ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঈশ্বরগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমিতে ভবন নির্মাণ: বাধা দেয়ায় মা জেলহাজতে, কাঁদছে আড়াই বছরের শিশু শিগগিরই কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়ক উন্নয়নের আশ্বাস দিলেন সড়কমন্ত্রী বিগত সরকার বিদ্যুতের ৪০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী পূর্বধলায় স্বর্ণ সুধা যুব উন্নয়ন সমিতির কার্যক্রম পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত, ধানখেত থেকে ১৪০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার পূর্বধলা থানায় নয়া ওসির দায়িত্ব গ্রহণ সিএমপি কমিশনারের ‘ওপেন হাউজ ডে’-তে সেবা নিলেন সেবাপ্রত্যাশীরা আড়াই ঘণ্টা পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে নৌযান চলাচল শুরু এমন বৃষ্টি কতদিন থাকবে, বার্তা আবহাওয়া অফিসের ​৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৫ জেলায় তীব্র বন্যার শঙ্কা
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

পাবনা জেলা ফরিদপুর উপজেলায় নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণদের চরম ভোগান্তি

পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবা গ্রহীতাগণদের ভোগান্তির শেষ নেই। জমির দলিল করতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও কাঙিক্ষত সেবা মিলছে না। এতে করে একদিকে যেমন সরকার বড় অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে জমিজমা, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তি বেচাকেনা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। জমি ক্রেতা বিক্রেতাদের সঠিক সেবা দিতে না পারায় সাব-রেজিস্ট্রী অফিসকে কেন্দ্র করে যারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন সেই দলিল লেখকগণ, ভেন্ডার ও তাদের সহযোগীদের সহস্ত্রাধিক পরিবার বেকার হয়ে পড়ছেন। যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে বাজে প্রভাব ফেলছে। সরকারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস সাব-রেজিস্ট্রী কার্যালয়।

এলাকার সব জমিজমা ও স্থাপনার দলিল সম্পাদন এখানে হয়ে থাকে এখানে। এলাকায় জমিজমা হস্তান্তর হয়ে থাকে। যার ফলে সরকারি কোষাগারে বড় অংকের রাজস্ব যোগ হয়। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত সপ্তাহে পাঁচদিন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিস চালু থেকেও সেবা গ্রহীতাগণদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জানা গেছে যে, পার্শবর্তী চাটমোহর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আলমগীর হোসেনকে এ অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি সপ্তাহে মাত্র একদিন অফিস করেন, বাকি চাটমোহর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে বসেন।
নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণরা বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। অনেকে ভোগান্তির কারণে দলিল সম্পাদন করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এসব দুর্ভোগের কারণে জমির মালিকগণরা জমি বেচাকেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি দলিল লেখকগণরাও বেকার হয়ে পড়ছেন। ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের দলিল লেখকগণরা প্রায় একই রকম তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন, সপ্তাহে একদিন জমি রেজিস্ট্রী করতে গেলে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ব্যাংক ড্রাফট, জমির কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জোগাড় করতেই বেলা শেষ হয়ে যায়। ওইদিন কোনো কারণে জমির দলিল না হলে পরের সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আবার কাগজে কোনো গ্যাপ থাকলে পরের সপ্তাহেও দলিল হয় না। ফরিদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা জমি বেচাকেনা করতে আসা ব্যাক্তিদের সঙ্গে সরেজমিনে আলাপকালে জমি রেজিস্ট্রী করতে এসে তাদের দুর্ভোগের কথা জানা যায়।

ফরিদপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি/সম্পাদক বলেন, সপ্তাহে মাত্র একদিন দলিল হওয়ায় সেবা গ্রহীতাগণদের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। আরও বলেন, নিয়িমিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় দলিল একেবারেই কমে গেছে। ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, আমি খণ্ডকালীন এ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছি। ফরিদপুর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার না থাকার কারণে দলিল রেজিস্ট্রীতে গ্রাহকগণদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ সূত্রতা, দলিলে স্বাক্ষর না হওয়া, দাতাগণ-গ্রহীতাগণের বারবার আসা-যাওয়া এবং অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে যে ধরণের ভোগান্তি হয়। দীর্ঘ সূত্রতা ও দলিল স্বাক্ষর না হওয়া বদলি বা অনুপস্থিতির কারণে শতশত দলিলে স্বাক্ষর আটকে থাকে, ফলে জমির মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। আর্থিক ও শারীরিক ভোগান্তি দাতাগণ ও গ্রহীতাগনদের দিনের পর দিন সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে এসে হয়রানির শিকার হতে হয়। দালাল ও দুর্নীতির সুযোগ নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং দলিল দ্রুত করতে অতিরিক্ত অর্থের দাবি করে। আইনি ও ভবিষ্যৎ জটিলতা দলিল ঠিক সময়ে রেজিস্ট্রী না হলে নামজারি বা ভূমি রেকর্ড সংশোধনে জটিলতা দেখা দেয়। সময় মতো দলিলে স্বাক্ষর না হওয়া দলিল দাতাগণ দলিলে স্বাক্ষর করে গেলেও সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় তা যাচাই ও রেজিস্ট্রী করা যায় না।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈশ্বরগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমিতে ভবন নির্মাণ: বাধা দেয়ায় মা জেলহাজতে, কাঁদছে আড়াই বছরের শিশু

পাবনা জেলা ফরিদপুর উপজেলায় নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণদের চরম ভোগান্তি

আপডেট সময় ১২:০৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবা গ্রহীতাগণদের ভোগান্তির শেষ নেই। জমির দলিল করতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও কাঙিক্ষত সেবা মিলছে না। এতে করে একদিকে যেমন সরকার বড় অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে জমিজমা, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তি বেচাকেনা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। জমি ক্রেতা বিক্রেতাদের সঠিক সেবা দিতে না পারায় সাব-রেজিস্ট্রী অফিসকে কেন্দ্র করে যারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন সেই দলিল লেখকগণ, ভেন্ডার ও তাদের সহযোগীদের সহস্ত্রাধিক পরিবার বেকার হয়ে পড়ছেন। যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে বাজে প্রভাব ফেলছে। সরকারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস সাব-রেজিস্ট্রী কার্যালয়।

এলাকার সব জমিজমা ও স্থাপনার দলিল সম্পাদন এখানে হয়ে থাকে এখানে। এলাকায় জমিজমা হস্তান্তর হয়ে থাকে। যার ফলে সরকারি কোষাগারে বড় অংকের রাজস্ব যোগ হয়। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত সপ্তাহে পাঁচদিন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিস চালু থেকেও সেবা গ্রহীতাগণদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জানা গেছে যে, পার্শবর্তী চাটমোহর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আলমগীর হোসেনকে এ অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি সপ্তাহে মাত্র একদিন অফিস করেন, বাকি চাটমোহর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে বসেন।
নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণরা বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। অনেকে ভোগান্তির কারণে দলিল সম্পাদন করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এসব দুর্ভোগের কারণে জমির মালিকগণরা জমি বেচাকেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি দলিল লেখকগণরাও বেকার হয়ে পড়ছেন। ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের দলিল লেখকগণরা প্রায় একই রকম তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন, সপ্তাহে একদিন জমি রেজিস্ট্রী করতে গেলে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ব্যাংক ড্রাফট, জমির কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জোগাড় করতেই বেলা শেষ হয়ে যায়। ওইদিন কোনো কারণে জমির দলিল না হলে পরের সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আবার কাগজে কোনো গ্যাপ থাকলে পরের সপ্তাহেও দলিল হয় না। ফরিদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা জমি বেচাকেনা করতে আসা ব্যাক্তিদের সঙ্গে সরেজমিনে আলাপকালে জমি রেজিস্ট্রী করতে এসে তাদের দুর্ভোগের কথা জানা যায়।

ফরিদপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি/সম্পাদক বলেন, সপ্তাহে মাত্র একদিন দলিল হওয়ায় সেবা গ্রহীতাগণদের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। আরও বলেন, নিয়িমিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় দলিল একেবারেই কমে গেছে। ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, আমি খণ্ডকালীন এ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছি। ফরিদপুর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার না থাকার কারণে দলিল রেজিস্ট্রীতে গ্রাহকগণদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ সূত্রতা, দলিলে স্বাক্ষর না হওয়া, দাতাগণ-গ্রহীতাগণের বারবার আসা-যাওয়া এবং অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে যে ধরণের ভোগান্তি হয়। দীর্ঘ সূত্রতা ও দলিল স্বাক্ষর না হওয়া বদলি বা অনুপস্থিতির কারণে শতশত দলিলে স্বাক্ষর আটকে থাকে, ফলে জমির মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। আর্থিক ও শারীরিক ভোগান্তি দাতাগণ ও গ্রহীতাগনদের দিনের পর দিন সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে এসে হয়রানির শিকার হতে হয়। দালাল ও দুর্নীতির সুযোগ নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং দলিল দ্রুত করতে অতিরিক্ত অর্থের দাবি করে। আইনি ও ভবিষ্যৎ জটিলতা দলিল ঠিক সময়ে রেজিস্ট্রী না হলে নামজারি বা ভূমি রেকর্ড সংশোধনে জটিলতা দেখা দেয়। সময় মতো দলিলে স্বাক্ষর না হওয়া দলিল দাতাগণ দলিলে স্বাক্ষর করে গেলেও সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় তা যাচাই ও রেজিস্ট্রী করা যায় না।