ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল বসানো হবে জানিয়েছেন শিক্ষা সচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয় জানিয়েছেন ইসি আনোয়ারুল ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না জানিয়েছেন মীর শাহে আলম নেত্রকোনা মদনে শহীদ স্মরণিকা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চারটি ক্লাবের শুভ উদ্বোধন আসন্ন পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মৎস্যজীবী দলের নেতা মোহাম্মদ আলী রাষ্ট্রপতি সিলেট সফরে যাচ্ছেন আজ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন: পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির পাশে জেলা প্রশাসন, চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ডিসি মুকসুদপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দফায় দফায় ১২ বার চুরি, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

পূর্বধলায় ‘নূর কস্তরী-৯৫ জর্দা’ নকলের দায়ে ২ জনের কারাদণ্ড, তবুও বন্ধ হয়নি নকল কারবার

  • মোঃ নজরুল ইসলাম
  • আপডেট সময় ০২:৪৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০২ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোনার পূর্বধলায় পরিচিত ব্র্যান্ড ‘নূর-৯৫ কস্তুরী জর্দা’-এর নাম, লোগো ও মোড়ক নকল করে নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করার দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে রায় কার্যকর ও আসামীরা আটক হলেও বাজারে এখনো নকল পণ্যে পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ি।

জানা যায়, মোহাম্মদ নুরউদ্দীন ফকির, পূর্বধলার হোগলা ইউনিয়নের ভরাকান্দা এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি ২০১৬ সাল থেকে “নূর-৯৫ কস্তুরী জর্দা” নামে জর্দা উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারজাত করে আসছিলেন। তার প্রতিষ্ঠানের নামে বৈধ ট্রেড লাইসেন্স (নং-২০২৩৭২১৮৩৬৩০০০২৬৭), বিআইএন নম্বর এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক সনদ (নং-২৬৪৭৭৬, তারিখ: ২৪/০৮/২০২১) রয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র নিয়ে তিনি নিয়মিত কর প্রদান করে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার চারিয়া বাজারের খাইরুল ইসলাম এবং পূর্বধলার হোগলা বাজার এলাকার সাইন উদ্দীন ফকির একই নাম, লোগো ও মোড়ক ব্যবহার করে নিম্নমানের জর্দা উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিলেন। এতে ভোক্তারা বিভ্রান্ত হচ্ছিলেন এবং মূল ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছিল।

এ ঘটনায় ২০২১ সালে আসামিদের আইনি নোটিশ দেওয়া হলে তারা দোষ স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার আশ্বাস দেন। তবে পরবর্তীতে আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নকল পণ্য বাজারে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হলে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা করা হয়।

গত ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে আদালত দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৮২ ধারায় দুই আসামিকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। রায়ের পর ১৮ মার্চ সাইন উদ্দীন ফকিরকে পলাতক থাকা অবস্থায় ময়মনসিংহের ধোবাউড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পূর্বধলা থানা পুলিশ। অপর আসামি খাইরুল ইসলাম ৩১ মার্চ নেত্রকোনা আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তাকেও আটক করা হয়।

তবে দণ্ড কার্যকরের পরও নকল পণ্যের কারবার বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মূল ব্র্যান্ডের স্বত্বাধিকারী নুরউদ্দীন ফকির। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা এখনো একই নামে পণ্য বাজারজাত করছেন। বাজারে এখনো নকল ‘নূর-৯৫ কস্তুরী জর্দা পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “আমি বৈধ কাগজপত্র নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হুবহু আমার ব্র্যান্ড নকল করে পণ্য বিক্রি করছে। একাধিকবার নিষেধ করলেও তারা তা মানেনি।”

নকল পণ্যের বিস্তার রোধে ভোক্তা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহার করে প্রতারণা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল বসানো হবে জানিয়েছেন শিক্ষা সচিব

পূর্বধলায় ‘নূর কস্তরী-৯৫ জর্দা’ নকলের দায়ে ২ জনের কারাদণ্ড, তবুও বন্ধ হয়নি নকল কারবার

আপডেট সময় ০২:৪৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

নেত্রকোনার পূর্বধলায় পরিচিত ব্র্যান্ড ‘নূর-৯৫ কস্তুরী জর্দা’-এর নাম, লোগো ও মোড়ক নকল করে নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করার দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে রায় কার্যকর ও আসামীরা আটক হলেও বাজারে এখনো নকল পণ্যে পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ি।

জানা যায়, মোহাম্মদ নুরউদ্দীন ফকির, পূর্বধলার হোগলা ইউনিয়নের ভরাকান্দা এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি ২০১৬ সাল থেকে “নূর-৯৫ কস্তুরী জর্দা” নামে জর্দা উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারজাত করে আসছিলেন। তার প্রতিষ্ঠানের নামে বৈধ ট্রেড লাইসেন্স (নং-২০২৩৭২১৮৩৬৩০০০২৬৭), বিআইএন নম্বর এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক সনদ (নং-২৬৪৭৭৬, তারিখ: ২৪/০৮/২০২১) রয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র নিয়ে তিনি নিয়মিত কর প্রদান করে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার চারিয়া বাজারের খাইরুল ইসলাম এবং পূর্বধলার হোগলা বাজার এলাকার সাইন উদ্দীন ফকির একই নাম, লোগো ও মোড়ক ব্যবহার করে নিম্নমানের জর্দা উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিলেন। এতে ভোক্তারা বিভ্রান্ত হচ্ছিলেন এবং মূল ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছিল।

এ ঘটনায় ২০২১ সালে আসামিদের আইনি নোটিশ দেওয়া হলে তারা দোষ স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার আশ্বাস দেন। তবে পরবর্তীতে আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নকল পণ্য বাজারে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হলে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা করা হয়।

গত ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে আদালত দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৮২ ধারায় দুই আসামিকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। রায়ের পর ১৮ মার্চ সাইন উদ্দীন ফকিরকে পলাতক থাকা অবস্থায় ময়মনসিংহের ধোবাউড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পূর্বধলা থানা পুলিশ। অপর আসামি খাইরুল ইসলাম ৩১ মার্চ নেত্রকোনা আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তাকেও আটক করা হয়।

তবে দণ্ড কার্যকরের পরও নকল পণ্যের কারবার বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মূল ব্র্যান্ডের স্বত্বাধিকারী নুরউদ্দীন ফকির। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা এখনো একই নামে পণ্য বাজারজাত করছেন। বাজারে এখনো নকল ‘নূর-৯৫ কস্তুরী জর্দা পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “আমি বৈধ কাগজপত্র নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হুবহু আমার ব্র্যান্ড নকল করে পণ্য বিক্রি করছে। একাধিকবার নিষেধ করলেও তারা তা মানেনি।”

নকল পণ্যের বিস্তার রোধে ভোক্তা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহার করে প্রতারণা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।