ময়মনসিংহ , শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পূর্বধলায় দলিল লিখক সমিতি’র নির্বাচনে সভাপতি আব্দুস ছোবান, সম্পাদক শামীম নির্বাচিত খুলনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল আর্জেন্টনার বড় ধাক্কা: বিশ্বকাপজয়ী তারকার ছিটকে যাওয়ায় বিপাকে স্কালোনি! লম্বা ছুটি: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা ৪ দিনের সুযোগ! রোববার মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী, এরপরই চীন প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে বললেন রিজভী ​২৩ জুনকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতিরঝিলের নিরাপত্তায় আনসার মোতায়েন করা হবে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী দেশে তৈরি মাদারবোর্ড যাচ্ছে আমেরিকায়, গর্বিত তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিপুল পরিমাণ মাদক ও ভারতীয় মদ উদ্ধার
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

​ব্যাংক খাতে রেকর্ড লোকসান: খেলাপি ঋণের চাপে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

ব্যাংক খাতের আর্থিক অবস্থার অবনতির চিত্র উঠে এসেছে ২০২৫ সালের মুনাফা-লোকসানের হিসাবে। কিছু বহুজাতিক ও বেসরকারি ব্যাংক ভালো মুনাফা করলেও কয়েকটি দুর্বল ব্যাংকের বড় ক্ষতির কারণে পুরো খাত ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা লোকসানে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ও মাসিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ব্যাংক খাতের নিট মুনাফা ছিল ১৪ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে তা বেড়ে ১৪ হাজার ৮৪০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। তবে ২০২৪ সালে মুনাফা কমে ১২ হাজার ১৫৮ কোটি টাকায় নেমে আসে। আর ২০২৫ সালে পুরো খাত লোকসানে চলে যায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যাংক খাত সংস্কার কর্মসূচির আওতায় নয়টি ব্যাংকের সম্পদের গুণগত মান যাচাই (একিউআর) করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত এ মূল্যায়নে কয়েকটি ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা সামনে এসেছে। এর মধ্যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

এর আগে ২০০৪ ও ২০০৬ সালে ব্যাংক সংস্কার কর্মসূচির সময় পুরো খাত লোকসানে পড়েছিল। এছাড়া ২০১২ সালে সোনালী ব্যাংকের হল-মার্ক কেলেঙ্কারির প্রভাবে ব্যাংক খাতের লোকসান হয়েছিল ১ হাজার ৯৫ কোটি টাকা।

সবচেয়ে বেশি ৬৬ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। এরপর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের লোকসান ৩১ হাজার কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংকের ২৮ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা।

এ ছাড়া জনতা ব্যাংক, এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকও লোকসানে রয়েছে।

অন্যদিকে, বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক গত বছর ৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা নিট মুনাফা করে শীর্ষে রয়েছে। দেশীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা, সিটি ব্যাংক ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা এবং পূবালী ব্যাংক ১ হাজার ৯০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের প্রায় ৫৯ শতাংশ বর্তমানে ‘দুর্দশাগ্রস্ত’ বা ডিস্ট্রেসড ঋণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত বছর শেষে এ ধরনের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা পুনঃতফসিল করা ঋণ। বাকি অংশ খেলাপি, অবলোপন করা এবং আদালতের আদেশে স্থগিত থাকা ঋণ।

বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্যাংকিং নীতি প্রণয়নকারী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে ডিস্ট্রেসড ঋণের নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই। তবে সাধারণত যে ঋণ থেকে কোনো আয় আসে না বা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করা হয় না, সেগুলোকে এই শ্রেণির ঋণ হিসেবে ধরা হয়। পুনঃ তফসিল করা ঋণের বিপরীতে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করা হয়, তাই এসব ঋণকে ডিস্ট্রেসড ঋণ হিসেবে ধরা হয় না।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পূর্বধলায় দলিল লিখক সমিতি’র নির্বাচনে সভাপতি আব্দুস ছোবান, সম্পাদক শামীম নির্বাচিত

​ব্যাংক খাতে রেকর্ড লোকসান: খেলাপি ঋণের চাপে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি

আপডেট সময় ০১:১৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ব্যাংক খাতের আর্থিক অবস্থার অবনতির চিত্র উঠে এসেছে ২০২৫ সালের মুনাফা-লোকসানের হিসাবে। কিছু বহুজাতিক ও বেসরকারি ব্যাংক ভালো মুনাফা করলেও কয়েকটি দুর্বল ব্যাংকের বড় ক্ষতির কারণে পুরো খাত ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা লোকসানে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ও মাসিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ব্যাংক খাতের নিট মুনাফা ছিল ১৪ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে তা বেড়ে ১৪ হাজার ৮৪০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। তবে ২০২৪ সালে মুনাফা কমে ১২ হাজার ১৫৮ কোটি টাকায় নেমে আসে। আর ২০২৫ সালে পুরো খাত লোকসানে চলে যায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যাংক খাত সংস্কার কর্মসূচির আওতায় নয়টি ব্যাংকের সম্পদের গুণগত মান যাচাই (একিউআর) করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত এ মূল্যায়নে কয়েকটি ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা সামনে এসেছে। এর মধ্যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

এর আগে ২০০৪ ও ২০০৬ সালে ব্যাংক সংস্কার কর্মসূচির সময় পুরো খাত লোকসানে পড়েছিল। এছাড়া ২০১২ সালে সোনালী ব্যাংকের হল-মার্ক কেলেঙ্কারির প্রভাবে ব্যাংক খাতের লোকসান হয়েছিল ১ হাজার ৯৫ কোটি টাকা।

সবচেয়ে বেশি ৬৬ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। এরপর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের লোকসান ৩১ হাজার কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংকের ২৮ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা।

এ ছাড়া জনতা ব্যাংক, এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকও লোকসানে রয়েছে।

অন্যদিকে, বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক গত বছর ৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা নিট মুনাফা করে শীর্ষে রয়েছে। দেশীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা, সিটি ব্যাংক ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা এবং পূবালী ব্যাংক ১ হাজার ৯০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের প্রায় ৫৯ শতাংশ বর্তমানে ‘দুর্দশাগ্রস্ত’ বা ডিস্ট্রেসড ঋণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত বছর শেষে এ ধরনের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা পুনঃতফসিল করা ঋণ। বাকি অংশ খেলাপি, অবলোপন করা এবং আদালতের আদেশে স্থগিত থাকা ঋণ।

বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্যাংকিং নীতি প্রণয়নকারী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে ডিস্ট্রেসড ঋণের নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই। তবে সাধারণত যে ঋণ থেকে কোনো আয় আসে না বা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করা হয় না, সেগুলোকে এই শ্রেণির ঋণ হিসেবে ধরা হয়। পুনঃ তফসিল করা ঋণের বিপরীতে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করা হয়, তাই এসব ঋণকে ডিস্ট্রেসড ঋণ হিসেবে ধরা হয় না।