সীমান্তে থামছে না ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বেআইনি পুশইনের চেষ্টা। রাজশাহীর সীমান্ত জেলাগুলোতে কেবল জুন মাসেই ১১৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। বিজিবি ও গ্রামবাসীদের শক্ত প্রতিরোধে বিএসএফ-এর এই চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হলেও থেমে নেই তাদের অপতৎপরতা।
উতপ্ত রোদ আর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে সীমান্তের শূন্যরেখায় চরম অনিশ্চয়তায় দাঁড়িয়ে আছেন নারী ও শিশুসহ ৯ জন মানুষ। পেছনে বিএসএফের বন্দুকের নল, আর সামনে বাংলাদেশের ভূখণ্ড রক্ষায় বিজিবির শক্ত পাহারা, এমনই এক নির্মম চিত্র দেখা গেছে গত ২৪ জুন নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে। রাতের আঁধারে অত্যন্ত অমানবিক উপায়ে এই নিরীহ মানুষগুলোকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় বিএসএফ। কিন্তু বিজিবির অনড় অবস্থানের কারণে তারা ব্যর্থ হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উত্তরের সীমান্ত এলাকায় আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে বিএসএফের পুশইন তৎপরতা। জুন মাসেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও রাজশাহীর সীমান্ত দিয়ে অন্তত ১৫টি এমন পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। তথাকথিত ‘বাংলাদেশি তকমা’ দিয়ে বিএসএফ এই গোপন মিশনগুলো চালালেও সচেতন গ্রামবাসী ও বিজিবির সজাগ দৃষ্টির কারণে প্রতিবারই তারা পুশব্যাক হতে বাধ্য হয়েছে।
রাজশাহী অঞ্চলের ৫টি জেলায় মোট ৪৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা রয়েছে। জুন মাসে বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফ-এর পুশইনের চেষ্টার পরিসংখ্যানে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের ৩ জুন গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে ২৮ জন, ১২ জুন গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে ১৫ জন এবং ২০ জুন শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। নওগাঁ সীমান্তের ৫ জুন কলমুডাঙ্গা সীমান্তে ১৯ জন, ৭ জুন নীতপুর সীমান্তে ২৫ জন এবং ২৪ জুন পাতারী সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। এছাড়া ১৩ জুন রাজশাহীর চারঘাট সীমান্তে ১ জন এবং ১৪ জুন জয়পুরহাট পাঁচবিবির হাটখোলা সীমান্তে ১ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালায় বিএসএফ।
নওগাঁর সাপাহার পাতারী গ্রামের বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আমরা সব সময় সতর্ক থাকি বিএসএফের পুশইন ঠেকানোর জন্য।‘আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনা প্রমাণে এবং একতরফাভাবে এভাবে মানুষ ঠেলে দেওয়া স্পষ্ট আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। রাতের আঁধারে নারী ও শিশুদের এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে ঠেলে দেওয়াকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
আন্তর্জাতিক আইন বিশ্লেষক এডভোকেট ডিএম আব্দুল বারী বলেন, ‘এটা খুব অন্যায় করছে বিএসএফ। কারণ আন্তর্জাতিক আইন তারা মানছে না।’
‘হিউম্যান রাইটস মনিটরিং অফিসার নাইস পারভিন বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন পঞ্চগড় সীমান্তে কতটা অমানবিক ভাবে নারী-পুরুষকে সেখানে ৩ দিন থাকতে হলো। এটা আমাদের ভারত প্রতিবেশী বড় দেশ হিসেবে খুব লজ্জার। এমন আচরণ তারা করতে পারেন না।’
রাজশাহী অঞ্চলের ৫টি জেলায় ৪৪৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে। বিজিবি সূত্র বলছে, কেবল জুন মাসেই বিএসএফ অন্তত ১৫ বার পুশইনের অপচেষ্টা চালিয়েছে এসব সীমান্তে। বিএসএফ-এর এই তৎপরতা ঠেকাতে রাজশাহী অঞ্চলের সবকটি সীমান্ত পয়েন্টে বিজিবির নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি দ্বিগুণ করা হয়েছে।
১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সব সময় সীমান্তে বাড়তি নজর রাখছি।’

মাটি ও মানুষ ডেস্ক 













