে মহা চ্যালেঞ্জ বললেন প্রধান উপদেষ্টা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:২৬:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৩০ বার পড়া হয়েছে

দেশের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “আমাদের সামনে এখন এক মহা চ্যালেঞ্জ—এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।” শনিবার (১ নভেম্বর) এক বার্তায় এ আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। তাঁর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

ড. ইউনূস বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কারের যে অভূতপূর্ব ঐক্য আমরা অর্জন করেছি, সেটি আমাদের ধরে রাখতেই হবে। ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী এই জাতিকে বিভক্ত করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োজিত করেছে। কিন্তু গত ১৫ মাস আমরা তাদের সব ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করেছি। এ দেশকে বাঁচাতে হলে জাতীয় ঐক্যই আমাদের একমাত্র ভরসা।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সামনে যে বৃহৎ রাষ্ট্রগঠন ও সংস্কারের কাজ, তা কোনো একক ব্যক্তি, সংগঠন বা সরকার একা সম্পন্ন করতে পারবে না। এজন্য রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—সবার মধ্যে একতা ও পারস্পরিক আস্থা থাকা জরুরি।”

সাফল্যের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ক্রমাগত সংলাপ ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণ করা ঐকমত্য কমিশনের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য।”

তিনি জানান, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে জবাবদিহিমূলক ও স্থায়ী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয় এবং এর মেয়াদ শেষ হয় ৩১ অক্টোবর।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ আমাদের ঐতিহাসিক অর্জন। এটি শুধু আগামী জাতীয় নির্বাচনের পথকে সুগম করবে না, বরং বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও গণতন্ত্রের ভিত্তি সুসংহত করবে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সনদের বাস্তবায়ন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমন পরিবর্তন আনবে, যা ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারের উত্থান ঘটতে দেবে না এবং প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।

ড. ইউনূস বলেন, “সবচেয়ে আশার কথা হলো—এই সংস্কার প্রক্রিয়া আমরা নিজেরাই সম্পন্ন করেছি। বাইরের কেউ আমাদের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়নি। অতীতে বাংলাদেশে বিদেশি মধ্যস্থতায় রাজনৈতিক সংলাপ হয়েছে; কিন্তু এবার আমরা নিজেরাই নিজেদের সংকটের সমাধান করেছি।”

তিনি যোগ করেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে যে, আমাদের সংকটের সমাধান আমাদেরকেই করতে হবে। তাই বিশ্বকে আহ্বান না জানিয়ে, আমরা নিজেরাই বিশ্ববাসীর সামনে আমাদের জাতীয় ঐক্যের উদাহরণ তুলে ধরেছি।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ কেবল বাংলাদেশের নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পৃথিবীর কোথাও এমন ঐকমত্যের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের দৃষ্টান্ত নেই। ভবিষ্যতে সংকটময় দেশগুলোও এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেবে।”

প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া এবং বিশেষ সহকারী মনির হায়দারসহ কমিশনের সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এছাড়া গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি—যারা মাসের পর মাস এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ জনমানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে আমরা সবাই অংশীদার। ঐক্যই আমাদের শক্তি, ঐক্যই আমাদের আশা।”

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট-এ দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকদের কর্মবিরতি, ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান

আমাদের সামনে মহা চ্যালেঞ্জ বললেন প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৯:২৬:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

দেশের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “আমাদের সামনে এখন এক মহা চ্যালেঞ্জ—এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।” শনিবার (১ নভেম্বর) এক বার্তায় এ আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। তাঁর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

ড. ইউনূস বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কারের যে অভূতপূর্ব ঐক্য আমরা অর্জন করেছি, সেটি আমাদের ধরে রাখতেই হবে। ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী এই জাতিকে বিভক্ত করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োজিত করেছে। কিন্তু গত ১৫ মাস আমরা তাদের সব ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করেছি। এ দেশকে বাঁচাতে হলে জাতীয় ঐক্যই আমাদের একমাত্র ভরসা।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সামনে যে বৃহৎ রাষ্ট্রগঠন ও সংস্কারের কাজ, তা কোনো একক ব্যক্তি, সংগঠন বা সরকার একা সম্পন্ন করতে পারবে না। এজন্য রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—সবার মধ্যে একতা ও পারস্পরিক আস্থা থাকা জরুরি।”

সাফল্যের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ক্রমাগত সংলাপ ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণ করা ঐকমত্য কমিশনের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য।”

তিনি জানান, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে জবাবদিহিমূলক ও স্থায়ী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয় এবং এর মেয়াদ শেষ হয় ৩১ অক্টোবর।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ আমাদের ঐতিহাসিক অর্জন। এটি শুধু আগামী জাতীয় নির্বাচনের পথকে সুগম করবে না, বরং বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও গণতন্ত্রের ভিত্তি সুসংহত করবে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সনদের বাস্তবায়ন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমন পরিবর্তন আনবে, যা ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারের উত্থান ঘটতে দেবে না এবং প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।

ড. ইউনূস বলেন, “সবচেয়ে আশার কথা হলো—এই সংস্কার প্রক্রিয়া আমরা নিজেরাই সম্পন্ন করেছি। বাইরের কেউ আমাদের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়নি। অতীতে বাংলাদেশে বিদেশি মধ্যস্থতায় রাজনৈতিক সংলাপ হয়েছে; কিন্তু এবার আমরা নিজেরাই নিজেদের সংকটের সমাধান করেছি।”

তিনি যোগ করেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে যে, আমাদের সংকটের সমাধান আমাদেরকেই করতে হবে। তাই বিশ্বকে আহ্বান না জানিয়ে, আমরা নিজেরাই বিশ্ববাসীর সামনে আমাদের জাতীয় ঐক্যের উদাহরণ তুলে ধরেছি।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ কেবল বাংলাদেশের নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পৃথিবীর কোথাও এমন ঐকমত্যের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের দৃষ্টান্ত নেই। ভবিষ্যতে সংকটময় দেশগুলোও এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেবে।”

প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া এবং বিশেষ সহকারী মনির হায়দারসহ কমিশনের সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এছাড়া গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি—যারা মাসের পর মাস এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ জনমানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে আমরা সবাই অংশীদার। ঐক্যই আমাদের শক্তি, ঐক্যই আমাদের আশা।”