ময়মনসিংহ , সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দুদেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থার সম্পর্ক শক্তিশালী বলেছেন প্রণয় ভার্মা পহেলা বৈশাখ: ঢাবিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ডিএমপি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি নির্দেশনা নববর্ষের আবাহন : ঐতিহ্যের পথ বেয়ে আধুনিকতার উৎসবে ভিসার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির বাংলা নববর্ষ ঘিরে কোনো নাশকতার শঙ্কা নেই জানিয়েছেন র‌্যাব মহাপরিচালক জামিন পেলেন বাউলশিল্পী আবুল সরকার ​দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: ২০ এপ্রিল নিজ জন্মভূমি বগুড়া সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুদ্ধ নয়, কেবল ‘সতর্কবার্তা’? ইরানে সীমিত হামলার পরিকল্পনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের। বিকেলে নুসুক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের ডিএনএ ল্যাবরেটরি করা হবে বলেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

নববর্ষের আবাহন : ঐতিহ্যের পথ বেয়ে আধুনিকতার উৎসবে

আগামীকাল পহেলা বৈশাখ। ভোরের সূর্য ওঠার সাথে সাথেই শুরু হবে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের পথচলা। “মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা”— এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বাঙালি জাতি বরণ করে নেবে নতুন বছরকে। হাজার বছরের ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে বৈশাখ আজ কেবল একটি তারিখ নয়, বরং বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

​অতীতের স্মৃতি: হালখাতা ও গ্রামীণ মেলা :

​অতীতে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি। তখনো আজকালের মতো এতো চাকচিক্য ছিল না, কিন্তু ছিল প্রাণের টান।
​হালখাতা: বৈশাখের প্রধান আকর্ষণ ছিল ব্যবসায়ীদের ‘হালখাতা’। বকেয়া আদায়ের এই উৎসবে পাড়া-পড়শি ও গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করানো হতো। লাল রঙের নতুন খাতায় শুরু হতো নতুন হিসাব।
​পুণ্যাহ: জমিদারি প্রথা থাকাকালে এই দিনে প্রজারা খাজনা দিতে আসতেন এবং জমিদাররা ভোজের আয়োজন করতেন।
​গ্রামীণ মেলা: গ্রামে গ্রামে বসতো বিশাল মেলা। নাগরদোলা, মাটির পুতুল, মুড়ালি-বাতাসা আর লাঠিখেলায় মুখর থাকতো মেলা প্রাঙ্গণ।

​বর্তমানের উদযাপন: রাজপথ থেকে অন্দরমহল :

​সময়ের বিবর্তনে বৈশাখ এখন নাগরিক উৎসবে রূপ নিয়েছে। বর্তমান যুগে এর উদযাপন হয় বর্ণাঢ্য আয়োজনে:
​ছায়ানটের বর্ষবরণ: ভোরের আলো ফোটার আগেই রমনার বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীরা রাঙিয়ে তোলেন চারপাশ। রবীন্দ্রসংগীতের মূর্ছনায় স্বাগত জানানো হয় নতুন বছরকে।
​মঙ্গল শোভাযাত্রা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হওয়া এই শোভাযাত্রা এখন ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। বিশালকার সব মুখোশ, মাটির সরা আর মোটিফের মাধ্যমে অশুভ শক্তিকে দূরে ঠেলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
​খাদ্যাভ্যাস: পান্তা-ইলিশ আধুনিক শহরের বৈশাখী উদযাপনে এক অবিচ্ছেদ্য (যদিও সাম্প্রতিক) অংশে পরিণত হয়েছে। এছাড়া হরেক রকমের ভর্তা আর পিঠা-পুলি তো আছেই।
​পোশাকের বাহার: লাল-সাদার চিরাচরিত কম্বিনেশনে নতুন শাড়ি আর পাঞ্জাবি পরে আবালবৃদ্ধবনিতা রাজপথে নেমে আসেন।
​বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে বৈশাখের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে। প্রবাসীরাও বিদেশের মাটিতে আয়োজন করছেন মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ঘরে ঘরে এখন বৈশাখী সাজসজ্জা আর টিভি চ্যানেলগুলোতে চলে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
​পুরাতন বছরের সব জরাজীর্ণতাকে পেছনে ফেলে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ আগামীর প্রত্যাশায় আগামীকাল আবারও মিলিত হবে আপামর জনতা। শুভ নববর্ষ!

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুদেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থার সম্পর্ক শক্তিশালী বলেছেন প্রণয় ভার্মা

নববর্ষের আবাহন : ঐতিহ্যের পথ বেয়ে আধুনিকতার উৎসবে

আপডেট সময় ০১:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

আগামীকাল পহেলা বৈশাখ। ভোরের সূর্য ওঠার সাথে সাথেই শুরু হবে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের পথচলা। “মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা”— এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বাঙালি জাতি বরণ করে নেবে নতুন বছরকে। হাজার বছরের ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে বৈশাখ আজ কেবল একটি তারিখ নয়, বরং বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

​অতীতের স্মৃতি: হালখাতা ও গ্রামীণ মেলা :

​অতীতে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি। তখনো আজকালের মতো এতো চাকচিক্য ছিল না, কিন্তু ছিল প্রাণের টান।
​হালখাতা: বৈশাখের প্রধান আকর্ষণ ছিল ব্যবসায়ীদের ‘হালখাতা’। বকেয়া আদায়ের এই উৎসবে পাড়া-পড়শি ও গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করানো হতো। লাল রঙের নতুন খাতায় শুরু হতো নতুন হিসাব।
​পুণ্যাহ: জমিদারি প্রথা থাকাকালে এই দিনে প্রজারা খাজনা দিতে আসতেন এবং জমিদাররা ভোজের আয়োজন করতেন।
​গ্রামীণ মেলা: গ্রামে গ্রামে বসতো বিশাল মেলা। নাগরদোলা, মাটির পুতুল, মুড়ালি-বাতাসা আর লাঠিখেলায় মুখর থাকতো মেলা প্রাঙ্গণ।

​বর্তমানের উদযাপন: রাজপথ থেকে অন্দরমহল :

​সময়ের বিবর্তনে বৈশাখ এখন নাগরিক উৎসবে রূপ নিয়েছে। বর্তমান যুগে এর উদযাপন হয় বর্ণাঢ্য আয়োজনে:
​ছায়ানটের বর্ষবরণ: ভোরের আলো ফোটার আগেই রমনার বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীরা রাঙিয়ে তোলেন চারপাশ। রবীন্দ্রসংগীতের মূর্ছনায় স্বাগত জানানো হয় নতুন বছরকে।
​মঙ্গল শোভাযাত্রা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হওয়া এই শোভাযাত্রা এখন ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। বিশালকার সব মুখোশ, মাটির সরা আর মোটিফের মাধ্যমে অশুভ শক্তিকে দূরে ঠেলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
​খাদ্যাভ্যাস: পান্তা-ইলিশ আধুনিক শহরের বৈশাখী উদযাপনে এক অবিচ্ছেদ্য (যদিও সাম্প্রতিক) অংশে পরিণত হয়েছে। এছাড়া হরেক রকমের ভর্তা আর পিঠা-পুলি তো আছেই।
​পোশাকের বাহার: লাল-সাদার চিরাচরিত কম্বিনেশনে নতুন শাড়ি আর পাঞ্জাবি পরে আবালবৃদ্ধবনিতা রাজপথে নেমে আসেন।
​বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে বৈশাখের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে। প্রবাসীরাও বিদেশের মাটিতে আয়োজন করছেন মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ঘরে ঘরে এখন বৈশাখী সাজসজ্জা আর টিভি চ্যানেলগুলোতে চলে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
​পুরাতন বছরের সব জরাজীর্ণতাকে পেছনে ফেলে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ আগামীর প্রত্যাশায় আগামীকাল আবারও মিলিত হবে আপামর জনতা। শুভ নববর্ষ!