কাঁচামালের ঘাটতিতে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটি লো-ফিড বা সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেলের জাহাজ পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় এই সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, রিফাইনারিটি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিকল্প সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।
যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেলের কিছুটা স্বল্পতা থাকলেও পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। ফলে শোধনাগারটি সীমিত পরিসরে চললেও গ্রাহক পর্যায়ে তেল সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটার কারণ নেই এবং এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ারও কিছু নেই।
ইস্টার্ন রিফাইনারি মূলত সৌদি আরব থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মারবান ক্রুড আমদানি করে পরিশোধন করে থাকে। বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি দেশের মোট চাহিদার পাঁচ ভাগের এক ভাগ পূরণ করে। সাধারণত প্রতি মাসে এক থেকে দুটি কার্গো অপরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে এর উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা হয় এবং অবশিষ্ট বিশাল চাহিদা পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে শোধনাগারের উৎপাদন সক্ষমতা আংশিক কমিয়ে দিয়ে কৌশলগতভাবে মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার।

ডিজিটাল রিপোর্ট 
























