বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসিরউদ্দিন। বর্তমানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয় পদ শূন্য থাকায় সংবিধানের বিশেষ বিধান অনুযায়ী সিইসি এই দায়িত্ব পালন করবেন বলে সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের বিভিন্ন উপ-ধারায় বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকার বা তার মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ পাঠ করাতে ব্যর্থ হলে বা পদটি শূন্য থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ওপর এই আইনি বাধ্যবাধকতা বর্তায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্পিকারের পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
এছাড়া সংবিধানের ৩ নম্বর তফসিল অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে সিইসি এই কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার আগেই সংসদ অধিবেশন কক্ষ ও শপথ কক্ষ সংস্কারের কাজ শেষ করে নতুন সংসদ সদস্যদের বরণের জন্য প্রস্তুত করা হবে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শাহদীন মালিকের মতে, স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে সিইসির মাধ্যমে শপথ নেওয়া পুরোপুরি বৈধ এবং এটি রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই পড়ে। তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, শপথ গ্রহণে বিলম্ব হলে সংসদের বৈধতা ও কার্যক্রম শুরু নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আইন অনুযায়ী নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করা সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ গঠিত হয়।
সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র লেজিসলেটিভ ড্রাফট এমএম ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, যদিও এখনও চূড়ান্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি, তবে তারা সংবিধানের ১৪৮-এর ২ অনুচ্ছেদ এবং ২(ক) অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা মাথায় রেখেই যাবতীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। এর ফলে কোনো ধরনের সাংবিধানিক সংকট ছাড়াই নতুন সংসদ যাত্রা শুরু করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিজিটাল রিপোর্ট 





















