ময়মনসিংহ , রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গণভোটকে অস্বীকার করা মানে জুলাই আন্দোলনকে অস্বীকার বললেন রফিকুল ইসলাম খান মাত্র ৫ টাকা নিয়ে বিরোধ, বড় ভাইয়ের হাতে প্রাণ গেল ছোট ভাইয়ের লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ নির্বাচন-পরবর্তী অর্থনীতি ও পোশাক খাতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা সংরক্ষিত নারী আসনে আজ ঢাকার আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে ,কয়েক বিভাগে সোম ও মঙ্গলবার বৃষ্টি হতে পারে লায়লা আরজুমান বানু বগুড়া থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য পরাজিত প্রার্থীর অফিসে ফুল-মিষ্টি নিয়ে গেলেন জামায়াত আমিরের প্রতিবাদ হাসনাত-পাটওয়ারীদের মতো , স্ট্যাটাস ভাইরাল বিক্ষোভের ডাক হারাগাছে আখতার হোসেনের সফর ঘিরে জামায়াতের প্রার্থী তালিকায় আমিরের স্ত্রীসহ শীর্ষ নেত্রীরা সংরক্ষিত নারী আসনে
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

গান ছেড়ে ভিক্ষার নির্দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভয়ে রোজগার বন্ধ অন্ধ হেলালের

  • ডিজিটাল রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২১:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৮৫ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিল্পী হেলাল মিয়ার (৬৫) জীবনের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক এখন গান নয়, বরং গান বন্ধ হয়ে যাওয়া। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে গান গেয়ে পরিবার চালাচ্ছেন তিনি। কিন্তু একদল লোকের হুমকির পর গত ছয় দিন ধরে বন্ধ হয়ে গেছে তাদের একমাত্র জীবিকার পথ। ফলে পুরো পরিবার এখন নিদারুণ সংকটে।

হেলাল মিয়া জন্ম থেকেই দৃষ্টিশক্তিহীন। শুধু তিনিই নয় তার ১৩ সদস্যের বড় পরিবারে নয়জনই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। স্ত্রী, চার ছেলে, এক মেয়ে এবং তিন নাতি-নাতনি তাদের অধিকাংশেরই চোখে আলো নেই। কিন্তু তারা কখনো ভিক্ষা করেননি; বরং গানকে বেছে নিয়েছেন সম্মানের পেশা হিসেবে।

কিন্তু গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে গানের আসর চলাকালে কয়েকজন যুবক সেখানে এসে হেলাল মিয়াদের গান বন্ধ করে দিতে বলেন। তারা নির্দেশ দেন গান ছেড়ে ভিক্ষাবৃত্তি করতে। নাহলে বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলবেন তারা। সেই ভয়ে আর গান গাইতে বের হননি তিনি।

তিনি আরও জানান, এর আগেও দু’বার তাদের একইভাবে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তবে এবারের ঘটনাটি তাদের আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে।
পরিবারের সবাই যখন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, তখন বাইরে বের হওয়াটাই তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। তার ওপর গান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছেন। এখন শুধু ভয় নয়—উদ্বেগও কাজ করছে, কারণ অন্য কোনো কাজ তাদের মাধ্যমে সম্ভব নয়। হাত পেতে টাকা চাইতে চান না তারা; সম্মানের সঙ্গে গান গেয়েই জীবন চালাতে চান।

ঘটনা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অন্ধ এই পরিবারটিকে আমি ব্যক্তিগতভাবেও সহায়তা করেছি। তাদের হুমকি দেওয়ার কথা শুনে কষ্ট পেয়েছি। আমি তাদের আবারও মুক্তমঞ্চে বসে গান গাইতে বলেছি।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমান জানান, এই পরিবারের প্রতি বাধা দেওয়ার কোনো অভিযোগ পুলিশের কাছে আসেনি। কেউ জানালে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হেলাল মিয়ার বয়স ৬৫ ছাড়ালেও গানই তার জীবনের অবলম্বন। ছোটবেলায় স্থানীয় শিল্পী শাহনূর শাহের কাছে গান শিখে হাটবাজারে গান করেই জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। পরে তার সন্তানরাও গান শিখে গানের দল গড়ে তোলেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটকে অস্বীকার করা মানে জুলাই আন্দোলনকে অস্বীকার বললেন রফিকুল ইসলাম খান

গান ছেড়ে ভিক্ষার নির্দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভয়ে রোজগার বন্ধ অন্ধ হেলালের

আপডেট সময় ১০:২১:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিল্পী হেলাল মিয়ার (৬৫) জীবনের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক এখন গান নয়, বরং গান বন্ধ হয়ে যাওয়া। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে গান গেয়ে পরিবার চালাচ্ছেন তিনি। কিন্তু একদল লোকের হুমকির পর গত ছয় দিন ধরে বন্ধ হয়ে গেছে তাদের একমাত্র জীবিকার পথ। ফলে পুরো পরিবার এখন নিদারুণ সংকটে।

হেলাল মিয়া জন্ম থেকেই দৃষ্টিশক্তিহীন। শুধু তিনিই নয় তার ১৩ সদস্যের বড় পরিবারে নয়জনই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। স্ত্রী, চার ছেলে, এক মেয়ে এবং তিন নাতি-নাতনি তাদের অধিকাংশেরই চোখে আলো নেই। কিন্তু তারা কখনো ভিক্ষা করেননি; বরং গানকে বেছে নিয়েছেন সম্মানের পেশা হিসেবে।

কিন্তু গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে গানের আসর চলাকালে কয়েকজন যুবক সেখানে এসে হেলাল মিয়াদের গান বন্ধ করে দিতে বলেন। তারা নির্দেশ দেন গান ছেড়ে ভিক্ষাবৃত্তি করতে। নাহলে বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলবেন তারা। সেই ভয়ে আর গান গাইতে বের হননি তিনি।

তিনি আরও জানান, এর আগেও দু’বার তাদের একইভাবে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তবে এবারের ঘটনাটি তাদের আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে।
পরিবারের সবাই যখন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, তখন বাইরে বের হওয়াটাই তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। তার ওপর গান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছেন। এখন শুধু ভয় নয়—উদ্বেগও কাজ করছে, কারণ অন্য কোনো কাজ তাদের মাধ্যমে সম্ভব নয়। হাত পেতে টাকা চাইতে চান না তারা; সম্মানের সঙ্গে গান গেয়েই জীবন চালাতে চান।

ঘটনা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অন্ধ এই পরিবারটিকে আমি ব্যক্তিগতভাবেও সহায়তা করেছি। তাদের হুমকি দেওয়ার কথা শুনে কষ্ট পেয়েছি। আমি তাদের আবারও মুক্তমঞ্চে বসে গান গাইতে বলেছি।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমান জানান, এই পরিবারের প্রতি বাধা দেওয়ার কোনো অভিযোগ পুলিশের কাছে আসেনি। কেউ জানালে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হেলাল মিয়ার বয়স ৬৫ ছাড়ালেও গানই তার জীবনের অবলম্বন। ছোটবেলায় স্থানীয় শিল্পী শাহনূর শাহের কাছে গান শিখে হাটবাজারে গান করেই জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। পরে তার সন্তানরাও গান শিখে গানের দল গড়ে তোলেন।