নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে, মেঘশিমুল পশ্চিমপাড়ার ফসলি জমিটা বহুদিন ধরে নীরবে সাক্ষ্য দিচ্ছিল এক নারীর সংগ্রামের। আট ভাইয়ের ভিড়ে তিনি ছিলেন একমাত্র বোন—ছুলেমা খাতুন। পৈতৃক জমির মাটিতে তার শ্রম, ঘাম, অধিকার, তার দীর্ঘদিনের দখল। কিন্তু সেই মাটিতেই এক সকালে রচিত হলো বিশ্বাসভাঙার ইতিহাস।
গত রবিবার (১১ অক্টোবর) সকালটা শুরু হয়েছিল অন্যসব দিনের মতোই। হঠাৎই জমিতে ঢুকে পড়ে কিছু পরিচিত মুখ—ভাই, ভাতিজা, রক্তের মানুষ। হাতে তাদের লোহার রড আর লাঠি চোখে জমি দখলের তৃষ্ণা।
প্রতিবাদ করতেই ভাষা হয়ে ওঠে অশ্রাব্য, তারপর হাত ওঠে নারীর শরীরে। কানের অলংকার ছিঁড়ে রক্ত ঝরানো ও লাঠির আগাতে আহত হয় একমাত্র বোন ছুলেমা। লোহার রডের আঘাতে আহত হয় পারুল ও তামান্না দুই নারী। এই ঘটনায় ৯৯৯ এ কল দিলে পুলিশের সহায়তায় স্বজনরা তাদের তিনজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে আসে।
ঘটনার পর ছুলেমা খাতুনের আরেক ভাই বাদি হয়ে পূর্বধলা থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান আছে।
এই ঘটনা শুধু জমি দখলের নয়, এটি প্রশ্ন তোলে—পৈতৃক সম্পত্তির লোভে রক্তের সম্পর্ক কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে? যখন ভাইয়ের হাতেই বোনের রক্ত ঝরে, তখন সেই জমি আর সম্পত্তি থাকে না—তা হয়ে ওঠে এক জীবন্ত অভিশাপ।

মোঃ নজরুল ইসলাম 




















