প্রথম ইনিংসে যখন ২৭৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ, তখন অনেকে ভেবেছিলেন, সিলেট থেকে শেষ হাসি নিয়ে ফিরবেন বাবর, রিজওয়ান, মাসুদরা। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। টাইগার বোলারদের পর লাক্কাতুরায় ব্যাট হাতে আধিপত্য বিস্তার করেছেন মুশফিক, লিটনরা। দ্বিতীয় ইনিংসে স্কোর বোর্ডে ৩৯০ রান তুলেছে বাংলাদেশ। ফলে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ৪৩৭ রান। প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হওয়ার পর পাহাড়সম লক্ষ্যের নিচে চাপা পড়ে কি না সফরকারীরা। এটা নিয়ে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।
১১০ রানে তিন উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। তবে গতকাল তৃতীয় দিনে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের ব্যাটে ভর করে বড় সংগ্রহের দিকে এগোয় বাংলাদেশ। যেখানে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকানো লিটন গতকাল তুলে নিয়েছে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটি। খেলেছেন ৬৯ রানের ইনিংস। লিটন ফেরার পরও মুশফিক খেলতে থাকেন চেনাছন্দে। তুলে নিয়েছেন নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি। তাতে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে এককভাবে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক এখন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল।’ ১৩ সেঞ্চুরি নিয়ে এই তালিকার দুই নম্বরে আছেন আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক।
গতকাল মুশফিকের সঙ্গে ৭৭ রানের পার্টনারশিপ করেন তাইজুল। অভিজ্ঞ মুশফিককে নিয়ে তাইজুল বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক। একজন সিনিয়র প্লেয়ারের সাথে যখন ড্রেসিংরুম শেয়ার করবেন, ত্রিজে তার সাথে যে থাকে তার ব্যাটিং সহজ হয়। আমাকেও অনেক ইনফরমেশন দিচ্ছিলেন। ব্যাটিং করবেন ৫০ শতাংশ, ৩০-৪০ শতাংশ কাজ হয়ে যায়। অভিজ্ঞ কারো সাথে ব্যাট করলে বা ড্রেসিংরুম শেয়ার করলে অনেক কিছু বুঝতে পারা সহজ হয়ে যায়।’
অন্যদিকে পাকিস্তানের পেস বোলিং কোচ উমর গুল পাহাড়সম লক্ষ্য নিয়ে বলেন, ‘৪৩৭ রান চেজ করতে গেলে ব্যাটারদের সাহসী হতে হবে। পিচ খুব একটা খারাপ না। আমরা বড় কিছুর আশা করতে পারি।’ উইকেট নিয়ে আলাদা করে উমর গুল বলেন, ‘সত্যি বলতে উইকেট প্রথম দিন বোলারদের সহায়তা দিয়েছে, ময়েশ্চার ছিল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে পারফেক্টলি ব্যাটিং উইকেট। ব্যাটারদের সহায়তা দিচ্ছে। এখনো পিচ ব্যাটিংযের জন্য ভালো।’
তবে প্রথম ইনিংসে মুখ থুবড়ে পড়া পাকিস্তান আজ রানের পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে সবমিলিয়ে তাসকিন-নাহিদদের দাপট দেখানোর দিন আজ।

স্পোর্টস রিপোর্টার 























