ময়মনসিংহ , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব গ্রহণযোগ্য নয় জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জরুরি সহায়তা হিসেবে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চায় ইসলামী ব্যাংক বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর শান্তিরক্ষীরা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ​শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ: আদালতের কাঠগড়ায় ১২ জন সরকার ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতি পরিচালনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন শামা ওবায়েদ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ১৭ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা আলোচিত নাসির-তামিমা মামলার রায় আজ, নজরে আদালত ​মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে হামলার হুমকি দিলো ইরান, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে পূর্বধলায় বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া আদায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ২০৬ সংযোগ বিচ্ছিন্ন সরকারি চাকরিজীবীদের সুখবর: জুনেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট, আসছে গ্রেড ও পেনশন সুবিধায় বড় পরিবর্তন
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

এক বছরে তিন ঈদ ও দুই হজ , বিরল অভিজ্ঞতার সুযোগ মুসলমানদের জন্য

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯৬ বার পড়া হয়েছে

ইসলামি বর্ষপঞ্জির চক্র ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব মিলিয়ে ভবিষ্যতে ঘটতে যাচ্ছে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। একই ইংরেজি বছরে একাধিক ঈদ উদযাপন এবং দুইবার হজ পালনের সুযোগ পাবেন মুসলমানরা। এমন বিরল সময়চক্র তৈরি হচ্ছে হিজরি ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পার্থক্যের কারণে, যা ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক— উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালে একই গ্রেগরিয়ান বা ইংরেজি বছরে তিনটি ঈদ এবং দুইবার হজ পালনের বিরল অভিজ্ঞতা পেতে যাচ্ছেন বিশ্বের মুসলমানরা। সে বছর পালিত হবে দুটি ঈদুল আজহা, একটি ঈদুল ফিতর এবং দুটি পৃথক হজ।

সৌদি আরবের খ্যাতনামা জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদ জানান, এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি ঘটছে মূলত হিজরি (চন্দ্রবর্ষ) ও গ্রেগরিয়ান (সৌরবর্ষ) ক্যালেন্ডারের মধ্যকার সময়গত পার্থক্যের কারণে। ইসলামি বর্ষপঞ্জি প্রতি বছর ইংরেজি বছরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে।

তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি প্রথম ঈদুল আজহা পালিত হবে। এটি হবে হিজরি ১৪৬০ সনের ১০ জিলহজ, অর্থাৎ পবিত্র হজের সমাপ্তি দিবস ও কোরবানির ঈদ।

এই দুই ঈদের আগে দুটি আলাদা আরাফার দিনও পালিত হবে। আরাফার দিন হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেদিন লাখো হাজি আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে দোয়া ও ইবাদতে মগ্ন থাকেন।

এদিকে, এই দুই ঈদুল আজহার মাঝামাঝি সময়ে ২০৩৯ সালের ১৯ অক্টোবর ঈদুল ফিতর পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সে বছর মুসলমানরা রোজা, হজ, কোরবানি ও ঈদের আনন্দ মিলিয়ে এক অনন্য ধর্মীয় চক্রের মধ্য দিয়ে যাবেন।

চন্দ্রবর্ষের এই স্থানান্তরের প্রভাব শুধু ঈদ বা হজেই সীমাবদ্ধ নয়। জ্যোতির্বিদদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে একই ইংরেজি বছরে দুইবার রমজান মাস পালিত হবে— একবার জানুয়ারিতে এবং আরেকবার ডিসেম্বরে। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে, প্রায় ৩৩ বছর আগে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, হিজরি ক্যালেন্ডার চাঁদের গতির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এতে বছরে থাকে ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন। অন্যদিকে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি সূর্যভিত্তিক, যার দৈর্ঘ্য ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। এই ব্যবধানের কারণেই ইসলামী মাসগুলো প্রতি বছর ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে।

ফলে নির্দিষ্ট সময় পরপর এমন বিরল পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন একই বছরে একাধিক রমজান, হজ কিংবা ঈদ একসঙ্গে দেখা যায়— যা ধর্মীয় ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উভয় দিক থেকেই কৌতূহলোদ্দীপক ও গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব গ্রহণযোগ্য নয় জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এক বছরে তিন ঈদ ও দুই হজ , বিরল অভিজ্ঞতার সুযোগ মুসলমানদের জন্য

আপডেট সময় ১০:০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

ইসলামি বর্ষপঞ্জির চক্র ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব মিলিয়ে ভবিষ্যতে ঘটতে যাচ্ছে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। একই ইংরেজি বছরে একাধিক ঈদ উদযাপন এবং দুইবার হজ পালনের সুযোগ পাবেন মুসলমানরা। এমন বিরল সময়চক্র তৈরি হচ্ছে হিজরি ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পার্থক্যের কারণে, যা ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক— উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালে একই গ্রেগরিয়ান বা ইংরেজি বছরে তিনটি ঈদ এবং দুইবার হজ পালনের বিরল অভিজ্ঞতা পেতে যাচ্ছেন বিশ্বের মুসলমানরা। সে বছর পালিত হবে দুটি ঈদুল আজহা, একটি ঈদুল ফিতর এবং দুটি পৃথক হজ।

সৌদি আরবের খ্যাতনামা জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদ জানান, এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি ঘটছে মূলত হিজরি (চন্দ্রবর্ষ) ও গ্রেগরিয়ান (সৌরবর্ষ) ক্যালেন্ডারের মধ্যকার সময়গত পার্থক্যের কারণে। ইসলামি বর্ষপঞ্জি প্রতি বছর ইংরেজি বছরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে।

তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি প্রথম ঈদুল আজহা পালিত হবে। এটি হবে হিজরি ১৪৬০ সনের ১০ জিলহজ, অর্থাৎ পবিত্র হজের সমাপ্তি দিবস ও কোরবানির ঈদ।

এই দুই ঈদের আগে দুটি আলাদা আরাফার দিনও পালিত হবে। আরাফার দিন হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেদিন লাখো হাজি আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে দোয়া ও ইবাদতে মগ্ন থাকেন।

এদিকে, এই দুই ঈদুল আজহার মাঝামাঝি সময়ে ২০৩৯ সালের ১৯ অক্টোবর ঈদুল ফিতর পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সে বছর মুসলমানরা রোজা, হজ, কোরবানি ও ঈদের আনন্দ মিলিয়ে এক অনন্য ধর্মীয় চক্রের মধ্য দিয়ে যাবেন।

চন্দ্রবর্ষের এই স্থানান্তরের প্রভাব শুধু ঈদ বা হজেই সীমাবদ্ধ নয়। জ্যোতির্বিদদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে একই ইংরেজি বছরে দুইবার রমজান মাস পালিত হবে— একবার জানুয়ারিতে এবং আরেকবার ডিসেম্বরে। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে, প্রায় ৩৩ বছর আগে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, হিজরি ক্যালেন্ডার চাঁদের গতির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এতে বছরে থাকে ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন। অন্যদিকে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি সূর্যভিত্তিক, যার দৈর্ঘ্য ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। এই ব্যবধানের কারণেই ইসলামী মাসগুলো প্রতি বছর ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে।

ফলে নির্দিষ্ট সময় পরপর এমন বিরল পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন একই বছরে একাধিক রমজান, হজ কিংবা ঈদ একসঙ্গে দেখা যায়— যা ধর্মীয় ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উভয় দিক থেকেই কৌতূহলোদ্দীপক ও গুরুত্বপূর্ণ।