ময়মনসিংহ , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফেরাতে উদ্যোগ: আলিমের সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক জুলাই থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে নবম পে-স্কেল! প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা: অনুমোদনের অপেক্ষায় ৮,১০৬ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্মবিরতি শেষে কাজে যোগ দিচ্ছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা দুই পয়েন্ট থেকে ২১ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ পূর্বধলায় ৪৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ​টাইগারদের বড় পরীক্ষা: আজ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি বাংলাদেশ সাময়িক যুদ্ধবিরতি: ইসরায়েলের সঙ্গে হামলা বন্ধে একমত ইরান ভয়াবহ কম্পন ইরানে: আঘাত হানল ৫ মাত্রার ভূমিকম্প
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে বহিষ্কার ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২৮:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৫৯ বার পড়া হয়েছে

‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের জেরে দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের একদিনের মাথায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) কর্তৃপক্ষ।

গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এবং শিক্ষার্থীদের ই-মেইলের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দীর্ঘদিনের এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে বহিষ্কৃত দুই শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে নিপীড়নমূলক আচরণ করা হয়েছে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত ১০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লায়েকা বশীরের একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে। সেখানে তিনি মুখ ঢেকে পর্দা করার সংস্কৃতির সমালোচনা করেন, যা পরে ‘ধর্ম অবমাননা’ হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে হুমকি ও গালাগালের মুখে পড়তে হয় বলে দাবি করেন লায়েকা বশীর।

পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় নতুন সেমিস্টারের প্রথম দিনে, যখন একদল শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ, সংবাদ সম্মেলন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। তখনই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

অন্যদিকে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একাংশ দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছেন এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও রয়েছে। তবে বহিষ্কারের বিরোধিতা করা শিক্ষার্থীরা বলছেন, এটি পরিকল্পিতভাবে একটি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘ট্যাগিং’ ও ‘মব চাপ’ তৈরির ফল।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, তদন্ত কমিটি কাজ করছিল এবং পরিস্থিতির সংবেদনশীলতার কারণে চূড়ান্ত রিপোর্টের আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষক সমাজের একটি অংশ ‘স্বেচ্ছাচারী’ ও ‘ভয়ংকর নজির’ বলে মন্তব্য করেছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক দুই শিক্ষকের বহিষ্কার এবং প্রশাসনের ভূমিকার নিন্দা জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফেরাতে উদ্যোগ: আলিমের সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক

বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে বহিষ্কার ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে

আপডেট সময় ১০:২৮:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের জেরে দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের একদিনের মাথায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) কর্তৃপক্ষ।

গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এবং শিক্ষার্থীদের ই-মেইলের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দীর্ঘদিনের এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে বহিষ্কৃত দুই শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে নিপীড়নমূলক আচরণ করা হয়েছে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত ১০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লায়েকা বশীরের একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে। সেখানে তিনি মুখ ঢেকে পর্দা করার সংস্কৃতির সমালোচনা করেন, যা পরে ‘ধর্ম অবমাননা’ হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে হুমকি ও গালাগালের মুখে পড়তে হয় বলে দাবি করেন লায়েকা বশীর।

পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় নতুন সেমিস্টারের প্রথম দিনে, যখন একদল শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ, সংবাদ সম্মেলন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। তখনই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

অন্যদিকে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একাংশ দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছেন এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও রয়েছে। তবে বহিষ্কারের বিরোধিতা করা শিক্ষার্থীরা বলছেন, এটি পরিকল্পিতভাবে একটি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘ট্যাগিং’ ও ‘মব চাপ’ তৈরির ফল।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, তদন্ত কমিটি কাজ করছিল এবং পরিস্থিতির সংবেদনশীলতার কারণে চূড়ান্ত রিপোর্টের আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষক সমাজের একটি অংশ ‘স্বেচ্ছাচারী’ ও ‘ভয়ংকর নজির’ বলে মন্তব্য করেছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক দুই শিক্ষকের বহিষ্কার এবং প্রশাসনের ভূমিকার নিন্দা জানিয়েছে।