ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু ফেলে মহাসড়ক অবরোধ মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে জানালেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় বাজেটের পর দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর সুযোগ নেই বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উল্টে, আহত ১০ জাদুকরী হ্যাটট্রিক, মেসিকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে প্রশংসায় ভাসালেন স্ত্রী শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশে প্রথমবারের মতো ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে সরকার জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব বাজেটে কারিগরি শিক্ষাখাতে ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বললেন শিক্ষামন্ত্রী খেটে খাওয়া মানুষের জন্য দেওয়া বাজেটকে অনেকে চানাচুর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী জার্মানি
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ইবির দুই শিক্ষক আহত, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

  • ইবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০২:৪৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ১৪৫ বার পড়া হয়েছে

ইবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিন বেলা ১১ টার দিকে ক্যাম্পাসের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একইস্থানে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তারা।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, সব ঝামেলা মীমাংসা করার পরও ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্য এমনটা করা হয়েছে। সেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের শিক্ষকদের উপরেও হামলা করা হয়েছে। এসময় এই ন্যাক্কারজনক হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শনাক্ত করে বহিষ্কারের দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কুষ্টিয়া শহর থেকে ক্যাম্পাসে ছেড়ে আসা একটি ডাবল ডেকার বাসে আল-ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের তিন শিক্ষার্থী তাদের বন্ধুদের জন্য ‘জ্যাকেট’ দিয়ে দুইটি সিট ধরে রাখেন। পরে আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সুমন অভ্র বাসে উঠে তাদের ধরা সিটে বসেন বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে বিষয়টি নিয়ে সুমনের সঙ্গে আল-ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা হয়। তখন আল-ফিকহের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সিহাব ও রাকিব কথা বলতে গেলে সুমন রাকিবের শার্টের কলার ধরে। এতে তাদের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং সুমনের মুখে আঘাত লাগে।

সুমনের দাবি, সিটে বসা নিয়ে হাসান ভাইকে মারতে উদ্যত হলে তখন তাদের নিবৃত্ত করতে যায় সুমন। তখন রাকিব তার শার্টের কলার ধরে ঘুষি মারে ও শার্ট ছিড়ে দেয়। তবে রাকিব বলছে, সুমন আগে আমার শার্টের কলার ধরছিলো। পরে তাকে ধাক্কা দিয়েছি। শার্ট ছেড়ার মতো কোনকিছু হয়নি। সে হয়তো আমাকে ফাঁসানোর জন্য নিজেই নিজের শার্ট ছিড়েছে।

এদিকে বিষয়টি জানতে পেরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাস ক্যাম্পাসে পৌঁছালে সেখানে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরাও উপস্থিত হন। সুমন বিষয়টি আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জানালে তারা এসে প্রধান ফটকে গাড়ি আটকায়। পরে আল-ফিকহ বিভাগের শিক্ষার্থীরাও সেখানে উপস্থিত হয়। এসময় দু পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সমাধানে রাত ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি ও উভয়পক্ষকের শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনায় বসে সমঝোতা করে দেয়া হয়। এরপর চলে যাওয়ার সময় আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা আল-ফিকহ বিভাগের শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ বললে অনুষদ ভবনের সামনে উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পরে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়। এসময় শিক্ষার্থীদের থামাতে গিয়েও মারধরের শিকার হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান, আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। পরে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু ফেলে মহাসড়ক অবরোধ

ইবির দুই শিক্ষক আহত, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

আপডেট সময় ০২:৪৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ইবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিন বেলা ১১ টার দিকে ক্যাম্পাসের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একইস্থানে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তারা।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, সব ঝামেলা মীমাংসা করার পরও ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্য এমনটা করা হয়েছে। সেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের শিক্ষকদের উপরেও হামলা করা হয়েছে। এসময় এই ন্যাক্কারজনক হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শনাক্ত করে বহিষ্কারের দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কুষ্টিয়া শহর থেকে ক্যাম্পাসে ছেড়ে আসা একটি ডাবল ডেকার বাসে আল-ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের তিন শিক্ষার্থী তাদের বন্ধুদের জন্য ‘জ্যাকেট’ দিয়ে দুইটি সিট ধরে রাখেন। পরে আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সুমন অভ্র বাসে উঠে তাদের ধরা সিটে বসেন বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে বিষয়টি নিয়ে সুমনের সঙ্গে আল-ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা হয়। তখন আল-ফিকহের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সিহাব ও রাকিব কথা বলতে গেলে সুমন রাকিবের শার্টের কলার ধরে। এতে তাদের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং সুমনের মুখে আঘাত লাগে।

সুমনের দাবি, সিটে বসা নিয়ে হাসান ভাইকে মারতে উদ্যত হলে তখন তাদের নিবৃত্ত করতে যায় সুমন। তখন রাকিব তার শার্টের কলার ধরে ঘুষি মারে ও শার্ট ছিড়ে দেয়। তবে রাকিব বলছে, সুমন আগে আমার শার্টের কলার ধরছিলো। পরে তাকে ধাক্কা দিয়েছি। শার্ট ছেড়ার মতো কোনকিছু হয়নি। সে হয়তো আমাকে ফাঁসানোর জন্য নিজেই নিজের শার্ট ছিড়েছে।

এদিকে বিষয়টি জানতে পেরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাস ক্যাম্পাসে পৌঁছালে সেখানে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরাও উপস্থিত হন। সুমন বিষয়টি আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জানালে তারা এসে প্রধান ফটকে গাড়ি আটকায়। পরে আল-ফিকহ বিভাগের শিক্ষার্থীরাও সেখানে উপস্থিত হয়। এসময় দু পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সমাধানে রাত ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি ও উভয়পক্ষকের শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনায় বসে সমঝোতা করে দেয়া হয়। এরপর চলে যাওয়ার সময় আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা আল-ফিকহ বিভাগের শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ বললে অনুষদ ভবনের সামনে উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পরে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়। এসময় শিক্ষার্থীদের থামাতে গিয়েও মারধরের শিকার হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান, আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। পরে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।