ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মাহমুদা আক্তার বন্যা কে সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হিসেবে দেখতে চায় ময়মনসিংহবাসী লাল খান উচ্চ বিদ্যালয়-এ অতিরিক্ত ফিস আদায়ের অভিযোগ চট্রগ্রামের সাতকানিয়ায় ট্রাক চাপায় নালিতাবাড়ীর কলেজ ছাত্র নিহত নালিতাবাড়ী পৌর শহরে মোবাইল কোর্ট ঘিরে উত্তেজনা, ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ ফুলেল শুভেচ্ছায় সম্মানিত আলহাজ্ব সালমান ওমর রুবেল, প্রত্যাশা বাস্তব অগ্রগতির বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘটনা বর্তমান সরকার সমর্থিত ‘মব কালচারের’ আনুষ্ঠানিক সূচনা বললেন ডা. শফিকুর রহমান আপিল বিভাগ মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খান আকরামকে খালাস দিলেন আংশিক মেঘলা থাকতে পারে ঢাকার আকাশ জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর আহসান মনসুরকে সরিয়ে আর্থিক খাতে লুটপাটের পথ উন্মুক্ত করল বিএনপি বলে মন্তব্য করেছেন নাহিদ ইসলাম আজ প্রধানমন্ত্রী একুশে পদক প্রদান করবেন
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

আজ শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা , দুপুরে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

  • ডিজিটাল রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০১:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। 

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল পেয়েছে। মোট ইউনিট সংখ্যা ১ হাজার ১৮টি। গত বছর অংশ নিয়েছিল ৭০৮টি প্রতিষ্ঠান, ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি।

প্রবেশ-বাহিরপথে পরিবর্তন

মেলার বিন্যাস গতবারের মতো থাকলেও মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে বাহিরপথ কিছুটা সরিয়ে মন্দির গেটের কাছে নেয়া হয়েছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে থাকবে চারটি প্রবেশ ও বাহিরপথ।

খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে সুবিন্যস্তভাবে রাখা হয়েছে। নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সেবা অব্যাহত থাকবে। পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে তারাবি নামাজের ব্যবস্থাও থাকবে।

২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি

বইমেলায় বাংলা একাডেমি ও অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রি করবে। বাংলা একাডেমির বই ও পত্রপত্রিকা বিক্রির জন্য মেলার দুই অংশেই স্টল থাকবে।

প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’। শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের ব্যবস্থাও থাকবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

নিরাপত্তা ও পরিবেশে জোর

মেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে থাকবে পর্যাপ্ত আর্চওয়ে। সার্বিক নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। মেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে।

মেলাপ্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ধূলিবালি নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানো এবং মশক নিধনের ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা।

ডিএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার জানান, অমর একুশে গ্রন্থমেলা ঘিরে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মেলা চলাকালীন সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য প্রায় ৩০০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সাদা পোশাকের বিশেষ পুলিশের টিম মোতায়েন থাকবে পুরো এলাকা জুড়ে।

তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশুদের জন্য নেয়া হয়েছে আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের পাশাপাশি সোয়াটটিম সবসময় প্রস্তুত থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীর চাপ বাড়বে বিবেচনায় বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে মেলা প্রাঙ্গণের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আগতদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতেও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এমন কোনো বই স্টলে রয়েছে কি না, সে বিষয়েও সতর্ক নজরদারিতে থাকবে পুলিশ। পাশাপাশি কোনো ধরনের মব পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে জানান তিনি।

সময়সূচি

২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত (ছুটির দিন ব্যতীত) প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। রাত ৮টা ৩০ মিনিটের পর নতুন করে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিনে মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

‘জিরো ওয়েস্ট’ বইমেলার উদ্যোগ

আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের আয়োজনকে পরিবেশ সচেতন ও ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। স্টল, মঞ্চ, ব্যানার, লিফলেট ও খাবারের দোকানসহ সব ক্ষেত্রে পাট, কাপড়, কাগজের মতো পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

রীতি অনুযায়ী বইমেলা শুরু হয় ভাষার মাসের প্রথম দিন, আর সেই মেলার উদ্বোধন করেন সরকার প্রধান। তবে চলতি বছর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং রোজার কারণ দেখিয়ে ডিসেম্বরে এই মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে তা কয়েক দফা পিছিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাহমুদা আক্তার বন্যা কে সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হিসেবে দেখতে চায় ময়মনসিংহবাসী

আজ শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা , দুপুরে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:০১:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। 

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল পেয়েছে। মোট ইউনিট সংখ্যা ১ হাজার ১৮টি। গত বছর অংশ নিয়েছিল ৭০৮টি প্রতিষ্ঠান, ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি।

প্রবেশ-বাহিরপথে পরিবর্তন

মেলার বিন্যাস গতবারের মতো থাকলেও মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে বাহিরপথ কিছুটা সরিয়ে মন্দির গেটের কাছে নেয়া হয়েছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে থাকবে চারটি প্রবেশ ও বাহিরপথ।

খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে সুবিন্যস্তভাবে রাখা হয়েছে। নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সেবা অব্যাহত থাকবে। পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে তারাবি নামাজের ব্যবস্থাও থাকবে।

২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি

বইমেলায় বাংলা একাডেমি ও অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রি করবে। বাংলা একাডেমির বই ও পত্রপত্রিকা বিক্রির জন্য মেলার দুই অংশেই স্টল থাকবে।

প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’। শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের ব্যবস্থাও থাকবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

নিরাপত্তা ও পরিবেশে জোর

মেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে থাকবে পর্যাপ্ত আর্চওয়ে। সার্বিক নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। মেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে।

মেলাপ্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ধূলিবালি নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানো এবং মশক নিধনের ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা।

ডিএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার জানান, অমর একুশে গ্রন্থমেলা ঘিরে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মেলা চলাকালীন সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য প্রায় ৩০০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সাদা পোশাকের বিশেষ পুলিশের টিম মোতায়েন থাকবে পুরো এলাকা জুড়ে।

তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশুদের জন্য নেয়া হয়েছে আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের পাশাপাশি সোয়াটটিম সবসময় প্রস্তুত থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীর চাপ বাড়বে বিবেচনায় বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে মেলা প্রাঙ্গণের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আগতদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতেও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এমন কোনো বই স্টলে রয়েছে কি না, সে বিষয়েও সতর্ক নজরদারিতে থাকবে পুলিশ। পাশাপাশি কোনো ধরনের মব পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে জানান তিনি।

সময়সূচি

২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত (ছুটির দিন ব্যতীত) প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। রাত ৮টা ৩০ মিনিটের পর নতুন করে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিনে মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

‘জিরো ওয়েস্ট’ বইমেলার উদ্যোগ

আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের আয়োজনকে পরিবেশ সচেতন ও ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। স্টল, মঞ্চ, ব্যানার, লিফলেট ও খাবারের দোকানসহ সব ক্ষেত্রে পাট, কাপড়, কাগজের মতো পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

রীতি অনুযায়ী বইমেলা শুরু হয় ভাষার মাসের প্রথম দিন, আর সেই মেলার উদ্বোধন করেন সরকার প্রধান। তবে চলতি বছর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং রোজার কারণ দেখিয়ে ডিসেম্বরে এই মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে তা কয়েক দফা পিছিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।