ময়মনসিংহ , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পরিচয় অনুসন্ধান নাকি পাসপোর্ট জালিয়াতি? নেত্রকোণায় আটক রোহিঙ্গা যুবককে ঘিরে ঘনীভূত রহস্য পূর্বধলায় কৃষি প্রণোদনা তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে ঘাগড়া চৌরাস্তায় সংবাদ সম্মেলন ​লোহালিয়া নদীর ওপর ৯ম মৈত্রী সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ ও চীনের চুক্তি রামিসা হত্যা মামলা: বিচার চেয়ে রোববার শুনানি করবেন অ্যাটর্নি জেনারেল ​আসছে নবম পে-স্কেল: ১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন বেতন কাঠামো ​হঠাৎ জার্সি বদলের চাপে হাইতি: ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে এসেই সংকটে দলটি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জনসহ দগ্ধ, ৫ ফুটবল বিশ্বকাপ: স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী জাতির প্রত্যাশা পূরণের লক্ষেই এবারের বাজেট প্রণয়ন জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি পাবনার উদ্যোগে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

জট খুলল স্বর্ণময়ী বিশ্বাসের মৃত্যুর রহস্য, পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নতুন তথ্য

পারিবারিক অভিমান ও দীর্ঘদিনের মানসিক হতাশাই সংবাদকর্মী স্বর্ণময়ী বিশ্বাসের মৃত্যুর কারণ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে (ফাইনাল রিপোর্ট) তার মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এতে পারিবারিক সম্পর্ক ও মানসিক চাপকে মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম গত ১৪ এপ্রিল আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন, যা ১৯ এপ্রিল গ্রহণ করা হয়।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ঢাকা স্ট্রিম’-এর গ্রাফিক্স ডিজাইনার স্বর্ণময়ী বিশ্বাসের (২৮) মরদেহ গত বছরের ১৮ অক্টোবর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সোবহানবাগ এলাকার নাভানা টাওয়ারের একটি বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে পারিবারিক অভিমান থেকেই তিনি আত্মহননের সিদ্ধান্ত নেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ব্লেড, একটি ওড়না, নোটবুক ও ডায়েরি উদ্ধার করা হয়। নোটবুকের দ্বিতীয় পাতায় স্বর্ণময়ীর হাতে লেখা ১৪৬ শব্দের একটি আবেগঘন বার্তা পাওয়া যায়, যেখানে তিনি লেখেন, ‘মায়ের জগতে আমি কোথাও ছিলাম না, ছিলাম শুধু দায়িত্ব হয়ে।’

চিরকুটে তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অভিমান থেকেই তিনি আত্মহননের সিদ্ধান্ত নেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সকালে থেকেই তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। বিকেলে তিনি নিজের হাতে ব্লেড দিয়ে হাত কেটে নেন এবং পরে কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করেন। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে স্বজনরা তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে ধানমণ্ডির একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর স্বর্ণময়ীর বড় ভাই সৌরভ বিশ্বাস শেরেবাংলা নগর থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীসময়ে তার মৃত্যু ঘিরে সহকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং তারা একটি সংবাদমাধ্যমের তৎকালীন বাংলা কনটেন্ট এডিটর আলতাফ শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মানববন্ধনও করেন।

তবে অভিযুক্ত সাংবাদিক আলতাফ শাহনেওয়াজ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি নিজেও অফিসিয়াল জটিলতা ও অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিক তদন্ত, আলামত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ভিত্তিতে এটি আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং এতে অন্য কোনো অপরাধমূলক সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিচয় অনুসন্ধান নাকি পাসপোর্ট জালিয়াতি? নেত্রকোণায় আটক রোহিঙ্গা যুবককে ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

জট খুলল স্বর্ণময়ী বিশ্বাসের মৃত্যুর রহস্য, পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নতুন তথ্য

আপডেট সময় ১১:২৩:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

পারিবারিক অভিমান ও দীর্ঘদিনের মানসিক হতাশাই সংবাদকর্মী স্বর্ণময়ী বিশ্বাসের মৃত্যুর কারণ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে (ফাইনাল রিপোর্ট) তার মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এতে পারিবারিক সম্পর্ক ও মানসিক চাপকে মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম গত ১৪ এপ্রিল আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন, যা ১৯ এপ্রিল গ্রহণ করা হয়।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ঢাকা স্ট্রিম’-এর গ্রাফিক্স ডিজাইনার স্বর্ণময়ী বিশ্বাসের (২৮) মরদেহ গত বছরের ১৮ অক্টোবর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সোবহানবাগ এলাকার নাভানা টাওয়ারের একটি বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে পারিবারিক অভিমান থেকেই তিনি আত্মহননের সিদ্ধান্ত নেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ব্লেড, একটি ওড়না, নোটবুক ও ডায়েরি উদ্ধার করা হয়। নোটবুকের দ্বিতীয় পাতায় স্বর্ণময়ীর হাতে লেখা ১৪৬ শব্দের একটি আবেগঘন বার্তা পাওয়া যায়, যেখানে তিনি লেখেন, ‘মায়ের জগতে আমি কোথাও ছিলাম না, ছিলাম শুধু দায়িত্ব হয়ে।’

চিরকুটে তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অভিমান থেকেই তিনি আত্মহননের সিদ্ধান্ত নেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সকালে থেকেই তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। বিকেলে তিনি নিজের হাতে ব্লেড দিয়ে হাত কেটে নেন এবং পরে কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করেন। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে স্বজনরা তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে ধানমণ্ডির একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর স্বর্ণময়ীর বড় ভাই সৌরভ বিশ্বাস শেরেবাংলা নগর থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীসময়ে তার মৃত্যু ঘিরে সহকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং তারা একটি সংবাদমাধ্যমের তৎকালীন বাংলা কনটেন্ট এডিটর আলতাফ শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মানববন্ধনও করেন।

তবে অভিযুক্ত সাংবাদিক আলতাফ শাহনেওয়াজ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি নিজেও অফিসিয়াল জটিলতা ও অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিক তদন্ত, আলামত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ভিত্তিতে এটি আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং এতে অন্য কোনো অপরাধমূলক সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।