ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি হিসেবে ঢাকায় মক ভোটিংয়ের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শনিবার সকাল ৮টা থেকে চারটি বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। কিন্তু ভোট শুরুর প্রথম ঘণ্টাতেই কেন্দ্রটিতে দেখা যায় হ-য-ব-র-ল অবস্থার চিত্র।
মক ভোটিংয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল সংসদ ও গণভোট একত্রে দিতে কত সময় লাগে এবং ভোট ব্যবস্থাপনায় কি ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা চিহ্নিত করা। প্রথম ঘণ্টায় চারটি বুথে যথাক্রমে ২৩, ৩৭, ২৭ ও ২১ জন ভোট দিয়েছেন। ভোট দেওয়ার গড়ে সময় ছিল এক মিনিট। ভোটাররা জানান, সংসদ নির্বাচনের ব্যালটে ভোট দেওয়া সহজ হলেও গণভোটে ‘হ্যাঁ/না’ ভোট বুঝে না বুঝেই দিয়েছেন।
ভোটগ্রহণ শুরুর এক ঘণ্টা পর কেন্দ্রে আসেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি ভোটকেন্দ্রের হ-য-ব-র-ল অবস্থা দেখে কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভোট দিতে একজনের কত সময় লাগে তা নিজেই তদারকি করতে শুরু করেন। পুরুষ ও নারী ভোটকেন্দ্রের জন্য ২০ জন করে ভোটার বাছাই করে নতুনভাবে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু করেন।
মক ভোটিংয়ে ভোটারদের সহায়তায় সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের পক্ষ থেকে ভোটার সিরিয়াল জানানো, ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো, তালিকা যাচাই, ব্যালট সরবরাহ, সিল ও কালি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে প্রত্যেক ভোটারের জন্য গড়ে এক মিনিট সময় লাগছে।
গণভোটের ব্যালট পেপারে সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ চারটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যেগুলোর বিপরীতে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে। এছাড়া আলাদা ব্যালটে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী ও প্রতীকের তালিকা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানান, ‘মক ভোটিংয়ের মাধ্যমে ভোট দিতে কত সময় লাগে এবং ব্যবস্থাপনায় কি ধরনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন তা পর্যালোচনা করা হবে।’
শেরেবাংলা নগর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের কেন্দ্রটি উৎসুক জনতা ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সরগরম ছিল। আগামীতে ভোট ব্যবস্থাপনা ও গণভোটের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ঠিক করার জন্য এই মহড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডিজিটাল রিপোর্ট 




















