ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেলেও যুক্তরাষ্ট্র আর কখনোই আফগানিস্তান বা ইরাকের মতো বহু বছরের দীর্ঘস্থায়ী কোনো যুদ্ধে জড়াবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
গত সোমবার (২ মার্চ) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটিই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং তা হলো ইরান যাতে ‘কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে’ সেটি নিশ্চিত করা। ভ্যান্সের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কৌশলের একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের বদলে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
ভ্যান্সের মতে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনোভাবেই এই দেশটিকে বহু বছরের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে দেবেন না এবং অতীতে ইরাক ও আফগানিস্তানে আমরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি, তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।’
এই কারণেই মার্কিন প্রশাসন কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ হবে অত্যন্ত লক্ষ্যভেদী এবং এর উদ্দেশ্য হবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেওয়া, কোনো জাতিকে বছরের পর বছর দখল করে রাখা নয়।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম উত্তেজনার মাঝে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন অতীতের সামরিক ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়েছে এবং তারা কেবল নির্দিষ্ট কৌশলগত বিজয় অর্জনেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
তিনি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, কূটনীতি ব্যর্থ হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা থাকলেও তা হবে অত্যন্ত দ্রুত ও কার্যকর। ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমনে যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো ছাড় দেবে না, ভ্যান্সের বক্তব্যে তা আরও একবার পরিষ্কার হয়ে উঠল।

ডিজিটাল ডেস্ক 






















