ময়মনসিংহ , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পরিচয় অনুসন্ধান নাকি পাসপোর্ট জালিয়াতি? নেত্রকোণায় আটক রোহিঙ্গা যুবককে ঘিরে ঘনীভূত রহস্য পূর্বধলায় কৃষি প্রণোদনা তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে ঘাগড়া চৌরাস্তায় সংবাদ সম্মেলন ​লোহালিয়া নদীর ওপর ৯ম মৈত্রী সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ ও চীনের চুক্তি রামিসা হত্যা মামলা: বিচার চেয়ে রোববার শুনানি করবেন অ্যাটর্নি জেনারেল ​আসছে নবম পে-স্কেল: ১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন বেতন কাঠামো ​হঠাৎ জার্সি বদলের চাপে হাইতি: ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে এসেই সংকটে দলটি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জনসহ দগ্ধ, ৫ ফুটবল বিশ্বকাপ: স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী জাতির প্রত্যাশা পূরণের লক্ষেই এবারের বাজেট প্রণয়ন জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি পাবনার উদ্যোগে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

নেএকোণা যাচ্ছেউপজেলা আধুনিকতার যুগে হারিয়ে যাচ্ছে গরু দিয়ে ধান মাড়াইয়ের গ্রামীণ ঐতিহ্য

নেত্রকোনা মদন সময়ের পালাবদলে সময় যেন নিঃশব্দে বদলে যায়। একসময় নেত্রকোনা জেলার গ্রামগুলোতে বসন্তের শেষ গ্রীষ্মকাল মানেই ছিল ধান কাটার আনন্দ, আর সন্ধ্যার আলো নিভু–নিভু হলে উঠোনে গরুর হালে ধান মাড়াইয়ের সেই ব্যস্ততা। শিশুদের হাসি, বড়দের ডাকাডাকি, আর হালের গরুর ছন্দ—সব মিলিয়ে যেন এক গ্রামীণ জনপদে জীবনের সুর বাজতো। এখন বসন্তের শেষ প্রান্তে সেই সুর আর শোনা যায় না।

গরুর খুরের শব্দ হারিয়ে গেছে, জায়গা নিয়েছে ডিজিটাল যুগের ধাতব মেশিনের ঘূর্ণন, মাড়াইকল। গ্রামের মানুষ জানে-সময় এগিয়েছে, প্রযুক্তি এসেছে। তবুও মনে কোথাও যেন একটু খচখচে শূন্যতা রয়ে বেড়ায় এক অপূর্ণতা। নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার কদমশ্রী গ্রামের কৃষক বশির মিয়া বলেন, “একসময় রাতভর ধান মাড়াই চলত। গরুর পায়ের শব্দে পুরো গ্রাম জেগে উঠত। সবাই মিলে কাজ করতাম। এখন সেই দিন আর নেই।

যন্ত্র আছে, কাজও হয়-কিন্তু সেই মিলন, সেই আনন্দটা হারিয়ে গেছে সময়ের পালাবদলে।” এদিকে মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর গ্রামের কৃষক ফারুক মিয়া বলেন, “আমরা জানি যন্ত্রই এখন ভরসা। জমি প্রস্তুত করতে, ধান কাটতে, মাড়াই করতে—সবকিছুতেই গতি এসেছে। কিন্তু গরু দিয়ে ধান মাড়াই ছিল আমাদের জীবনের অংশ। মনে হয়, যেন একটা ইতিহাস চোখের সামনে হঠাৎ করেই হারিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নে কৃষিকে এগিয়ে নিয়েছে-এটাই সময়ের দাবি ছিল।

“আগে যে কাজ করতে অনেক সময়, শ্রম ও ঝুঁকি ছিল, এখন তা সহজ হয়েছে। তবু এসব ঐতিহ্যকে নথিভুক্ত করে আগামী প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা জরুরি-কারণ এগুলোই আমাদের কৃষিজীবনের গ্ৰামীন শেকড়ের গল্প।”সময় এগোচ্ছে, কৃষির কাঠামো বদলে যাচ্ছে। কিন্তু গ্রামীণ জীবনের কিছু দৃশ্য থাকে এমন—যেগুলো অদৃশ্য হয়ে গেলেও মানুষের মনে বয়ে বেড়ায় সারাজীবন। নেত্রকোনার মানুষ তাই বলছেন, আধুনিকতার সুফল তারা যেমন গ্রহণ করছেন, তেমনি গরু দিয়ে ধান মাড়াইয়ের মতো শত শত বছরের ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ায় একটুখানি বেদনা থেকেই । কারণ এই ঐতিহ্য শুধু কাজের পদ্ধতি ছিল না—এ ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের সম্পর্ক, হাঁসি ,উৎসব আর একসাথে বেঁচে থাকার দৈনন্দিন গল্প।
বিষয়:
নেত্রকোনা কৃষিগরু দিয়ে ধান মাড়াইগ্রামীণ ঐতিহ্য বাংলাদেশআধুনিক কৃষি প্রযুক্তিমদন উপজেলাকৃষকের জীবনদৈনিক লোকালয়
সর্বশেষ খবর পেতে Facebook Feed ফিড ফলো করুন
পঠিতসর্বশেষ

স্বপ্নে সাপ দেখা: ইসলামিক ব্যাখ্যায় কী ইঙ্গিত দেয়?

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিচয় অনুসন্ধান নাকি পাসপোর্ট জালিয়াতি? নেত্রকোণায় আটক রোহিঙ্গা যুবককে ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

নেএকোণা যাচ্ছেউপজেলা আধুনিকতার যুগে হারিয়ে যাচ্ছে গরু দিয়ে ধান মাড়াইয়ের গ্রামীণ ঐতিহ্য

আপডেট সময় ১০:৩৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

নেত্রকোনা মদন সময়ের পালাবদলে সময় যেন নিঃশব্দে বদলে যায়। একসময় নেত্রকোনা জেলার গ্রামগুলোতে বসন্তের শেষ গ্রীষ্মকাল মানেই ছিল ধান কাটার আনন্দ, আর সন্ধ্যার আলো নিভু–নিভু হলে উঠোনে গরুর হালে ধান মাড়াইয়ের সেই ব্যস্ততা। শিশুদের হাসি, বড়দের ডাকাডাকি, আর হালের গরুর ছন্দ—সব মিলিয়ে যেন এক গ্রামীণ জনপদে জীবনের সুর বাজতো। এখন বসন্তের শেষ প্রান্তে সেই সুর আর শোনা যায় না।

গরুর খুরের শব্দ হারিয়ে গেছে, জায়গা নিয়েছে ডিজিটাল যুগের ধাতব মেশিনের ঘূর্ণন, মাড়াইকল। গ্রামের মানুষ জানে-সময় এগিয়েছে, প্রযুক্তি এসেছে। তবুও মনে কোথাও যেন একটু খচখচে শূন্যতা রয়ে বেড়ায় এক অপূর্ণতা। নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার কদমশ্রী গ্রামের কৃষক বশির মিয়া বলেন, “একসময় রাতভর ধান মাড়াই চলত। গরুর পায়ের শব্দে পুরো গ্রাম জেগে উঠত। সবাই মিলে কাজ করতাম। এখন সেই দিন আর নেই।

যন্ত্র আছে, কাজও হয়-কিন্তু সেই মিলন, সেই আনন্দটা হারিয়ে গেছে সময়ের পালাবদলে।” এদিকে মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর গ্রামের কৃষক ফারুক মিয়া বলেন, “আমরা জানি যন্ত্রই এখন ভরসা। জমি প্রস্তুত করতে, ধান কাটতে, মাড়াই করতে—সবকিছুতেই গতি এসেছে। কিন্তু গরু দিয়ে ধান মাড়াই ছিল আমাদের জীবনের অংশ। মনে হয়, যেন একটা ইতিহাস চোখের সামনে হঠাৎ করেই হারিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নে কৃষিকে এগিয়ে নিয়েছে-এটাই সময়ের দাবি ছিল।

“আগে যে কাজ করতে অনেক সময়, শ্রম ও ঝুঁকি ছিল, এখন তা সহজ হয়েছে। তবু এসব ঐতিহ্যকে নথিভুক্ত করে আগামী প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা জরুরি-কারণ এগুলোই আমাদের কৃষিজীবনের গ্ৰামীন শেকড়ের গল্প।”সময় এগোচ্ছে, কৃষির কাঠামো বদলে যাচ্ছে। কিন্তু গ্রামীণ জীবনের কিছু দৃশ্য থাকে এমন—যেগুলো অদৃশ্য হয়ে গেলেও মানুষের মনে বয়ে বেড়ায় সারাজীবন। নেত্রকোনার মানুষ তাই বলছেন, আধুনিকতার সুফল তারা যেমন গ্রহণ করছেন, তেমনি গরু দিয়ে ধান মাড়াইয়ের মতো শত শত বছরের ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ায় একটুখানি বেদনা থেকেই । কারণ এই ঐতিহ্য শুধু কাজের পদ্ধতি ছিল না—এ ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের সম্পর্ক, হাঁসি ,উৎসব আর একসাথে বেঁচে থাকার দৈনন্দিন গল্প।
বিষয়:
নেত্রকোনা কৃষিগরু দিয়ে ধান মাড়াইগ্রামীণ ঐতিহ্য বাংলাদেশআধুনিক কৃষি প্রযুক্তিমদন উপজেলাকৃষকের জীবনদৈনিক লোকালয়
সর্বশেষ খবর পেতে Facebook Feed ফিড ফলো করুন
পঠিতসর্বশেষ

স্বপ্নে সাপ দেখা: ইসলামিক ব্যাখ্যায় কী ইঙ্গিত দেয়?