ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ভারতের টানা বিপর্যয়, ১৬টি স্যাটেলাইট মহাকাশে নিখোঁজ

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৪৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর (আইএসআরও) নির্ভরযোগ্য রকেট পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল বা পিএসএলভি এক বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়েছে। 

গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে পিএসএলভি-সি৬২ রকেটটি ১৬টি স্যাটেলাইট নিয়ে উড্ডয়ন করলেও মাঝপথে এর গতিপথে বিচ্যুতি ঘটে। ইসরোর চেয়ারম্যান ডক্টর ভি নারায়ণন জানিয়েছেন যে, রকেটের তৃতীয় স্তরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিচ্যুতি লক্ষ্য করা গেছে, যার ফলে মিশনটি প্রত্যাশিত পথে এগোতে পারেনি।

যদিও ইসরো এখনো এই অভিযানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ব্যর্থ’ ঘোষণা করেনি, তবে তৃতীয় স্তরের এই ধরনের বিচ্যুতি সাধারণত সম্পূর্ণ মিশন ব্যর্থতারই ইঙ্গিত দেয়। এই ঘটনার ফলে প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও-র নজরদারি স্যাটেলাইট ‘অন্বেষা’ এবং ইসরোর ‘ইওএস-এন১’সহ মোট ১৬টি স্যাটেলাইটের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তায়।

সোমবার সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে রকেটটি সফলভাবে উড্ডয়ন করেছিল এবং প্রথম ও দ্বিতীয় স্তর পর্যন্ত এর কার্যকারিতা স্বাভাবিক ছিল। তবে মহাকাশ যাত্রার কয়েক মিনিট পরেই তৃতীয় স্তরে এসে রকেটটি তার গতিপথ হারিয়ে ফেলে। এই পিএসএলভি-সি৬২ মিশনটি ছিল ইসরোর জন্য একটি ‘কামব্যাক’ বা ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই, কারণ ২০২৫ সালেও পিএসএলভি রকেটের একমাত্র অভিযানটি একইভাবে তৃতীয় স্তরেই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ব্যর্থ হয়েছিল।

গত বছরের সেই ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করা হলেও সেই তদন্ত রিপোর্ট কখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। পরপর দুই বছর একই স্তরে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির সক্ষমতা ও রকেটটির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এই সম্ভাব্য ব্যর্থতার প্রভাব কেবল ইসরোর ওপরই নয়, বরং ভারতীয় বেসরকারি মহাকাশ স্টার্টআপগুলোর ওপরেও ব্যাপকভাবে পড়বে। এই অভিযানে হায়দ্রাবাদভিত্তিক স্টার্টআপ ‘ধ্রুব স্পেস’-এর ৭টি স্যাটেলাইট ছিল। এ ছাড়া ব্রাজিল, নেপাল এবং যুক্তরাজ্যের মতো বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর স্যাটেলাইটও এই রকেটে পাঠানো হচ্ছিল।

পিএসএলভি রকেটের ইতিহাসে এ পর্যন্ত ৬৪টি অভিযানের মধ্যে এটি হতে যাচ্ছে পঞ্চম ব্যর্থতা। যদিও বিশ্বজুড়ে মহাকাশ বিজ্ঞানে এই সাফল্যের হার খুব একটা খারাপ নয়, কিন্তু বাণিজ্যিক মহাকাশ বাজারের প্রতিযোগী হিসেবে ভারতের জন্য এই ধারাবাহিক হোঁচট বড় ধরনের আর্থিক ও কৌশলগত ক্ষতি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে ইসরো সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করছে এবং ডক্টর নারায়ণন জানিয়েছেন যে খুব শীঘ্রই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। ভারতের আসন্ন বাণিজ্যিক প্রকল্পগুলো, যেমন হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড ও লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো-র কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে তৈরি প্রথম ইন্ডাস্ট্রি-মেড পিএসএলভি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনাও এই দুর্ঘটনার ফলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটির এই কারিগরি বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে না পারলে আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বাজারে ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারে অনেক সময় লেগে যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিকেলে সিইসির সঙ্গে বিএনপির বৈঠক

ভারতের টানা বিপর্যয়, ১৬টি স্যাটেলাইট মহাকাশে নিখোঁজ

আপডেট সময় ০৯:৪৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর (আইএসআরও) নির্ভরযোগ্য রকেট পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল বা পিএসএলভি এক বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়েছে। 

গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে পিএসএলভি-সি৬২ রকেটটি ১৬টি স্যাটেলাইট নিয়ে উড্ডয়ন করলেও মাঝপথে এর গতিপথে বিচ্যুতি ঘটে। ইসরোর চেয়ারম্যান ডক্টর ভি নারায়ণন জানিয়েছেন যে, রকেটের তৃতীয় স্তরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিচ্যুতি লক্ষ্য করা গেছে, যার ফলে মিশনটি প্রত্যাশিত পথে এগোতে পারেনি।

যদিও ইসরো এখনো এই অভিযানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ব্যর্থ’ ঘোষণা করেনি, তবে তৃতীয় স্তরের এই ধরনের বিচ্যুতি সাধারণত সম্পূর্ণ মিশন ব্যর্থতারই ইঙ্গিত দেয়। এই ঘটনার ফলে প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও-র নজরদারি স্যাটেলাইট ‘অন্বেষা’ এবং ইসরোর ‘ইওএস-এন১’সহ মোট ১৬টি স্যাটেলাইটের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তায়।

সোমবার সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে রকেটটি সফলভাবে উড্ডয়ন করেছিল এবং প্রথম ও দ্বিতীয় স্তর পর্যন্ত এর কার্যকারিতা স্বাভাবিক ছিল। তবে মহাকাশ যাত্রার কয়েক মিনিট পরেই তৃতীয় স্তরে এসে রকেটটি তার গতিপথ হারিয়ে ফেলে। এই পিএসএলভি-সি৬২ মিশনটি ছিল ইসরোর জন্য একটি ‘কামব্যাক’ বা ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই, কারণ ২০২৫ সালেও পিএসএলভি রকেটের একমাত্র অভিযানটি একইভাবে তৃতীয় স্তরেই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ব্যর্থ হয়েছিল।

গত বছরের সেই ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করা হলেও সেই তদন্ত রিপোর্ট কখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। পরপর দুই বছর একই স্তরে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির সক্ষমতা ও রকেটটির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এই সম্ভাব্য ব্যর্থতার প্রভাব কেবল ইসরোর ওপরই নয়, বরং ভারতীয় বেসরকারি মহাকাশ স্টার্টআপগুলোর ওপরেও ব্যাপকভাবে পড়বে। এই অভিযানে হায়দ্রাবাদভিত্তিক স্টার্টআপ ‘ধ্রুব স্পেস’-এর ৭টি স্যাটেলাইট ছিল। এ ছাড়া ব্রাজিল, নেপাল এবং যুক্তরাজ্যের মতো বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর স্যাটেলাইটও এই রকেটে পাঠানো হচ্ছিল।

পিএসএলভি রকেটের ইতিহাসে এ পর্যন্ত ৬৪টি অভিযানের মধ্যে এটি হতে যাচ্ছে পঞ্চম ব্যর্থতা। যদিও বিশ্বজুড়ে মহাকাশ বিজ্ঞানে এই সাফল্যের হার খুব একটা খারাপ নয়, কিন্তু বাণিজ্যিক মহাকাশ বাজারের প্রতিযোগী হিসেবে ভারতের জন্য এই ধারাবাহিক হোঁচট বড় ধরনের আর্থিক ও কৌশলগত ক্ষতি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে ইসরো সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করছে এবং ডক্টর নারায়ণন জানিয়েছেন যে খুব শীঘ্রই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। ভারতের আসন্ন বাণিজ্যিক প্রকল্পগুলো, যেমন হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড ও লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো-র কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে তৈরি প্রথম ইন্ডাস্ট্রি-মেড পিএসএলভি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনাও এই দুর্ঘটনার ফলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটির এই কারিগরি বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে না পারলে আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বাজারে ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারে অনেক সময় লেগে যেতে পারে।